ঢাকা ২৫ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল উৎসবের সমাপনী: স্পেনের সামনে আর্জেন্টিনা, প্রস্তুত নিউ ইয়র্ক ইরানি হামলায় জ্বলছে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্র ব্যবসায় আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বিসিসিসিআইয়ের সেমিনার: গুরুত্ব পেল এআই ও ব্লকচেইন চট্টগ্রামে বন্যায় ১৫ উপজেলা লণ্ডভণ্ড: ৭ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি গাজীপুরে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শতভাগ ফিট ইয়ামাল, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে স্বস্তিতে স্পেন দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার পার, ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু শাল্লায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা তাফাজ্জুল গ্রেপ্তার কনেবাহী গাড়ি খাদে ,উৎসবের রাতেই বিষাদের ছায়া, নিহত ২ চরভদ্রাসনে হিউম্যান অ্যাপেল অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে ৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

অগ্রণী ব্যাংক (বোর্ড বাজার শাখা) ম্যানেজারের বিদায়ে কাঁদলেন গ্রাহকরা

#
news image

বদলিজনিত বিদায় অনুষ্ঠানে গ্রাহকদের জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন ব্যাংক ম্যানেজার, কাঁদালেন গ্রাহকদেরও। শুধু গ্রাহক নয়, পথের ভিক্ষুকরাও ব্যাংকে এসে ম্যানেজারকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন। ''বাবা তুমি আমাকে মাটি (কবর) দিয়ে যাও" ম্যানেজারকে জড়িয়ে ধরে প্রায় ৮০ বছরের অসহায় এক নি:সন্তান বৃদ্ধার এমন আকুতি উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে।

বিদায় অনুষ্ঠানে ওই বৃদ্ধা ভিক্ষুককে অতিথির আসনে বসিয়ে ব্যাংক ম্যানেজার অনুষ্ঠান শেষ অব্দি দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনুষ্ঠানে মাত্র দুই জন অতিথির মধ্যে আরেকজন ছিলেন ষাটোর্ধ্ব একজন নারী গ্রাহক। তিনিও ম্যানেজারের বিদায়ে অঝোরে কেঁদেছেন। 

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি'র গাজীপুর মহানগরীর বোর্ড বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসেনের বিদায় অনুষ্ঠান যেন অঘোষিত কান্নার অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। শুধু গ্রাহক ও সহকর্মীরাই নয়, বাড়ির মালিকও ম্যানেজারের বিদায়ে কেঁদেছেন। 

ভবনমালিক তরিকুজ্জামান হিমু বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় বলেন, 'আমার ভবনে ১৩ বছর যাবত অগ্রণী ব্যাংকের এই শাখা পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬ জন ম্যানেজার এখানে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু ওনার মত এমন ভালো ম্যানেজার আমরা কখনই পাইনি। আজকের দিনটা, এই বিদায়ের মূহুর্তটা আমার কাছে ঐতিহাসিক, কারণ আজ আমরা এমন একজন ভালো মানুষকে বিদায় জানাতে এসেছি, যার জন্য গ্রাহকরা কাঁদে, সহকর্মীরা কাঁদে, পথের ভিক্ষুকরাও কাঁদে, তাঁর জীবন আজ ধন্য।'

ম্যানেজার কামাল হোসেন বক্তৃতা দিতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন, ডুকরে কেঁদে উঠে বলেন, গ্রাহকরা আমাকে যে সম্মান জানিয়েছেন এটি আমার জন্য নোবেল প্রাইজ। বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন, এসময় গ্রাহকরাও কেঁদেছেন। আবেক আপ্লুত কণ্ঠে স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে ম্যানেজার কামাল হোসেন বক্তৃতায় বলেন, 'আমি প্রতিদিন দুপুরে খাবারের আগে ব্যাংকের নিচে রাস্তায় গিয়ে অসহায় কাউকে খুঁজি আমার সাথে বসে খাওয়ানোর জন্য। 

