পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জমি দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানির বিরুদ্ধে
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
০৯ জানুয়ারি, ২০২৬, 9:21 PM
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জমি দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানির বিরুদ্ধে
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ দফাদার সেকেন্দার আলীর বাবার ক্রয়কৃত জমি দখলে নেওয়ার পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি লিমিটেডসহ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের মুরখাজোত গ্রামের মৃত সমের আলীর ছেলে সাপার উদ্দিন বাদী হয়ে গেল বছরের ২৪ ডিসেম্বর তিনজনকে বিবাদী করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে একটি আবেদন দায়ের করেন। বাদীর সঙ্গে পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি ঝামেলা করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে বিবাদীরা হলেন, ওই গ্রামের মৃত মশির উদ্দীনের ছেলে নবির উদ্দীন, আব্দুল হামিদ ও আব্দুল কাদের।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভদ্রেশ^র মৌজার জে.এল নং ২৬ এর এস.এ ৩৭৫ নং খতিয়ানের এস.এ ৮৭২, ৮৭৪, ৮৭৫ ও ৮৭৬ নং দাগে ৩ একর ৭ শতক জমির মধ্যে ৩০ শতক জমি ইউনিয়ন পরিষদ দফাদার সেকেন্দার আলীর বাবা সাপার উদ্দীন খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক ইসামদ্দিনের রেখে যাওয়া কন্যার ওয়ারিশদের কাছ থেকে বিগত ২০০৮ সালের মে মাসের সাত তারিখ ১৪৯৭ নং দলিলে মালিক প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল করেন। এদিকে আবেদনে অভিযুক্ত বিবাদীগণ ক্রয়কৃত দাগগুলো পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি লিমিটেড এর নিকট বিক্রয় করে দেন। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিবাদীগণ অন্যায়ভাবে বাদীর নিকট বিবাদ সৃষ্টি করার জন্য পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি লিমিটেড এর নিকট ওই দাগগুলো বিক্রয় করেছেন। এ কারণেই পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি ঝামেলা করার চেষ্টা করে আসছে।
বাদী সাপার উদ্দিনের ছেলে দফাদার সেকেন্দার আলী বলেন, এই জমি আমার বাবার ক্রয়কৃত এছাড়া পৈতৃক জমিও রয়েছে। গতকাল আমার নামে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে সম্পূর্ণ ভুয়া বানানো মিথ্যা। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) ওই ধরণের কোনো ঘটনায় ঘটেনি। তিনি বলেন, কোম্পানির মাধ্যমে কয়েকজন সাংবাদিক ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে আমার পোষাক পরিধান অবস্থায় বক্তব্য নিতে চাইলে আমি ঘটনাস্থালে গিয়ে বক্তব্য নেওয়ার কথা বলি। পরে বক্তব্য না নিয়ে কোম্পানির কাছ থেকে টাকা খেয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব মানহানিকর পোস্ট করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে মিথ্যা অপবাদটি চালাচ্ছে দু’জন (নাম সংরক্ষিত) আমার কাছে প্রকাশ্যে টাকা চাইছিল টাকা দিতে না পেরে বিভিন্ন রকম মিডিয়ায় সোশ্যালে চাকরি খাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার হুমকি করে দিতেছে।’
বিবাদী ও পঞ্চবর্ণ কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার আব্দুল হামিদ ও নবির উদ্দীন বলেন, ৮৭৬ নং দাগে অর্ধেকের মালিক তারা বাকি অর্ধেকের মালিক বাদী। তাদের বাবার বোনদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে বাদী জমি ক্রয় করেছেন বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তারা বলেন, বাদী সাপার উদ্দিন ৮৭৬ নং দাগের পরিবর্তে অন্যান্য দাগে জমি খাচ্ছেন এবং আরএস রেকর্ডও করেছেন। ৮৭৬ নং দাগে আমাদের নামে ৪৯শতক জমি পর্চা হওয়ার কথা থাকলেও ৪৪শতক জমি পর্চা হয়েছে। বাদীকে এখন এই দাগে আসতে হলে সংশোধন করে আসুক।
পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি লিমিটেড এর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা সেলিম বলেন, তাদের কোম্পানি কর্তৃক বালু ফেলিত জমিতে দফাদার সেকেন্দার লোকবল নিয়ে আমিন ছাড়াই নিজেই জমি মেপে বেড়া লাগিয়ে দেয়।
পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি লিমিটেড এর এমডি সাইদুর রহমান বলেন, ওরা (সেকেন্দারের বাবা) কিনছে ২০০৮ সালে আমরা কিনছি ২০২২ সালে, কেনার পর বালু ফেলছি এখন দাবি করে এই দাগে জমি পাবে। এই দাগে তাদের দাবিকৃত জমি পর্চাও হয়নি। তারা অন্যান্য দাগে খাচ্ছে সেখানে তাদের রেকর্ড হয়েছে। এ নিয়ে বিচার সালিশ হচ্ছে, পরিমাপও হয়েছে। এরই ফাকে তারা (সেকেন্দাররা) বেড়া লাগিয়ে দিয়েছে। তবে চার দাগে জমি কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন।
ইউপি সদস্য জমির উদ্দীন বলেন, সেকেন্দাররা জমি পাবে। তাদের ক্রয়কৃত দলিল আছে। তবে বিবাদপূর্ণ দাগে যেটুকু পর্চা ছাড়া পড়ছে সেটি পর্চা করতে হবে। গত বুধবার মারামারি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেদিন এধরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিনকে মুঠোফোনে কল করা হলে পড়ে কথা বলবেন জানান। এরপর বিকেলে আবারো মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে কল করা হলে কলটি রিসিভ হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত আছেন। সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখবেন জানিয়েছেন।
