ঢাকা ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬
শিরোনামঃ
মানুষ পরিবর্তন চায়, শান্তিতে থাকতে চায়: তারেক রহমান ৪৮তম বিসিএস থেকে ৩২৬৩ জনকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ৪৮তম বিসিএস থেকে ৩২৬৩ জনকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ৪৮তম বিসিএস থেকে ৩২৬৩ জনকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন আজ সরস্বতী পূজা: বিদ্যা দেবীর আরাধনায় মুখর সারাদেশ যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে : স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই : আসিফ নজরুল দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রুমা ব্যাটালিয়ন (৯ বিজিবি) কর্তৃক শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ সুন্দরগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই এর ঘটনায় মুল আসামি কে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন বড়লেখা - জুড়ী আসনে জনগণের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনায় জামায়াত প্রার্থী আমিনুল ইসলামের গণসংযোগ শুরু

অবহেলার দায় কার ? অর্ধশতাব্দী ধরে মৃত্যু-ফাঁদে গজালিয়া–আজিজ নগর সড়ক

#
news image

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী অতিক্রান্ত হইলেও বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলাধীন গজালিয়া–আজিজ নগর সংযোগ সড়কটি আজও উন্নয়নের মুখ দেখিল না। সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন থাকিয়া সত্ত্বেও এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘকাল ধরিয়া চরম অবহেলার শিকার হইয়া কার্যত জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হইয়াছে। প্রশ্ন উঠিতেছে—এই অবহেলার দায়িত্ব কে নিবে ?
লামা–সুয়ালক সড়ক হইতে সংযুক্ত গজালিয়া–আজিজ নগর সড়কটি গজালিয়া, আজিজ নগর ও ফাইতং এলাকার প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। অথচ বাস্তবচিত্র এমন যে, প্রতিবছর বর্ষা আসিলেই সড়কটি ভাঙনের কবলে পড়িয়া সরু, কর্দমাক্ত ও বিপজ্জনক পথে রূপ লইতেছে। বর্তমানে এই সড়ক দিয়া মোটরসাইকেল চলাচল তো দূরের কথা, অনেক স্থানে পায়ে হাঁটিয়া যাতায়াত করাও প্রায় অসম্ভব।
এই ভগ্নদশার প্রত্যক্ষ ফল ভোগ করিতেছে সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হইতে পারিতেছে না, গুরুতর রোগী সময়মতো চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছাইতে ব্যর্থ হইতেছে। গর্ভবতী নারী ও বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য এই সড়ক পরিণত হইয়াছে এক নীরব মৃত্যুফাঁদে। মানবিক বিপর্যয়ের এই চিত্র সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা বিস্ময়কর ও নিন্দনীয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগ কাগজে-কলমে সড়কটির অস্তিত্ব স্বীকার করিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর নজরদারি বা উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই। লোকমুখে প্রচলিত “কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নাই”—এই প্রবাদের বাস্তব প্রয়োগ যেন এই সড়ক।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হইল, সড়কটি মেরামত বা পুনর্নির্মাণ না করায় পাহাড়ি এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত বন্য হাতি ও হিংস্র জানোয়ারের আক্রমণের ঝুঁকি নিয়া চলাচল করিতেছে। রাষ্ট্র যেখানে নাগরিকের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করিবার কথা, সেখানে অর্ধ লক্ষ মানুষকে এমন ঝুঁকির মুখে ঠেলিয়া দেওয়া কি প্রশাসনিক ব্যর্থতার নগ্ন দৃষ্টান্ত নহে ?
এলাকাবাসী এই সড়ককে নিজেদের “প্রাণের দাবি” বলিয়া উল্লেখ করিয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অবিলম্বে জবাবদিহি, সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ও স্থায়ী সমাধানের জোর দাবি জানাইয়াছেন। উন্নয়নের নামে অবহেলা আর প্রতিশ্রুতির ফাঁকা বুলি নয়—তাঁহারা দৃশ্যমান কার্যক্রম চান।
সচেতন মহলের অভিমত, গজালিয়া–আজিজ নগর সড়কের এই করুণ অবস্থা কেবল একটি সড়কের ব্যর্থতার কাহিনি নহে; ইহা রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতা ও মানবিক মূল্যবোধের পরীক্ষাও বটে। এখন দেখিবার বিষয়—কর্তৃপক্ষ আদৌ এই আর্তনাদ শুনিবে কি না।

