ডিমলায় মধ্যরাতে শীতার্তদের পাশে উপজেলা প্রশাসন
নীলফামারী প্রতিনিধি :
০৫ জানুয়ারি, ২০২৬, 6:34 PM
ডিমলায় মধ্যরাতে শীতার্তদের পাশে উপজেলা প্রশাসন
টানা কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই দেশের উত্তরের সীমান্তঘেঁষা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়। হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। তাপমাত্রা নেমে এসেছে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কনকনে এই শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা।
এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। রবিবার গভীর রাতে নিজ হাতে কম্বল নিয়ে শীতার্তদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান।
তিনি উপজেলার খালিশা চাপানি ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একাধিক মাদ্রাসা, সড়কের পাশে অবস্থানরত মানুষ এবং দুস্থ পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। গভীর রাতে যখন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে ছিল, ঠিক তখনই কম্বল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশরাফুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
হঠাৎ এমন মানবিক উদ্যোগে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও আনন্দ প্রকাশ করে। খালিশা চাপানি এলাকার একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ বলেন, “রাতে খুব ঠান্ডা লাগছিল। আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ স্যার এসে কম্বল দিলেন। এখন আর ঠান্ডা লাগছে না।”
একই মাদ্রাসার আরেক ছাত্র রাশেদ জানায়, “আমাদের অনেকেরই মোটা কম্বল ছিল না। ইউএনও স্যার নিজে এসে কম্বল দিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।”
গয়াবাড়ি ইউনিয়নের মতির বাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার ছাত্র সাদমান বলেন, “এত রাতে প্রশাসনের লোকজন আসবে ভাবিনি। কম্বল পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এখন পড়াশোনাও ঠিকমতো করতে পারব।”
গভীর রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সামনে পেয়ে এবং শীতবস্ত্র পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শীতার্ত মানুষজন। গয়াবাড়ি ইউনিয়নের মতির বাজার এলাকার বাসিন্দা জরিনা খাতুন বলেন, “অনেক জায়গায় গিয়েছি, কেউ শীতবস্ত্র দেয়নি। কিন্তু রাতে ইউএনও স্যার নিজেই আমার ঘরে এসে কম্বল দিয়েছেন। এটা সত্যিই অকল্পনীয়।”
খালিশা চাপানি ইউনিয়নের বাসিন্দা জয়নাল, হযরত আলী, খাদিজা বেগম ও জুলহাস মিয়াসহ আরও কয়েকজন জানান, তীব্র শীতে তাঁরা চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছিলেন। হঠাৎ ইউএনও স্যারের কাছ থেকে মোটা কম্বল পেয়ে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে ডিমলা উপজেলায় প্রচণ্ড শীত পড়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে পাওয়া শীতবস্ত্রগুলো প্রকৃতভাবে যাদের প্রয়োজন, তাদের খুঁজে বের করে বিতরণ করা হচ্ছে। শীত যতদিন থাকবে, আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের মতে, গভীর রাতে উপজেলা প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ শীতার্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করেছে।
নীলফামারী প্রতিনিধি :
০৫ জানুয়ারি, ২০২৬, 6:34 PM
টানা কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই দেশের উত্তরের সীমান্তঘেঁষা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়। হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। তাপমাত্রা নেমে এসেছে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কনকনে এই শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা।
এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। রবিবার গভীর রাতে নিজ হাতে কম্বল নিয়ে শীতার্তদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান।
তিনি উপজেলার খালিশা চাপানি ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একাধিক মাদ্রাসা, সড়কের পাশে অবস্থানরত মানুষ এবং দুস্থ পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। গভীর রাতে যখন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে ছিল, ঠিক তখনই কম্বল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশরাফুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
হঠাৎ এমন মানবিক উদ্যোগে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও আনন্দ প্রকাশ করে। খালিশা চাপানি এলাকার একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ বলেন, “রাতে খুব ঠান্ডা লাগছিল। আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ স্যার এসে কম্বল দিলেন। এখন আর ঠান্ডা লাগছে না।”
একই মাদ্রাসার আরেক ছাত্র রাশেদ জানায়, “আমাদের অনেকেরই মোটা কম্বল ছিল না। ইউএনও স্যার নিজে এসে কম্বল দিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।”
গয়াবাড়ি ইউনিয়নের মতির বাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার ছাত্র সাদমান বলেন, “এত রাতে প্রশাসনের লোকজন আসবে ভাবিনি। কম্বল পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এখন পড়াশোনাও ঠিকমতো করতে পারব।”
গভীর রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সামনে পেয়ে এবং শীতবস্ত্র পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শীতার্ত মানুষজন। গয়াবাড়ি ইউনিয়নের মতির বাজার এলাকার বাসিন্দা জরিনা খাতুন বলেন, “অনেক জায়গায় গিয়েছি, কেউ শীতবস্ত্র দেয়নি। কিন্তু রাতে ইউএনও স্যার নিজেই আমার ঘরে এসে কম্বল দিয়েছেন। এটা সত্যিই অকল্পনীয়।”
খালিশা চাপানি ইউনিয়নের বাসিন্দা জয়নাল, হযরত আলী, খাদিজা বেগম ও জুলহাস মিয়াসহ আরও কয়েকজন জানান, তীব্র শীতে তাঁরা চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছিলেন। হঠাৎ ইউএনও স্যারের কাছ থেকে মোটা কম্বল পেয়ে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে ডিমলা উপজেলায় প্রচণ্ড শীত পড়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে পাওয়া শীতবস্ত্রগুলো প্রকৃতভাবে যাদের প্রয়োজন, তাদের খুঁজে বের করে বিতরণ করা হচ্ছে। শীত যতদিন থাকবে, আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের মতে, গভীর রাতে উপজেলা প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ শীতার্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করেছে।