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
০৯ জানুয়ারি, ২০২৬, 9:21 PM
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ দফাদার সেকেন্দার আলীর বাবার ক্রয়কৃত জমি দখলে নেওয়ার পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি লিমিটেডসহ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের মুরখাজোত গ্রামের মৃত সমের আলীর ছেলে সাপার উদ্দিন বাদী হয়ে গেল বছরের ২৪ ডিসেম্বর তিনজনকে বিবাদী করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে একটি আবেদন দায়ের করেন। বাদীর সঙ্গে পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি ঝামেলা করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে বিবাদীরা হলেন, ওই গ্রামের মৃত মশির উদ্দীনের ছেলে নবির উদ্দীন, আব্দুল হামিদ ও আব্দুল কাদের।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভদ্রেশ^র মৌজার জে.এল নং ২৬ এর এস.এ ৩৭৫ নং খতিয়ানের এস.এ ৮৭২, ৮৭৪, ৮৭৫ ও ৮৭৬ নং দাগে ৩ একর ৭ শতক জমির মধ্যে ৩০ শতক জমি ইউনিয়ন পরিষদ দফাদার সেকেন্দার আলীর বাবা সাপার উদ্দীন খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক ইসামদ্দিনের রেখে যাওয়া কন্যার ওয়ারিশদের কাছ থেকে বিগত ২০০৮ সালের মে মাসের সাত তারিখ ১৪৯৭ নং দলিলে মালিক প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল করেন। এদিকে আবেদনে অভিযুক্ত বিবাদীগণ ক্রয়কৃত দাগগুলো পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি লিমিটেড এর নিকট বিক্রয় করে দেন। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিবাদীগণ অন্যায়ভাবে বাদীর নিকট বিবাদ সৃষ্টি করার জন্য পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি লিমিটেড এর নিকট ওই দাগগুলো বিক্রয় করেছেন। এ কারণেই পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি ঝামেলা করার চেষ্টা করে আসছে।
বাদী সাপার উদ্দিনের ছেলে দফাদার সেকেন্দার আলী বলেন, এই জমি আমার বাবার ক্রয়কৃত এছাড়া পৈতৃক জমিও রয়েছে। গতকাল আমার নামে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে সম্পূর্ণ ভুয়া বানানো মিথ্যা। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) ওই ধরণের কোনো ঘটনায় ঘটেনি। তিনি বলেন, কোম্পানির মাধ্যমে কয়েকজন সাংবাদিক ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে আমার পোষাক পরিধান অবস্থায় বক্তব্য নিতে চাইলে আমি ঘটনাস্থালে গিয়ে বক্তব্য নেওয়ার কথা বলি। পরে বক্তব্য না নিয়ে কোম্পানির কাছ থেকে টাকা খেয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব মানহানিকর পোস্ট করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে মিথ্যা অপবাদটি চালাচ্ছে দু’জন (নাম সংরক্ষিত) আমার কাছে প্রকাশ্যে টাকা চাইছিল টাকা দিতে না পেরে বিভিন্ন রকম মিডিয়ায় সোশ্যালে চাকরি খাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার হুমকি করে দিতেছে।’
বিবাদী ও পঞ্চবর্ণ কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার আব্দুল হামিদ ও নবির উদ্দীন বলেন, ৮৭৬ নং দাগে অর্ধেকের মালিক তারা বাকি অর্ধেকের মালিক বাদী। তাদের বাবার বোনদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে বাদী জমি ক্রয় করেছেন বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তারা বলেন, বাদী সাপার উদ্দিন ৮৭৬ নং দাগের পরিবর্তে অন্যান্য দাগে জমি খাচ্ছেন এবং আরএস রেকর্ডও করেছেন। ৮৭৬ নং দাগে আমাদের নামে ৪৯শতক জমি পর্চা হওয়ার কথা থাকলেও ৪৪শতক জমি পর্চা হয়েছে। বাদীকে এখন এই দাগে আসতে হলে সংশোধন করে আসুক।
পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি লিমিটেড এর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা সেলিম বলেন, তাদের কোম্পানি কর্তৃক বালু ফেলিত জমিতে দফাদার সেকেন্দার লোকবল নিয়ে আমিন ছাড়াই নিজেই জমি মেপে বেড়া লাগিয়ে দেয়।
পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানি লিমিটেড এর এমডি সাইদুর রহমান বলেন, ওরা (সেকেন্দারের বাবা) কিনছে ২০০৮ সালে আমরা কিনছি ২০২২ সালে, কেনার পর বালু ফেলছি এখন দাবি করে এই দাগে জমি পাবে। এই দাগে তাদের দাবিকৃত জমি পর্চাও হয়নি। তারা অন্যান্য দাগে খাচ্ছে সেখানে তাদের রেকর্ড হয়েছে। এ নিয়ে বিচার সালিশ হচ্ছে, পরিমাপও হয়েছে। এরই ফাকে তারা (সেকেন্দাররা) বেড়া লাগিয়ে দিয়েছে। তবে চার দাগে জমি কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন।
ইউপি সদস্য জমির উদ্দীন বলেন, সেকেন্দাররা জমি পাবে। তাদের ক্রয়কৃত দলিল আছে। তবে বিবাদপূর্ণ দাগে যেটুকু পর্চা ছাড়া পড়ছে সেটি পর্চা করতে হবে। গত বুধবার মারামারি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেদিন এধরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিনকে মুঠোফোনে কল করা হলে পড়ে কথা বলবেন জানান। এরপর বিকেলে আবারো মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে কল করা হলে কলটি রিসিভ হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত আছেন। সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখবেন জানিয়েছেন।