প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা, পিঠা খাওয়ায় মজেছে পিঠাপ্রেমীরা
রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, 4:21 PM
প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা, পিঠা খাওয়ায় মজেছে পিঠাপ্রেমীরা
শেষে শীত কড়া নাড়ছে নেত্রকোনা জুড়ে প্রকৃতি জুড়ে। শীতের শুরুতেই সবার মন কাড়ছে হরেক রকম শীতের পিঠার স্বাদ। পিঠা আর শীতের চিরায়ত মেলবন্ধনের কারণেই হালকা শীতেই জমে উঠেছে হরেক রকম পিঠার বেচাকেনা।
অগ্রহায়ণের শেষভাগে ভোর ও সন্ধ্যায় চারিদিকে ঘন কুয়াশার মধ্যে দিয়ে শীতের আবির্ভাব দেখা দিয়েছে নেত্রকোনার জনপদে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, রেলস্টেশনের প্লাটফর্ম কিংবা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী চুলার পাশে ওড়ছে গরম গরম পিঠার ধোঁয়া। তার চারপাশ ঘিরে পিঠার রসনাবিলাসীদের ভিড়।
সরেজমিনে জেলাসদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, গোধুলী বেলায় হালকা কুয়াশা নেমে আসতে না আসতেই জেলা ও উপজেলা শহরসহ গ্রামাঞ্চলের ছোট-বড় বাজার গুলোতে ভাঁপা ও চিতই পিঠা বানানোর আয়োজন শুরু করে দেন মৌসুমি পিঠা বিক্রেতারা। পিঠা প্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এসব দোকান। শীতের মৌসুমে মুখে জল আনা ভাপা ও চিতই পিঠার দোকানে ভিড় করছে শিশু-কিশোর, বৃদ্ধসহ প্রায় সকল বয়সী মানুষ। অস্থায়ী এসব পিঠার দোকানগুলোতে দাঁড়িয়ে বা বসে লাইন দিয়ে পিঠা খাচ্ছেন পিঠা ভক্তরা। কেউ কেউ আবার পিঠা খেতে খেতে মজার গল্পে মেতে উঠছেন। খাওয়ার পাশাপাশি অনেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাসা-বাড়িতেও। মূলত সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি হলেও বিশেষ করে সন্ধ্যায় এই পিঠার চাহিদা বেশি থাকে বলেও জানান বিক্রেতারা।
পৌর শহরের রেলক্রসিং এলাকার পিঠা বিক্রেতা মরিয়ম বেগম বৃদ্ধ মা, পঙ্গু স্বামী ও ৩ সন্তান নিয়ে জীবনযুদ্ধে একাই সংসারের হাল ধরেছেন। শুরুর দিকে ক্রেতা কম থাকলেও এখন প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে ক্রেতাদের ভিড়। এতে আয় রোজগারও ভালো হচ্ছে।
তিনি জানান, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী চিতই পিঠার সাথে ধনেপাতা ও শুটকি ভর্তা দেওয়া হয়। এছাড়া নারকেল ও গুড় দিয়ে ভাঁপা পিঠাও বানিয়ে দেই। গরম গরম পিঠা পেয়ে ক্রেতারাও দারুন খুশি। প্রতিটি বড় ভাঁপা পিঠা ২০ টাকা ও প্রতিটি চিতই পিঠা ১০ টাকা করে বিক্রি করছি। ভাঁপা ও চিতই পিঠা মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০-৩৫০ পিস পিঠা বিক্রি হয়। সব খরচ বাদে প্রতিদিন গড়ে ১২০০-১৫০০ টাকা লাভ হয়। এতেই চলে আমার ছোট্ট সংসার।
কথা হয় বারহট্টা উপজেলার পিঠা বিক্রেতা সালমা আক্তার, মোহনগঞ্জ এলাকার মজিবুর রহমান, কলমাকান্দা এলাকার সুজন মন্ডল, মদন এলাকার জামাল মিয়াসহ কয়েকটি উপজেলার পিঠা বিক্রেতাদের সাথে তারা জানান, বছরের এই সময়ে শীতের পিঠা বেশি বিক্রি হয়। বর্তমানে আমরা চিতই ও ভাঁপা পিঠা তৈরি করছি। এই ব্যবসায় আগে ভালো লাভ পাওয়া গেলেও এখন সবকিছুর দাম অতিরিক্ত হওয়ায় লাভ তেমন নেই। তবে যা উপার্জন হয়, তাও একেবারে কম না। তারা চিতই পিঠার জন্য নেন প্রতি পিচ ১০ টাকা। আর ভাপা পিঠা প্রতি পিচ ২০ টাকা। চিতই পিঠার স্বাদ বাড়াতে সঙ্গে শুঁটকি, মরিচ, সরিষা ভর্তা দেওয়া হয়। প্রতিদিন তারা দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করেন। এতে লাভ হয় ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা।