অনুষ্ঠানে অতিথির আসনে উপবিষ্ট বৃদ্ধাকে দেখিয়ে তিনি বলেন, 'একদিন এই মাকে ফুটপাতে জীর্ণ শীর্ণ ক্ষুদার্ত অবস্থায় পেয়ে ওনাকে হাত ধরে বলি মা আজ আপনি আমার সাথে খাবেন। এসময় তিনি হাউ মাউ করে কেঁদে বলতে লাগলেন, 'বাবা গো আমি আজ সকাল থেকে কিছুই খাইনি, ক্ষুদায় পেট জ্বলছে, তোমাকে মনে হয় আল্লাহ আমার কাছে পাঠাইছে।'

গ্রাহকদের সম্পর্কে স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে ম্যানেজার বলেন, আর্থ সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে কিভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায় আমি সব সময় সেই চিন্তা করি। অনেক গ্রাহক আমার উছিলায় স্বাবলম্বী হয়েছেন। একজন গ্রাহকের কিছুই ছিলো না। তাকে আমি বিনিয়োগ দিয়েছিলাম। তিনি এখন দুই কাঠা জমি কিনে বাড়ি করেছেন। 

প্রিন্সিপাল অফিসার মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ক্যাশ অফিসার রিজওয়ানা, গ্রাহক লোকমান হোসেন, মতিউর রহমান, সুলতান উদ্দিন, আইনুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম আমিন, আব্দুস সালাম, পারভীন আক্তার, আব্দুর রহিম, শাহীন মিয়া, মো. লিটন, মোখলেছুর রহমান, ফেরদৌস হাসান অভি, খোদেজা কামাল প্রমুখ। 

গ্রাহকরা বক্তৃতায় বলেন, ম্যানেজার কামাল হোসেন চেয়ার থেকে উঠে এসে সরাসরি গ্রাহকদের সেবা দিতেন। তিনি নিজের অফিস কক্ষের দরজা সব সময় খোলা রাখেন যাতে গ্রাহকরা সরাসরি তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। নিজের অফিস কক্ষে এসি থাকা সত্বেও তিনি সেটি কখনই চালু রাখতেন না। তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে বলতেন, অন্যান্য রুমে এসি নাই, গ্রাহকরা এসি সুবিধা ছাড়াই সেবা নেন, তাই আমিও এসি ব্যবহার করি না। বরং গ্রাহকরা যাতে সরাসরি আমার অফিস কক্ষে ঢুকতে পারেন সেজন্য আমি কক্ষের দরজা খুলে ফেলেছি। অনুষ্ঠানে গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীরা লাইন ধরে ম্যানেজারকে ফুলের মালা পড়িয়ে বিদায় সংবর্ধনা জানান।

গাজীপুর প্রতিনিধি :

২৯ আগস্ট, ২০২৫,  3:32 PM

news image

বদলিজনিত বিদায় অনুষ্ঠানে গ্রাহকদের জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন ব্যাংক ম্যানেজার, কাঁদালেন গ্রাহকদেরও। শুধু গ্রাহক নয়, পথের ভিক্ষুকরাও ব্যাংকে এসে ম্যানেজারকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন। ''বাবা তুমি আমাকে মাটি (কবর) দিয়ে যাও" ম্যানেজারকে জড়িয়ে ধরে প্রায় ৮০ বছরের অসহায় এক নি:সন্তান বৃদ্ধার এমন আকুতি উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে।

বিদায় অনুষ্ঠানে ওই বৃদ্ধা ভিক্ষুককে অতিথির আসনে বসিয়ে ব্যাংক ম্যানেজার অনুষ্ঠান শেষ অব্দি দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনুষ্ঠানে মাত্র দুই জন অতিথির মধ্যে আরেকজন ছিলেন ষাটোর্ধ্ব একজন নারী গ্রাহক। তিনিও ম্যানেজারের বিদায়ে অঝোরে কেঁদেছেন। 

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি'র গাজীপুর মহানগরীর বোর্ড বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসেনের বিদায় অনুষ্ঠান যেন অঘোষিত কান্নার অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। শুধু গ্রাহক ও সহকর্মীরাই নয়, বাড়ির মালিকও ম্যানেজারের বিদায়ে কেঁদেছেন। 