লামা ( বান্দরবান ) প্রতিনিধি :

১৮ জানুয়ারি, ২০২৬,  7:47 PM

news image

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী অতিক্রান্ত হইলেও বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলাধীন গজালিয়া–আজিজ নগর সংযোগ সড়কটি আজও উন্নয়নের মুখ দেখিল না। সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন থাকিয়া সত্ত্বেও এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘকাল ধরিয়া চরম অবহেলার শিকার হইয়া কার্যত জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হইয়াছে। প্রশ্ন উঠিতেছে—এই অবহেলার দায়িত্ব কে নিবে ?
লামা–সুয়ালক সড়ক হইতে সংযুক্ত গজালিয়া–আজিজ নগর সড়কটি গজালিয়া, আজিজ নগর ও ফাইতং এলাকার প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। অথচ বাস্তবচিত্র এমন যে, প্রতিবছর বর্ষা আসিলেই সড়কটি ভাঙনের কবলে পড়িয়া সরু, কর্দমাক্ত ও বিপজ্জনক পথে রূপ লইতেছে। বর্তমানে এই সড়ক দিয়া মোটরসাইকেল চলাচল তো দূরের কথা, অনেক স্থানে পায়ে হাঁটিয়া যাতায়াত করাও প্রায় অসম্ভব।
এই ভগ্নদশার প্রত্যক্ষ ফল ভোগ করিতেছে সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হইতে পারিতেছে না, গুরুতর রোগী সময়মতো চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছাইতে ব্যর্থ হইতেছে। গর্ভবতী নারী ও বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য এই সড়ক পরিণত হইয়াছে এক নীরব মৃত্যুফাঁদে। মানবিক বিপর্যয়ের এই চিত্র সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা বিস্ময়কর ও নিন্দনীয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগ কাগজে-কলমে সড়কটির অস্তিত্ব স্বীকার করিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর নজরদারি বা উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই। লোকমুখে প্রচলিত “কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নাই”—এই প্রবাদের বাস্তব প্রয়োগ যেন এই সড়ক।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হইল, সড়কটি মেরামত বা পুনর্নির্মাণ না করায় পাহাড়ি এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত বন্য হাতি ও হিংস্র জানোয়ারের আক্রমণের ঝুঁকি নিয়া চলাচল করিতেছে। রাষ্ট্র যেখানে নাগরিকের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করিবার কথা, সেখানে অর্ধ লক্ষ মানুষকে এমন ঝুঁকির মুখে ঠেলিয়া দেওয়া কি প্রশাসনিক ব্যর্থতার নগ্ন দৃষ্টান্ত নহে ?
এলাকাবাসী এই সড়ককে নিজেদের “প্রাণের দাবি” বলিয়া উল্লেখ করিয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অবিলম্বে জবাবদিহি, সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ও স্থায়ী সমাধানের জোর দাবি জানাইয়াছেন। উন্নয়নের নামে অবহেলা আর প্রতিশ্রুতির ফাঁকা বুলি নয়—তাঁহারা দৃশ্যমান কার্যক্রম চান।
সচেতন মহলের অভিমত, গজালিয়া–আজিজ নগর সড়কের এই করুণ অবস্থা কেবল একটি সড়কের ব্যর্থতার কাহিনি নহে; ইহা রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতা ও মানবিক মূল্যবোধের পরীক্ষাও বটে। এখন দেখিবার বিষয়—কর্তৃপক্ষ আদৌ এই আর্তনাদ শুনিবে কি না।