পাহাড়ি জনপদে জীবন-মরণ সংকট : লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ
লামা ( বান্দরবান ) প্রতিনিধি :
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬, 2:00 AM
পাহাড়ি জনপদে জীবন-মরণ সংকট : লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ
বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা কার্যত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত দুটি অ্যাম্বুলেন্সই বর্তমানে বিকল ও মেরামত-অযোগ্য অবস্থায় হাসপাতালের গ্যারেজে পরিত্যক্ত পড়ে থাকায় জরুরি রোগী পরিবহনে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগীদের সময়মতো উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না, যা এক প্রকার জীবন-মরণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি বহুদিন আগে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে যায়। অপর গাড়িটি একাধিকবার মেরামত করে সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে সেটিও সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। অ্যাম্বুলেন্স দুটির নিবন্ধন নম্বর যথাক্রমে— বান্দরবান ছ-৭১-০০০১ এবং ঢাকা মেট্রো ছ-৭১-১০৬১। এর মধ্যে একটি ১৯৯৭ সালে এবং অপরটি ২০০৯ সালে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয়।
বান্দরবানের সর্বাধিক জনবহুল উপজেলা হিসেবে পরিচিত লামার প্রায় তিন লাখ মানুষের জন্য ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিই একমাত্র সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। শুধু লামা নয়, পার্শ্ববর্তী আলীকদম ও চকরিয়া উপজেলার আংশিক এলাকার রোগীরাও চিকিৎসাসেবার জন্য এই হাসপাতালে নির্ভরশীল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে ২৫০ থেকে ৩৫০ জন, জরুরি বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ জন এবং অন্তর্বিভাগে ৯০ থেকে ১০০ জন রোগী এখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এত বিপুল সংখ্যক রোগীর তুলনায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজিব আহমেদ বলেন, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় হঠাৎ কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে দ্রুত যানবাহন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক সময় রোগীকে চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে করে রোগীর জীবন সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ে যাচ্ছে।
অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. লায়েজ আহম্মদ ভূঁইয়া জানান, তিনি কর্মস্থলে যোগদানের আগেই একটি অ্যাম্বুলেন্স পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। অন্য গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে বারবার মেরামত করে চালানো হলেও বর্তমানে সেটিও পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে উপজেলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি প্রেরণ করেছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম। তিনি বলেন, “পুরোনো দুটি অ্যাম্বুলেন্স একাধিকবার মেরামত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মেকানিকরা জানিয়েছেন, এগুলো এখন আর ব্যবহারযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স সেবা। দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা না হলে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাবে। তাই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
লামা ( বান্দরবান ) প্রতিনিধি :
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬, 2:00 AM
বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা কার্যত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত দুটি অ্যাম্বুলেন্সই বর্তমানে বিকল ও মেরামত-অযোগ্য অবস্থায় হাসপাতালের গ্যারেজে পরিত্যক্ত পড়ে থাকায় জরুরি রোগী পরিবহনে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগীদের সময়মতো উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না, যা এক প্রকার জীবন-মরণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি বহুদিন আগে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে যায়। অপর গাড়িটি একাধিকবার মেরামত করে সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে সেটিও সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। অ্যাম্বুলেন্স দুটির নিবন্ধন নম্বর যথাক্রমে— বান্দরবান ছ-৭১-০০০১ এবং ঢাকা মেট্রো ছ-৭১-১০৬১। এর মধ্যে একটি ১৯৯৭ সালে এবং অপরটি ২০০৯ সালে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয়।
বান্দরবানের সর্বাধিক জনবহুল উপজেলা হিসেবে পরিচিত লামার প্রায় তিন লাখ মানুষের জন্য ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিই একমাত্র সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। শুধু লামা নয়, পার্শ্ববর্তী আলীকদম ও চকরিয়া উপজেলার আংশিক এলাকার রোগীরাও চিকিৎসাসেবার জন্য এই হাসপাতালে নির্ভরশীল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে ২৫০ থেকে ৩৫০ জন, জরুরি বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ জন এবং অন্তর্বিভাগে ৯০ থেকে ১০০ জন রোগী এখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এত বিপুল সংখ্যক রোগীর তুলনায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজিব আহমেদ বলেন, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় হঠাৎ কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে দ্রুত যানবাহন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক সময় রোগীকে চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে করে রোগীর জীবন সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ে যাচ্ছে।
অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. লায়েজ আহম্মদ ভূঁইয়া জানান, তিনি কর্মস্থলে যোগদানের আগেই একটি অ্যাম্বুলেন্স পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। অন্য গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে বারবার মেরামত করে চালানো হলেও বর্তমানে সেটিও পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে উপজেলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি প্রেরণ করেছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম। তিনি বলেন, “পুরোনো দুটি অ্যাম্বুলেন্স একাধিকবার মেরামত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মেকানিকরা জানিয়েছেন, এগুলো এখন আর ব্যবহারযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স সেবা। দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা না হলে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাবে। তাই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।