গাজীপুরে গাছায় ছুরিকাঘাতে খুন, প্রধান আসামীসহ গ্রেপ্তার দুই
মোঃ নজরুল ইসলাম, টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
০৪ নভেম্বর, ২০২৫, 9:05 PM
গাজীপুরে গাছায় ছুরিকাঘাতে খুন, প্রধান আসামীসহ গ্রেপ্তার দুই
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩৭ নং ওয়ার্ডের কুনিয়া তারগাছ এলাকায় বেলাল নগর রোডে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মারুফ (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর বন্ধু জামিল (২৪)।
একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার ৩নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৭টার দিকে আক্তারের বাড়ির সামনে সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার আগেই গাছা থানা ও জিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ অভিযানে মামলার প্রধান আসামীসহ দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাছা থানায় দায়েরকৃত মামলার (মামলা নং ৬, তারিখ ০৪/১১/২০২৫, ধারা: ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩)
এজাহারনামীয় প্রধান আসামী (১) মো. রবিউল ইসলাম ওরফে সিগমা রবি (২৪)-কে ঝালকাঠি থেকে এবং (২) মো. সাব্বির হোসেন (১৮)-কে কুনিয়া তারগাছ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আহত জামিল জানিয়েছেন, তিনি একটি সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি তাঁর বাড়ির সামনের একটি দোকানে সিগারেটের বকেয়া বিল আনতে যান। সেখানে পূর্ব থেকেই এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং সদস্য রবি, রনি, সাগর, সাব্বিরসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৪-৫ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। জামিল তাদের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে রবি’র সাথে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়।
তর্কের এক পর্যায়ে জামিলের বন্ধু নিহত মারুফ (২২) সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে মোড় নেয়। অভিযুক্ত রবি ও তার ৬-৭ জনের সংঘবদ্ধ গ্যাং ক্ষিপ্ত হয়ে জামিল ও মারুফ উভয়কে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
মারুফকে গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত স্থানীয় হাসপাতাল তারুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জামিলকে প্রথমে বড়বাড়ি ইসলামিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হন, অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল অ্যান্ড কলেজে রেফার্ড করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর কুনিয়া তারগাছ গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ৮-১০ জনের কিশোর গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। মাদক সেবন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত থাকলেও, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এই গ্যাংয়ের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ সবসময় ভীতসন্ত্রস্ত থাকেন।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, "আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে এসেছি। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।" আহত জামিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার চিহ্নিত এই কিশোর গ্যাং মাদক সেবন, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অভাবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে । এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কিশোর গ্যাংয়ের লাগামহীন অপকর্ম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মোঃ নজরুল ইসলাম, টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
০৪ নভেম্বর, ২০২৫, 9:05 PM
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩৭ নং ওয়ার্ডের কুনিয়া তারগাছ এলাকায় বেলাল নগর রোডে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মারুফ (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর বন্ধু জামিল (২৪)।
একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার ৩নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৭টার দিকে আক্তারের বাড়ির সামনে সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার আগেই গাছা থানা ও জিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ অভিযানে মামলার প্রধান আসামীসহ দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাছা থানায় দায়েরকৃত মামলার (মামলা নং ৬, তারিখ ০৪/১১/২০২৫, ধারা: ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩)
এজাহারনামীয় প্রধান আসামী (১) মো. রবিউল ইসলাম ওরফে সিগমা রবি (২৪)-কে ঝালকাঠি থেকে এবং (২) মো. সাব্বির হোসেন (১৮)-কে কুনিয়া তারগাছ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আহত জামিল জানিয়েছেন, তিনি একটি সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি তাঁর বাড়ির সামনের একটি দোকানে সিগারেটের বকেয়া বিল আনতে যান। সেখানে পূর্ব থেকেই এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং সদস্য রবি, রনি, সাগর, সাব্বিরসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৪-৫ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। জামিল তাদের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে রবি’র সাথে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়।
তর্কের এক পর্যায়ে জামিলের বন্ধু নিহত মারুফ (২২) সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে মোড় নেয়। অভিযুক্ত রবি ও তার ৬-৭ জনের সংঘবদ্ধ গ্যাং ক্ষিপ্ত হয়ে জামিল ও মারুফ উভয়কে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
মারুফকে গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত স্থানীয় হাসপাতাল তারুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জামিলকে প্রথমে বড়বাড়ি ইসলামিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হন, অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল অ্যান্ড কলেজে রেফার্ড করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর কুনিয়া তারগাছ গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ৮-১০ জনের কিশোর গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। মাদক সেবন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত থাকলেও, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এই গ্যাংয়ের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ সবসময় ভীতসন্ত্রস্ত থাকেন।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, "আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে এসেছি। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।" আহত জামিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার চিহ্নিত এই কিশোর গ্যাং মাদক সেবন, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অভাবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে । এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কিশোর গ্যাংয়ের লাগামহীন অপকর্ম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সম্পর্কিত