ঢাকা ১১ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

মুন্সিগঞ্জে বোতল গ্যাস নিয়ে হাহাকার: কোথাও দুই হাজার-কোথাও ‘চেহারা দেখে’, প্রশাসন নিরব

#
news image

মুন্সিগঞ্জ জেলাজুড়ে এলপিজি (সিলিন্ডার) গ্যাসের বাজারে চরম অরাজকতা ও কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পরিচিত মুখ না হলে মিলছে না গ্যাস, আর মিললেও গুণতে হচ্ছে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকা। এই সংকট ও বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সরকারি দরের বালাই নেই, সিলিন্ডারে ‘গলাকাটা’ দাম
সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রির নিয়ম থাকলেও মুন্সিগঞ্জের কোনো উপজেলাতেই তা কার্যকর নেই। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা চাহিদার অজুহাত দিয়ে ইচ্ছামতো দাম হাঁকাচ্ছেন। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, “বাজারে গ্যাস আছে, কিন্তু তা সাধারণ মানুষের নাগালে নেই।”
‘গ্যাস নেই’ বলে লুকোচুরি, বেশি টাকায় মিলছে সব
সরেজমিনে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে সিলিন্ডার সাজানো থাকলেও অপরিচিত কেউ গেলে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বলছেন, “গ্যাস নেই”। কিন্তু পরিচিত লোক গেলে বা বাড়তি টাকা দিলে মুহূর্তেই দোকানের পেছন থেকে বের হয়ে আসছে সিলিন্ডার। ব্যবসায়ীদের এই ‘লুকোচুরি’ খেলায় সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। অনেক ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ
বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে গ্যাসের এই আকাশচুম্বী দাম সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ এ বিষয়ে উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাজার মনিটরিং বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকায় ক্ষুব্ধ জেলাবাসী।
ভুক্তভোগী এক গ্রাহক আক্ষেপ করে বলেন, “সরকার রেট দেয় কাগজে-কলমে, আর আমরা কিনি দ্বিগুণ দামে। প্রশাসন যদি একবারও বাজারে আসত, তবে এই সাহস ব্যবসায়ীরা পেত না। পরিচিত লোক ছাড়া গ্যাস দেয় না—এটা কোন ধরণের মগের মুল্লুক?”
বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত
হঠাৎ করে সিলিন্ডার গ্যাসের এই সংকট ও অগ্নিমূল্যের কারণে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। যাদের ঘরে তিতাস গ্যাস নেই, তাদের একমাত্র ভরসা এই সিলিন্ডার। কিন্তু সেই সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আবুল কাশেম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :

০৮ জানুয়ারি, ২০২৬,  4:16 PM

news image

মুন্সিগঞ্জ জেলাজুড়ে এলপিজি (সিলিন্ডার) গ্যাসের বাজারে চরম অরাজকতা ও কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পরিচিত মুখ না হলে মিলছে না গ্যাস, আর মিললেও গুণতে হচ্ছে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকা। এই সংকট ও বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সরকারি দরের বালাই নেই, সিলিন্ডারে ‘গলাকাটা’ দাম
সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রির নিয়ম থাকলেও মুন্সিগঞ্জের কোনো উপজেলাতেই তা কার্যকর নেই। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা চাহিদার অজুহাত দিয়ে ইচ্ছামতো দাম হাঁকাচ্ছেন। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, “বাজারে গ্যাস আছে, কিন্তু তা সাধারণ মানুষের নাগালে নেই।”
‘গ্যাস নেই’ বলে লুকোচুরি, বেশি টাকায় মিলছে সব
সরেজমিনে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে সিলিন্ডার সাজানো থাকলেও অপরিচিত কেউ গেলে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বলছেন, “গ্যাস নেই”। কিন্তু পরিচিত লোক গেলে বা বাড়তি টাকা দিলে মুহূর্তেই দোকানের পেছন থেকে বের হয়ে আসছে সিলিন্ডার। ব্যবসায়ীদের এই ‘লুকোচুরি’ খেলায় সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। অনেক ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ
বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে গ্যাসের এই আকাশচুম্বী দাম সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ এ বিষয়ে উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাজার মনিটরিং বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকায় ক্ষুব্ধ জেলাবাসী।
ভুক্তভোগী এক গ্রাহক আক্ষেপ করে বলেন, “সরকার রেট দেয় কাগজে-কলমে, আর আমরা কিনি দ্বিগুণ দামে। প্রশাসন যদি একবারও বাজারে আসত, তবে এই সাহস ব্যবসায়ীরা পেত না। পরিচিত লোক ছাড়া গ্যাস দেয় না—এটা কোন ধরণের মগের মুল্লুক?”
বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত
হঠাৎ করে সিলিন্ডার গ্যাসের এই সংকট ও অগ্নিমূল্যের কারণে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। যাদের ঘরে তিতাস গ্যাস নেই, তাদের একমাত্র ভরসা এই সিলিন্ডার। কিন্তু সেই সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।