নাটোরের উত্তরা গণভবনে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে পারিজাত

নাটোর প্রতিনিধি :
০৩ এপ্রিল, ২০২৫, 5:15 PM

নাটোরের উত্তরা গণভবনে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে পারিজাত
নাটোরের উত্তরা গণভবনে ফুটেছে দুষ্প্রাপ্য পারিজাত ফুল। তাপদাহ উপেক্ষা করে ঈদের ছুটিতে গণভবনে আগন্তুক দর্শনার্থীদের মনে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে পারিজাত। ফুলকে কেন্দ্র করে হাজারো মৌমাছির গুঞ্জন মোহনীয় করে তুলেছে চারপাশ।
পারিজাত এদেশে দুষ্প্রাপ্য ফুল। উত্তরা গণভবনের প্রবেশ পথ ধরে হ্রদ পেরিয়ে গেলেই শতবর্ষী দু’টো পারিজাত ফুলের গাছ। প্রায় সাত মিটার করে উচ্চতায় অনেকখানি এলাকা জুড়ে ছাতার মত ছড়িয়ে আছে চির সবুজ এ গাছ। ঘন পাতার আচ্ছাদনে গাছের নীচে সূর্যের আলো আর তাপ পৌঁছনোর উপায় নেই। কান্ড আর ডালপালা অশোকের মত। সবুজ পাতা তৈরী হওয়াটা অনেক মনোরম আর বৈচিত্রের। কলার মোচার মত হরিণ রঙের কচি পল্লব অনেক আকর্ষণীয়। পথ পরিক্রমায় পল্লবের এক একটি মোচা রকমারী রঙ ছড়িয়ে শত শত পাতায় পরিণত হয়। আর ফুল? রক্ত রাঙা এক একটা ফুলের মধ্যে প্রায় শতটি ছোট ছোট ফুলের সমাহার। ফুলে গন্ধ নেই। তবে আছে পরাগ রেণু আর অনেক মধু। পারিজাতের এক একটি ফুলে অসংখ্য মৌমাছির সমাবেশ। দু’টো গাছ জুড়ে হাজারো ফুলে মৌমাছির দল সারাদিন ব্যস্ত মধু আহরণে। ছায়া, ফুল আর মৌমাছি এ এলাকাকে স্বর্গীয় করে তুলেছে। তাই হয়তো পারিজাতকে বলা হয় স্বর্গীয় ফুল!
বিপ্রদাশ বড়ুয়া ‘গাছপালা তরুলতা’তে বলেন, দেবর্ষি নারদ স্বর্গ থেকে পারিজাত নিয়ে এসেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ এ ফুল তাঁর পত্নীকে উপহার দেন। পারিজাত ফুল নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী নার্গিসকে চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘তোমার যে কল্যাণ-রুপ আমি আমার কিশোর বয়সে প্রথম দেখেছিলাম, সে রুপ আজো স্বর্গের পারিজাত-মন্দারের মতো চির অম্লান হয়েই আছে আমার বক্ষে’। আর নজরুল সংগীতে বললেন, ‘পরো কুন্তলে, ধরো অঞ্চলে/মলিন প্রেম-পারিজাত’। রবি ঠাকুর বললেন, ‘পারিজাত কেশর নিয়ে ধরায় শশী, ছড়াও কী এ/ ইন্দ্রপুরীর কোন রমণী বাসর প্রদীপ জ্বালো’।
উত্তরা গণভবনের হিসাব সহকারী নুর মোহাম্মদ জানান, উত্তরা গণভবনে মোট ছয়টি পারিজাত ফুলের গাছ থাকলেও প্রবেশ পথ পেরিয়ে বাম পাশের দু’টি গাছ রাজার আমলের। বয়স দুইশ’ বছর পেরিয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন দুষ্প্রাপ্য এ গাছের বিস্তার ঘটাতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চেষ্টা চলছে চারা তৈরীর।
ঈদ আর ঈদ পরবর্তী দিনগুলোতে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার দর্শনার্থী গণভবন পরিদর্শনে এসে মুগ্ধ হচ্ছেন পারিজাতের সৌন্দর্যে। এ তাপদাহে পারিজাত যেন দু’দন্ড শান্তির পরশ। ‘পারিজাতের সৌন্দর্যে প্রতিবছর এ সময়ে গণভবনে আসি। ফিরে ফিরে আসি’- বললেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসমাউল হুসনা।
নাটোরের জেলা প্রশাসক ও উত্তরা গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আসমা শাহীন বলেন, তাপদাহ উপেক্ষা করে হাজারো দর্শনার্থী প্রতিদিন ঈদের ছুটিতে গণভবন পরিদর্শনে আসছেন। দর্শনার্থীদের জন্যে বসন্তের ফুল পারিজাত শান্তির হয়ে উঠেছে।
নাটোর প্রতিনিধি :
০৩ এপ্রিল, ২০২৫, 5:15 PM

