ঢাকা ২৫ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল উৎসবের সমাপনী: স্পেনের সামনে আর্জেন্টিনা, প্রস্তুত নিউ ইয়র্ক ইরানি হামলায় জ্বলছে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্র ব্যবসায় আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বিসিসিসিআইয়ের সেমিনার: গুরুত্ব পেল এআই ও ব্লকচেইন চট্টগ্রামে বন্যায় ১৫ উপজেলা লণ্ডভণ্ড: ৭ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি গাজীপুরে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শতভাগ ফিট ইয়ামাল, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে স্বস্তিতে স্পেন দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার পার, ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু শাল্লায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা তাফাজ্জুল গ্রেপ্তার কনেবাহী গাড়ি খাদে ,উৎসবের রাতেই বিষাদের ছায়া, নিহত ২ চরভদ্রাসনে হিউম্যান অ্যাপেল অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে ৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

গণমাধ্যম নীতিমালা সংশোধনের দাবি সাংবাদিকদের

#
news image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রণীত গণমাধ্যম নীতিমালায় বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে উল্লেখ করে তা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)। 

আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিজেসি ও আরএফইডির প্রতিনিধিরা তাদের যৌথ সুপারিশমালা জমা দেন। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিজেসি চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক রাজা সাংবাদিকদের জানান, ‘নির্বাচন কমিশন যে গণমাধ্যম আচরণবিধি তৈরি করেছে, তাতে সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রে কিছু অপ্রয়োজনীয় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা বিজেসি ও আরএফইডি যৌথভাবে একাধিক সেমিনার আয়োজন করেছি, যেখানে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, অংশীজন ও সংবাদকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুপারিশমালা তৈরি করেছি। আজ সেটি কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছি।’

বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছি যে, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিত করার যে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, তা সাংবাদিকদের জন্য অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা। যদি সাংবাদিকদের বৈধ আইডি কার্ড ইস্যু করা থাকে, তাহলে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই।’

সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট থাকার যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটির ব্যাপারেও আপত্তি জানানো হয়েছে উল্লেখ করে রেজওয়ানুল হক রাজা জানান, ‘কমিশনের কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন, এটি কোনো কঠোর সময়সীমা নয়, বরং কেন্দ্রের জায়গার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় সাধারণ নির্দেশনা মাত্র। সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে এটি নয়।’

বিজেসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা বুঝতে পেরেছি, কমিশন আন্তরিকভাবে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করতে চায়। এমনকি তারা নিজেরাও মনে করেন, সিসি ক্যামেরা না থাকলেও সাংবাদিকদের ক্যামেরা উপস্থিত থাকলে ভোটের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হয়।’

বৈঠকে সরাসরি সম্প্রচার নিয়েও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি, সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল থাকা উচিত, যেন লাইভ সম্প্রচারে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে। তবে কোনো অনিয়ম বা কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটলে সাংবাদিকদের দায়িত্ব হবে সেটি তুলে ধরা। এই ধরনের বাস্তব পরিস্থিতিতে কঠোর সম্প্রচার-নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচন কমিশন দ্রুত আমাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনবে। এতে সাংবাদিকরা আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন, একই সঙ্গে ভোটের স্বচ্ছতা ও জনগণের জানার অধিকারও সুরক্ষিত হবে।’

আরএফইডি সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, ‘নীতিমালায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা ক্যামেরাপারসনের ওপর আক্রমণ হলে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদ সংগ্রহে বাধা দিলে বা হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নীতিমালায় নির্দিষ্টভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সাংবাদিকদের অবাধ কাজের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন যদি আমাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করে, তাহলে নির্বাচনী কাভারেজ আরও বস্তুনিষ্ঠ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক :

০৯ নভেম্বর, ২০২৫,  7:12 PM

news image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রণীত গণমাধ্যম নীতিমালায় বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে উল্লেখ করে তা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)। 

আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিজেসি ও আরএফইডির প্রতিনিধিরা তাদের যৌথ সুপারিশমালা জমা দেন। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিজেসি চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক রাজা সাংবাদিকদের জানান, ‘নির্বাচন কমিশন যে গণমাধ্যম আচরণবিধি তৈরি করেছে, তাতে সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রে কিছু অপ্রয়োজনীয় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা বিজেসি ও আরএফইডি যৌথভাবে একাধিক সেমিনার আয়োজন করেছি, যেখানে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, অংশীজন ও সংবাদকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুপারিশমালা তৈরি করেছি। আজ সেটি কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছি।’

বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছি যে, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিত করার যে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, তা সাংবাদিকদের জন্য অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা। যদি সাংবাদিকদের বৈধ আইডি কার্ড ইস্যু করা থাকে, তাহলে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই।’

সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট থাকার যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটির ব্যাপারেও আপত্তি জানানো হয়েছে উল্লেখ করে রেজওয়ানুল হক রাজা জানান, ‘কমিশনের কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন, এটি কোনো কঠোর সময়সীমা নয়, বরং কেন্দ্রের জায়গার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় সাধারণ নির্দেশনা মাত্র। সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে এটি নয়।’

বিজেসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা বুঝতে পেরেছি, কমিশন আন্তরিকভাবে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করতে চায়। এমনকি তারা নিজেরাও মনে করেন, সিসি ক্যামেরা না থাকলেও সাংবাদিকদের ক্যামেরা উপস্থিত থাকলে ভোটের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হয়।’

বৈঠকে সরাসরি সম্প্রচার নিয়েও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি, সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল থাকা উচিত, যেন লাইভ সম্প্রচারে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে। তবে কোনো অনিয়ম বা কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটলে সাংবাদিকদের দায়িত্ব হবে সেটি তুলে ধরা। এই ধরনের বাস্তব পরিস্থিতিতে কঠোর সম্প্রচার-নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচন কমিশন দ্রুত আমাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনবে। এতে সাংবাদিকরা আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন, একই সঙ্গে ভোটের স্বচ্ছতা ও জনগণের জানার অধিকারও সুরক্ষিত হবে।’

আরএফইডি সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, ‘নীতিমালায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা ক্যামেরাপারসনের ওপর আক্রমণ হলে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদ সংগ্রহে বাধা দিলে বা হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নীতিমালায় নির্দিষ্টভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সাংবাদিকদের অবাধ কাজের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন যদি আমাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করে, তাহলে নির্বাচনী কাভারেজ আরও বস্তুনিষ্ঠ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে।’