ভবনমালিক তরিকুজ্জামান হিমু বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় বলেন, 'আমার ভবনে ১৩ বছর যাবত অগ্রণী ব্যাংকের এই শাখা পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬ জন ম্যানেজার এখানে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু ওনার মত এমন ভালো ম্যানেজার আমরা কখনই পাইনি। আজকের দিনটা, এই বিদায়ের মূহুর্তটা আমার কাছে ঐতিহাসিক, কারণ আজ আমরা এমন একজন ভালো মানুষকে বিদায় জানাতে এসেছি, যার জন্য গ্রাহকরা কাঁদে, সহকর্মীরা কাঁদে, পথের ভিক্ষুকরাও কাঁদে, তাঁর জীবন আজ ধন্য।'

ম্যানেজার কামাল হোসেন বক্তৃতা দিতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন, ডুকরে কেঁদে উঠে বলেন, গ্রাহকরা আমাকে যে সম্মান জানিয়েছেন এটি আমার জন্য নোবেল প্রাইজ। বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন, এসময় গ্রাহকরাও কেঁদেছেন। আবেক আপ্লুত কণ্ঠে স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে ম্যানেজার কামাল হোসেন বক্তৃতায় বলেন, 'আমি প্রতিদিন দুপুরে খাবারের আগে ব্যাংকের নিচে রাস্তায় গিয়ে অসহায় কাউকে খুঁজি আমার সাথে বসে খাওয়ানোর জন্য। 

অনুষ্ঠানে অতিথির আসনে উপবিষ্ট বৃদ্ধাকে দেখিয়ে তিনি বলেন, 'একদিন এই মাকে ফুটপাতে জীর্ণ শীর্ণ ক্ষুদার্ত অবস্থায় পেয়ে ওনাকে হাত ধরে বলি মা আজ আপনি আমার সাথে খাবেন। এসময় তিনি হাউ মাউ করে কেঁদে বলতে লাগলেন, 'বাবা গো আমি আজ সকাল থেকে কিছুই খাইনি, ক্ষুদায় পেট জ্বলছে, তোমাকে মনে হয় আল্লাহ আমার কাছে পাঠাইছে।'

গ্রাহকদের সম্পর্কে স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে ম্যানেজার বলেন, আর্থ সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে কিভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায় আমি সব সময় সেই চিন্তা করি। অনেক গ্রাহক আমার উছিলায় স্বাবলম্বী হয়েছেন। একজন গ্রাহকের কিছুই ছিলো না। তাকে আমি বিনিয়োগ দিয়েছিলাম। তিনি এখন দুই কাঠা জমি কিনে বাড়ি করেছেন। 

প্রিন্সিপাল অফিসার মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ক্যাশ অফিসার রিজওয়ানা, গ্রাহক লোকমান হোসেন, মতিউর রহমান, সুলতান উদ্দিন, আইনুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম আমিন, আব্দুস সালাম, পারভীন আক্তার, আব্দুর রহিম, শাহীন মিয়া, মো. লিটন, মোখলেছুর রহমান, ফেরদৌস হাসান অভি, খোদেজা কামাল প্রমুখ। 

গ্রাহকরা বক্তৃতায় বলেন, ম্যানেজার কামাল হোসেন চেয়ার থেকে উঠে এসে সরাসরি গ্রাহকদের সেবা দিতেন। তিনি নিজের অফিস কক্ষের দরজা সব সময় খোলা রাখেন যাতে গ্রাহকরা সরাসরি তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। নিজের অফিস কক্ষে এসি থাকা সত্বেও তিনি সেটি কখনই চালু রাখতেন না। তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে বলতেন, অন্যান্য রুমে এসি নাই, গ্রাহকরা এসি সুবিধা ছাড়াই সেবা নেন, তাই আমিও এসি ব্যবহার করি না। বরং গ্রাহকরা যাতে সরাসরি আমার অফিস কক্ষে ঢুকতে পারেন সেজন্য আমি কক্ষের দরজা খুলে ফেলেছি। অনুষ্ঠানে গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীরা লাইন ধরে ম্যানেজারকে ফুলের মালা পড়িয়ে বিদায় সংবর্ধনা জানান।