নাটোরের উত্তরা গণভবনে ফুটেছে দুষ্প্রাপ্য পারিজাত ফুল। তাপদাহ উপেক্ষা করে ঈদের ছুটিতে গণভবনে আগন্তুক দর্শনার্থীদের মনে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে পারিজাত। ফুলকে কেন্দ্র করে হাজারো মৌমাছির গুঞ্জন মোহনীয় করে তুলেছে চারপাশ।
পারিজাত এদেশে দুষ্প্রাপ্য ফুল। উত্তরা গণভবনের প্রবেশ পথ ধরে হ্রদ পেরিয়ে গেলেই শতবর্ষী দু’টো পারিজাত ফুলের গাছ। প্রায় সাত মিটার করে উচ্চতায় অনেকখানি এলাকা জুড়ে ছাতার মত ছড়িয়ে আছে চির সবুজ এ গাছ। ঘন পাতার আচ্ছাদনে গাছের নীচে সূর্যের আলো আর তাপ পৌঁছনোর উপায় নেই। কান্ড আর ডালপালা অশোকের মত। সবুজ পাতা তৈরী হওয়াটা অনেক মনোরম আর বৈচিত্রের। কলার মোচার মত হরিণ রঙের কচি পল্লব অনেক আকর্ষণীয়। পথ পরিক্রমায় পল্লবের এক একটি মোচা রকমারী রঙ ছড়িয়ে শত শত পাতায় পরিণত হয়। আর ফুল? রক্ত রাঙা এক একটা ফুলের মধ্যে প্রায় শতটি ছোট ছোট ফুলের সমাহার। ফুলে গন্ধ নেই। তবে আছে পরাগ রেণু আর অনেক মধু। পারিজাতের এক একটি ফুলে অসংখ্য মৌমাছির সমাবেশ। দু’টো গাছ জুড়ে হাজারো ফুলে মৌমাছির দল সারাদিন ব্যস্ত মধু আহরণে। ছায়া, ফুল আর মৌমাছি এ এলাকাকে স্বর্গীয় করে তুলেছে। তাই হয়তো পারিজাতকে বলা হয় স্বর্গীয় ফুল!
বিপ্রদাশ বড়ুয়া ‘গাছপালা তরুলতা’তে বলেন, দেবর্ষি নারদ স্বর্গ থেকে পারিজাত নিয়ে এসেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ এ ফুল তাঁর পত্নীকে উপহার দেন। পারিজাত ফুল নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী নার্গিসকে চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘তোমার যে কল্যাণ-রুপ আমি আমার কিশোর বয়সে প্রথম দেখেছিলাম, সে রুপ আজো স্বর্গের পারিজাত-মন্দারের মতো চির অম্লান হয়েই আছে আমার বক্ষে’। আর নজরুল সংগীতে বললেন, ‘পরো কুন্তলে, ধরো অঞ্চলে/মলিন প্রেম-পারিজাত’। রবি ঠাকুর বললেন, ‘পারিজাত কেশর নিয়ে ধরায় শশী, ছড়াও কী এ/ ইন্দ্রপুরীর কোন রমণী বাসর প্রদীপ জ্বালো’।
উত্তরা গণভবনের হিসাব সহকারী নুর মোহাম্মদ জানান, উত্তরা গণভবনে মোট ছয়টি পারিজাত ফুলের গাছ থাকলেও প্রবেশ পথ পেরিয়ে বাম পাশের দু’টি গাছ রাজার আমলের। বয়স দুইশ’ বছর পেরিয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন দুষ্প্রাপ্য এ গাছের বিস্তার ঘটাতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চেষ্টা চলছে চারা তৈরীর।
ঈদ আর ঈদ পরবর্তী দিনগুলোতে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার দর্শনার্থী গণভবন পরিদর্শনে এসে মুগ্ধ হচ্ছেন পারিজাতের সৌন্দর্যে। এ তাপদাহে পারিজাত যেন দু’দন্ড শান্তির পরশ। ‘পারিজাতের সৌন্দর্যে প্রতিবছর এ সময়ে গণভবনে আসি। ফিরে ফিরে আসি’- বললেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসমাউল হুসনা।
নাটোরের জেলা প্রশাসক ও উত্তরা গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আসমা শাহীন বলেন, তাপদাহ উপেক্ষা করে হাজারো দর্শনার্থী প্রতিদিন ঈদের ছুটিতে গণভবন পরিদর্শনে আসছেন। দর্শনার্থীদের জন্যে বসন্তের ফুল পারিজাত শান্তির হয়ে উঠেছে।