পৌর শহরের বড় স্টেশন এলাকায় পিঠা নিতে আসা উকিলপাড়া এলাকার শিপন, জাকন মিয়া বারহাট্টা গোপালপুর গরুহাট্টা এলাকার সুমন, অসীতের সাথে কথা বললে তারা বলেন, একসময় শীতের দিনে বাড়িতে মা-চাচীরা হরেক রকমের পিঠা বানিয়ে খাওয়াতেন। এখন আর তেমন সময় কিংবা সুযোগও নাই। তাই, সুযোগ পেলেই নিজেও খাই ও পরিবারের জন্যেও বাইরে পিঠার দোকান থেকে চিতই পিঠা ও ভাঁপা পিঠা কিনে নিয়ে যাই।
চিতই পিঠা খেতে আসা জেলা সদরের বড় স্টেশনের কুলি সর্দার রহিস উদ্দিন বলেন, শীতে চুলার পাশে বসে পিঠা খাওয়ার যে ছবি আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে, এখন তা দেখা পাওয়া সম্ভব নয়। রেলস্টেশনে ও রাস্তার মোড়ে পিঠা বিক্রি হওয়ায় পিঠা খাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
মোহনগঞ্জ এলাকার আমেনা খাতুন নামের একজন পিঠাপ্রেমী জানান, আমরা প্রায়ই ব্রিজের মোড় থেকে পিঠা খাই। চাল ভেঙে আটা করে পিঠা বানানোর সময় সুযোগ হয় না। ঝামেলা ছাড়া স্বল্প দামে হাতের নাগালে এখন পিঠা পাই।
সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল বলেন, ভাপা পিঠা আমাদের দেশের গ্রামীণ বাংলার দেশীয় সংস্কৃতি লালন করছে। অন্য দিকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। অল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে ভালো লাভ হওয়ায় এখন নারী-পুরুষ নেমেছেন এ পিঠা ব্যবসায়।
রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, 4:21 PM
শেষে শীত কড়া নাড়ছে নেত্রকোনা জুড়ে প্রকৃতি জুড়ে। শীতের শুরুতেই সবার মন কাড়ছে হরেক রকম শীতের পিঠার স্বাদ। পিঠা আর শীতের চিরায়ত মেলবন্ধনের কারণেই হালকা শীতেই জমে উঠেছে হরেক রকম পিঠার বেচাকেনা।
অগ্রহায়ণের শেষভাগে ভোর ও সন্ধ্যায় চারিদিকে ঘন কুয়াশার মধ্যে দিয়ে শীতের আবির্ভাব দেখা দিয়েছে নেত্রকোনার জনপদে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, রেলস্টেশনের প্লাটফর্ম কিংবা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী চুলার পাশে ওড়ছে গরম গরম পিঠার ধোঁয়া। তার চারপাশ ঘিরে পিঠার রসনাবিলাসীদের ভিড়।
সরেজমিনে জেলাসদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, গোধুলী বেলায় হালকা কুয়াশা নেমে আসতে না আসতেই জেলা ও উপজেলা শহরসহ গ্রামাঞ্চলের ছোট-বড় বাজার গুলোতে ভাঁপা ও চিতই পিঠা বানানোর আয়োজন শুরু করে দেন মৌসুমি পিঠা বিক্রেতারা। পিঠা প্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এসব দোকান। শীতের মৌসুমে মুখে জল আনা ভাপা ও চিতই পিঠার দোকানে ভিড় করছে শিশু-কিশোর, বৃদ্ধসহ প্রায় সকল বয়সী মানুষ। অস্থায়ী এসব পিঠার দোকানগুলোতে দাঁড়িয়ে বা বসে লাইন দিয়ে পিঠা খাচ্ছেন পিঠা ভক্তরা। কেউ কেউ আবার পিঠা খেতে খেতে মজার গল্পে মেতে উঠছেন। খাওয়ার পাশাপাশি অনেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাসা-বাড়িতেও। মূলত সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি হলেও বিশেষ করে সন্ধ্যায় এই পিঠার চাহিদা বেশি থাকে বলেও জানান বিক্রেতারা।
