কামারখন্দে ফসলি জমি দখল করে অনৈতিকভাবে পাকা রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, ভূমি মালিকদের
রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো চিফ :
০৫ জানুয়ারি, ২০২৬, 6:36 PM
কামারখন্দে ফসলি জমি দখল করে অনৈতিকভাবে পাকা রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, ভূমি মালিকদের
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ৪ নং রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের অধীন শ্যামপুর গ্রামে অনৈতিক ও নিয়মবহির্ভূতভাবে পাকা রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে ভূমি মালিকদের চাষাবাদকৃত ফসলি জমি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামারখন্দ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য অনৈতিকভাবে অর্থ বরাদ্দ গ্রহণ করেছেন। ভূমি মালিকদের তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে নকশাবহির্ভূতভাবে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা কামারখন্দ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বরাবর রাস্তা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে জমির ফসল ক্ষতি করে মাটি কাটার কাজ শুরু করলেও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ দৃষ্টিগোচর হয়নি!
আজ ৫ জানুযারী (সোমবার) সরিজমিনে গিয়ে পরিলক্ষিত হয়, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশে এলজিইডি ও ঠিকাদার চটজলদি প্রকল্প বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রকৃত ভূমি মালিকদের সাথে রাস্তা নির্মাণ ও ভূমি ব্যবহারের বিষয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি এবং ঠিকাদার ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা হুমকি দিয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় ভূমি মালিকদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করতেছে।
একাধিক অভিযোগকারী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাজিপুড়া জামে মসজিদ রোড থেকে শ্যামপুর মৌজার মধ্য দিয়ে সংযুক্ত ৬৪০ মিটার রাস্তা (আইডি নং: ১৮৮৪৪৪০৪৫) পাকাকরণের জন্য মাপজরিপ সম্পন্ন করে স্থানীয় কামারখন্দ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি)-এর সহায়তায় অনুমোদন করানো হয়েছে। অথচ সেখানে কোনো সরকারি রাস্তা নেই এবং সংশ্লিষ্ট সব জমিই ব্যক্তি মালিকানাধীন।
যেসব ভূমি মালিকের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জমির দাগ নম্বর শ্যামপুর মৌজার অধীনে যথাক্রমে ৭৪০, ৭৪১, ১০৭০, ১০৮২, ১০৬৫, ১০৬৪, ১০৬৬, ১০৮১ ও ১০৬৩। এছাড়াও এলাকার আরও কয়েকজন ভূমি মালিক এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি)-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়ী করেছেন। ভূমি মালিকরা বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক তাদের ফসলি জমির ক্ষতি থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইতিপূর্বে ঠিকাদারের মাটি কাটার এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিনে রাতের অন্ধকারে দূর্বৃত্তরা আগুন দেয়। আগুন দেওয়ার অভিযোগ ভূমি মালিকদের উপর চাপিয়ে দেয় ঠিকাদার। এমতাবস্থায় ভূমি মালিকরা পুলিশের আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে যাওয়ায় এই সুযোগে ঠিকাদার কাজ শুরু করে। ভূমি মালিকদের পরিবারের নারী সদস্যরা তাদের জমির উপর দিয়ে মাটি কাটার কাজে বাঁধা দিলে, নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানির হুমকি দেওয়া হয়। তাঁরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে এই অনৈতিক কাজ বন্ধের দাবি জানান।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে অভিযোগকারী ভূমি মালিকদের পক্ষে আব্দুল মালেক তালুকদার বলেন, “আমাদের ফসলি জমি বিনষ্ট করে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হলে আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ব। সরকারিভাবে আমরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাইনি। এছাড়া রাস্তাটি নিয়মবহির্ভূতভাবে করার অপচেষ্টা চলছে। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও এখনো কোনো সমাধান পাইনি।” তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন কে তাঁর অফিসে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে যান।
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপাশা হোসাইন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো চিফ :
০৫ জানুয়ারি, ২০২৬, 6:36 PM
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ৪ নং রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের অধীন শ্যামপুর গ্রামে অনৈতিক ও নিয়মবহির্ভূতভাবে পাকা রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে ভূমি মালিকদের চাষাবাদকৃত ফসলি জমি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামারখন্দ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য অনৈতিকভাবে অর্থ বরাদ্দ গ্রহণ করেছেন। ভূমি মালিকদের তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে নকশাবহির্ভূতভাবে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা কামারখন্দ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বরাবর রাস্তা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে জমির ফসল ক্ষতি করে মাটি কাটার কাজ শুরু করলেও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ দৃষ্টিগোচর হয়নি!
আজ ৫ জানুযারী (সোমবার) সরিজমিনে গিয়ে পরিলক্ষিত হয়, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশে এলজিইডি ও ঠিকাদার চটজলদি প্রকল্প বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রকৃত ভূমি মালিকদের সাথে রাস্তা নির্মাণ ও ভূমি ব্যবহারের বিষয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি এবং ঠিকাদার ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা হুমকি দিয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় ভূমি মালিকদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করতেছে।
একাধিক অভিযোগকারী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাজিপুড়া জামে মসজিদ রোড থেকে শ্যামপুর মৌজার মধ্য দিয়ে সংযুক্ত ৬৪০ মিটার রাস্তা (আইডি নং: ১৮৮৪৪৪০৪৫) পাকাকরণের জন্য মাপজরিপ সম্পন্ন করে স্থানীয় কামারখন্দ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি)-এর সহায়তায় অনুমোদন করানো হয়েছে। অথচ সেখানে কোনো সরকারি রাস্তা নেই এবং সংশ্লিষ্ট সব জমিই ব্যক্তি মালিকানাধীন।
যেসব ভূমি মালিকের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জমির দাগ নম্বর শ্যামপুর মৌজার অধীনে যথাক্রমে ৭৪০, ৭৪১, ১০৭০, ১০৮২, ১০৬৫, ১০৬৪, ১০৬৬, ১০৮১ ও ১০৬৩। এছাড়াও এলাকার আরও কয়েকজন ভূমি মালিক এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি)-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়ী করেছেন। ভূমি মালিকরা বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক তাদের ফসলি জমির ক্ষতি থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইতিপূর্বে ঠিকাদারের মাটি কাটার এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিনে রাতের অন্ধকারে দূর্বৃত্তরা আগুন দেয়। আগুন দেওয়ার অভিযোগ ভূমি মালিকদের উপর চাপিয়ে দেয় ঠিকাদার। এমতাবস্থায় ভূমি মালিকরা পুলিশের আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে যাওয়ায় এই সুযোগে ঠিকাদার কাজ শুরু করে। ভূমি মালিকদের পরিবারের নারী সদস্যরা তাদের জমির উপর দিয়ে মাটি কাটার কাজে বাঁধা দিলে, নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানির হুমকি দেওয়া হয়। তাঁরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে এই অনৈতিক কাজ বন্ধের দাবি জানান।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে অভিযোগকারী ভূমি মালিকদের পক্ষে আব্দুল মালেক তালুকদার বলেন, “আমাদের ফসলি জমি বিনষ্ট করে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হলে আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ব। সরকারিভাবে আমরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাইনি। এছাড়া রাস্তাটি নিয়মবহির্ভূতভাবে করার অপচেষ্টা চলছে। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও এখনো কোনো সমাধান পাইনি।” তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন কে তাঁর অফিসে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে যান।
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপাশা হোসাইন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।