ঢাকা ২৫ মে, ২০২৬
শিরোনামঃ
বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী একটা সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিতে চাই : সিইসি ঈদুল আযহায় বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাত শিক্ষার্থীদের স্বদেশ প্রেম চর্চার পাশাপাশি ইতিহাস জানা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী বিমান বাহিনী একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ আলবানিজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র ১০০ কোটি ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়

চুক্তি জটিলতায় যমুনা সার কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ও বেতন স্থগিত করায় কর্মসূচি

#
news image

যমুনা সার কারখানার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ‘কাজ নাই, মজুরি নাই’ ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ নিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও জেএফসিএল কর্তৃপক্ষের মধ্যে চুক্তি জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় অন্তত ১৯০ জন শ্রমিকের ২০২৫ ইং সালের নভেম্বর মাসের মজুরি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে সার কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সার কারখানার সঙ্গে মেসার্স আল-মুমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেডের চুক্তি ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কারখানা চালু থাকা অবস্থায় ২৩৯ জন এবং বন্ধকালীন সময়ে ১৬৫ জন শ্রমিক সরবরাহের কথা ছিল। সে শর্ত মোতাবেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি প্রথম পর্যায়ে ১০ জন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৪ জনসহ মোট ২৪ জন শ্রমিক নিয়োগ দেয়। অপরদিকে কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে ২১৫ জন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছেন—এমন অভিযোগ করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আল -মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিস লিমিটেড এর ব্যবস্থানা পরিচালক মমিনুল ইসলাম । এর ফলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়।
 
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আরও জানায়, ২০২৫ ইং সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়েছে। তবে চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিক নিয়োগ করতে না পারার বিষয়টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ যমুনা সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে লিখিতভাবে অবহিত করে তাদের শর্ত পূরণের অনুরোধ জানালেও কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।
 
জেএফসিএল এর চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৪ জন শ্রমিক এবং জেএফসিএল-এর কাজের আদেশপ্রাপ্ত আরও ২৫ জনসহ মোট ৪৯ জন শ্রমিকের ২০২৫ ইং সালের নভেম্বর মাসের মজুরি পরিশোধ করা হয়। কিন্তু আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেড এর সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে জেএফসি এল কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেওয়া ১৯০ জন শ্রমিক তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত নন—এমন দাবি তুলে তাদের মজুরি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ।এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমিনুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৮ ও ৩০ ডিসেম্বর যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (উপ-মহাপরিদর্শক অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগপত্রে তিনি চুক্তি অনুযায়ী ১৯০ জন শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে তাদের নভেম্বর মাসের মজুরি পরিশোধ ও কর্মী সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ প্রদানের দাবি জানান। 
 
গেল বছরের ২০২৫ ইং নভেম্বর মাসের বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা তাদের কাজ বন্ধ রেখে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে তারা যমুনা সার কারখানার প্রশাসনিক ভবন ও জেএফসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে তাদের দাবি উপস্থাপন করেন। পরে জেএফসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেন।
এদিকে জেএফসিএল-এ নিয়োজিত দৈনিক ভিত্তিক ২৩৯ জন শ্রমিক-কর্মচারীর নভেম্বর মাসের মজুরি পরিশোধের জন্য উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত একটি পত্র মেসার্স আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেড কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
 
উল্লেখ্য, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ‘কাজ নাই, মজুরি নাই’ ভিত্তিতে যমুনা সার কারখানায় শ্রমিক সরবরাহের দায়িত্ব পায়। এ পরিস্থিতিকে ঘিরে একটি বিশেষ মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
 
সচেতন নাগরিকরা যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার চুক্তি-সংক্রান্ত অন্তর্দ্বন্দ্ব দ্রুত নিরসন করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং কারখানায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে যমুনা সার কারখানার মহা ব্যবস্থাপক মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আল মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেড এর আনীত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। এবং বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দেয়া তালিকা মোতাবেক কাজ নেই মজুরি নেই ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি :

০৫ জানুয়ারি, ২০২৬,  6:26 PM

news image

যমুনা সার কারখানার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ‘কাজ নাই, মজুরি নাই’ ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ নিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও জেএফসিএল কর্তৃপক্ষের মধ্যে চুক্তি জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় অন্তত ১৯০ জন শ্রমিকের ২০২৫ ইং সালের নভেম্বর মাসের মজুরি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে সার কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সার কারখানার সঙ্গে মেসার্স আল-মুমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেডের চুক্তি ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কারখানা চালু থাকা অবস্থায় ২৩৯ জন এবং বন্ধকালীন সময়ে ১৬৫ জন শ্রমিক সরবরাহের কথা ছিল। সে শর্ত মোতাবেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি প্রথম পর্যায়ে ১০ জন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৪ জনসহ মোট ২৪ জন শ্রমিক নিয়োগ দেয়। অপরদিকে কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে ২১৫ জন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছেন—এমন অভিযোগ করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আল -মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিস লিমিটেড এর ব্যবস্থানা পরিচালক মমিনুল ইসলাম । এর ফলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়।
 
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আরও জানায়, ২০২৫ ইং সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়েছে। তবে চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিক নিয়োগ করতে না পারার বিষয়টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ যমুনা সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে লিখিতভাবে অবহিত করে তাদের শর্ত পূরণের অনুরোধ জানালেও কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।
 
জেএফসিএল এর চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৪ জন শ্রমিক এবং জেএফসিএল-এর কাজের আদেশপ্রাপ্ত আরও ২৫ জনসহ মোট ৪৯ জন শ্রমিকের ২০২৫ ইং সালের নভেম্বর মাসের মজুরি পরিশোধ করা হয়। কিন্তু আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেড এর সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে জেএফসি এল কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেওয়া ১৯০ জন শ্রমিক তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত নন—এমন দাবি তুলে তাদের মজুরি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ।এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমিনুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৮ ও ৩০ ডিসেম্বর যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (উপ-মহাপরিদর্শক অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগপত্রে তিনি চুক্তি অনুযায়ী ১৯০ জন শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে তাদের নভেম্বর মাসের মজুরি পরিশোধ ও কর্মী সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ প্রদানের দাবি জানান। 
 
গেল বছরের ২০২৫ ইং নভেম্বর মাসের বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা তাদের কাজ বন্ধ রেখে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে তারা যমুনা সার কারখানার প্রশাসনিক ভবন ও জেএফসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে তাদের দাবি উপস্থাপন করেন। পরে জেএফসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেন।
এদিকে জেএফসিএল-এ নিয়োজিত দৈনিক ভিত্তিক ২৩৯ জন শ্রমিক-কর্মচারীর নভেম্বর মাসের মজুরি পরিশোধের জন্য উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত একটি পত্র মেসার্স আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেড কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
 
উল্লেখ্য, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ‘কাজ নাই, মজুরি নাই’ ভিত্তিতে যমুনা সার কারখানায় শ্রমিক সরবরাহের দায়িত্ব পায়। এ পরিস্থিতিকে ঘিরে একটি বিশেষ মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
 
সচেতন নাগরিকরা যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার চুক্তি-সংক্রান্ত অন্তর্দ্বন্দ্ব দ্রুত নিরসন করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং কারখানায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে যমুনা সার কারখানার মহা ব্যবস্থাপক মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আল মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেড এর আনীত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। এবং বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দেয়া তালিকা মোতাবেক কাজ নেই মজুরি নেই ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।