পৌর শহরের রেলক্রসিং এলাকার পিঠা বিক্রেতা মরিয়ম বেগম বৃদ্ধ মা, পঙ্গু স্বামী ও ৩ সন্তান নিয়ে জীবনযুদ্ধে একাই সংসারের হাল ধরেছেন। শুরুর দিকে ক্রেতা কম থাকলেও এখন প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে ক্রেতাদের ভিড়। এতে আয় রোজগারও ভালো হচ্ছে।
তিনি জানান, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী চিতই পিঠার সাথে ধনেপাতা ও শুটকি ভর্তা দেওয়া হয়। এছাড়া নারকেল ও গুড় দিয়ে ভাঁপা পিঠাও বানিয়ে দেই। গরম গরম পিঠা পেয়ে ক্রেতারাও দারুন খুশি। প্রতিটি বড় ভাঁপা পিঠা ২০ টাকা ও প্রতিটি চিতই পিঠা ১০ টাকা করে বিক্রি করছি। ভাঁপা ও চিতই পিঠা মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০-৩৫০ পিস পিঠা বিক্রি হয়। সব খরচ বাদে প্রতিদিন গড়ে ১২০০-১৫০০ টাকা লাভ হয়। এতেই চলে আমার ছোট্ট সংসার।
কথা হয় বারহট্টা উপজেলার পিঠা বিক্রেতা সালমা আক্তার, মোহনগঞ্জ এলাকার মজিবুর রহমান, কলমাকান্দা এলাকার সুজন মন্ডল, মদন এলাকার জামাল মিয়াসহ কয়েকটি উপজেলার পিঠা বিক্রেতাদের সাথে তারা জানান, বছরের এই সময়ে শীতের পিঠা বেশি বিক্রি হয়। বর্তমানে আমরা চিতই ও ভাঁপা পিঠা তৈরি করছি। এই ব্যবসায় আগে ভালো লাভ পাওয়া গেলেও এখন সবকিছুর দাম অতিরিক্ত হওয়ায় লাভ তেমন নেই। তবে যা উপার্জন হয়, তাও একেবারে কম না। তারা চিতই পিঠার জন্য নেন প্রতি পিচ ১০ টাকা। আর ভাপা পিঠা প্রতি পিচ ২০ টাকা। চিতই পিঠার স্বাদ বাড়াতে সঙ্গে শুঁটকি, মরিচ, সরিষা ভর্তা দেওয়া হয়। প্রতিদিন তারা দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করেন। এতে লাভ হয় ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা।
পৌর শহরের বড় স্টেশন এলাকায় পিঠা নিতে আসা উকিলপাড়া এলাকার শিপন, জাকন মিয়া বারহাট্টা গোপালপুর গরুহাট্টা এলাকার সুমন, অসীতের সাথে কথা বললে তারা বলেন, একসময় শীতের দিনে বাড়িতে মা-চাচীরা হরেক রকমের পিঠা বানিয়ে খাওয়াতেন। এখন আর তেমন সময় কিংবা সুযোগও নাই। তাই, সুযোগ পেলেই নিজেও খাই ও পরিবারের জন্যেও বাইরে পিঠার দোকান থেকে চিতই পিঠা ও ভাঁপা পিঠা কিনে নিয়ে যাই।
চিতই পিঠা খেতে আসা জেলা সদরের বড় স্টেশনের কুলি সর্দার রহিস উদ্দিন বলেন, শীতে চুলার পাশে বসে পিঠা খাওয়ার যে ছবি আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে, এখন তা দেখা পাওয়া সম্ভব নয়। রেলস্টেশনে ও রাস্তার মোড়ে পিঠা বিক্রি হওয়ায় পিঠা খাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
মোহনগঞ্জ এলাকার আমেনা খাতুন নামের একজন পিঠাপ্রেমী জানান, আমরা প্রায়ই ব্রিজের মোড় থেকে পিঠা খাই। চাল ভেঙে আটা করে পিঠা বানানোর সময় সুযোগ হয় না। ঝামেলা ছাড়া স্বল্প দামে হাতের নাগালে এখন পিঠা পাই।
সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল বলেন, ভাপা পিঠা আমাদের দেশের গ্রামীণ বাংলার দেশীয় সংস্কৃতি লালন করছে। অন্য দিকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। অল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে ভালো লাভ হওয়ায় এখন নারী-পুরুষ নেমেছেন এ পিঠা ব্যবসায়।