ঢাকা ২৫ মে, ২০২৬
শিরোনামঃ
বিএনপির নেতা সোহেল রানার পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী একটা সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিতে চাই : সিইসি ঈদুল আযহায় বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাত শিক্ষার্থীদের স্বদেশ প্রেম চর্চার পাশাপাশি ইতিহাস জানা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী বিমান বাহিনী একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ আলবানিজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র ১০০ কোটি ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

তালায় সবজি চাষের সাথে সুমনের বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ

#
news image

জেলার তালায় সবজি চাষের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে সফলতা পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা সুমন দাশ।

ভারতের মহারাষ্ট্র এলাকার ব্লাক জাম্বু, সুপার সোনাকা, মানিকচমন ও ভিএসডি জাতের আঙুর চাষ করেছেন তিনি। আগামী অক্টোবর থেকে এসব আঙুর বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি। তিনি দুই বিঘা জমিতে আঙুরের পাশাপাশি ক্যাপসিকামও চাষ করেছেন। এরই মধ্যে ক্যাপসিকাম বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। দুই-একদিন পর পর তিনি ৪’শ থেকে সাড়ে ৪’শ কেজি ক্যাপসিকাম বিক্রি করছেন। এছাড়া তিনি তিন বিঘা জমিতে শসা ও করোলাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মির্জাপুর বারাত গ্রামের বিশ্বনাথ দাশের ছেলে সুমন দাশ (৩৬)।  সুমন দাশের স্ত্রীর নাম লতিকা মন্ডল (৩৪)। সুমন ও লতিকা দম্পতি সদ্যজাত (১৩ দিনের) একটি কন্যা সন্তানের বাবা-মা।
সুমন চাকরি করেন স্বাস্থ্য বিভাগে। তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট। সরকারী চাকরির পাশাপাশি কৃষি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে তার অনেক আগে থেকেই।

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সুমন দাশ জানান, ২০২১ সালে বাড়ির পাশে নিজেদের এক বিঘা জমিতে প্রথমে এক লাখ টাকা খরচ করে শসা ও করলা চাষ শুরু করি। এ এক লাখ পুজি খাটিয়ে সেখান থেকে আমি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করি। সব খরচ বাদে আমার এতে লাভ থাকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এরপর থেকে আমি চাষাবাদ বাড়াতে থাকি। বর্তমানে আমি ৩ বিঘা জমিতে শসা ও করলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। এছাড়া গত বছরের (২০২৪ সালের) জুলাইয়ে ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করি চার জাতের ৪৫০টি আঙুরের চারা। দুই বিঘা জমিতে ওই চারা রোপণ করেছি। সাথী ফসল হিসেবে রকমেলন ও তরমুজ চাষ করে তিন মাসের মধ্যে সেখান থেকে আমি ৮০ হাজার টাকা লাভবান হই। গত নভেম্বর মাসে সাথী ফসল হিসেবে সেখানে সাড়ে আট হাজার সিনজেন্টা ইন্দিরা গোল্ড জাতের ক্যাপসিকাম চারা রোপণ করেছি। এরই মধ্যে ক্যাপসিকাম বাজারজাত করা শুরু হয়েছে। দুই-একদিন পর পর ৪’শ থেকে সাড়ে ৪’শ কেজি ক্যাপসিকাম বিক্রি করছি। বাজারে প্রতি মণ ক্যাপসিকাম ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে। দুই বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করতে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। গাছে যে পরিমাণ ফলন দেখা যাচ্ছে, তাতে ১৫-১৬ টন ক্যাপসিকাম উৎপাদন হতে পারে। তবে এখন বাজারে দামটা ভালো পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গড়ে প্রতি টন ৭০ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি হবে। পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ মাসের এ ফসলটি উৎপাদন করে সব খরচ বাদে প্রায় ৫ লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশাবাদী।

সাতক্ষীরা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরার তালার বারাত গ্রামের সুমন দাশ আঙুর চাষ করেছেন। সাধারণত বেলে দোঁআশ বা লাল মাটি আঙুর চাষের উপযোগী। কষিসম্প্রসারণ বিভাগ থেকে উক্ত আঙুর চাষীকে পরামর্শ ও দেখভাল করা হচ্ছে। তবে প্রথমবাবের মতো বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে সফল হলে অবশ্যই সাতক্ষীরার জন্য কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা বয়ে আনবে বলে এ কৃষিকর্মকর্তা আরো জানান।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫,  12:14 AM

news image

জেলার তালায় সবজি চাষের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে সফলতা পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা সুমন দাশ।

ভারতের মহারাষ্ট্র এলাকার ব্লাক জাম্বু, সুপার সোনাকা, মানিকচমন ও ভিএসডি জাতের আঙুর চাষ করেছেন তিনি। আগামী অক্টোবর থেকে এসব আঙুর বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি। তিনি দুই বিঘা জমিতে আঙুরের পাশাপাশি ক্যাপসিকামও চাষ করেছেন। এরই মধ্যে ক্যাপসিকাম বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। দুই-একদিন পর পর তিনি ৪’শ থেকে সাড়ে ৪’শ কেজি ক্যাপসিকাম বিক্রি করছেন। এছাড়া তিনি তিন বিঘা জমিতে শসা ও করোলাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মির্জাপুর বারাত গ্রামের বিশ্বনাথ দাশের ছেলে সুমন দাশ (৩৬)।  সুমন দাশের স্ত্রীর নাম লতিকা মন্ডল (৩৪)। সুমন ও লতিকা দম্পতি সদ্যজাত (১৩ দিনের) একটি কন্যা সন্তানের বাবা-মা।
সুমন চাকরি করেন স্বাস্থ্য বিভাগে। তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট। সরকারী চাকরির পাশাপাশি কৃষি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে তার অনেক আগে থেকেই।

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সুমন দাশ জানান, ২০২১ সালে বাড়ির পাশে নিজেদের এক বিঘা জমিতে প্রথমে এক লাখ টাকা খরচ করে শসা ও করলা চাষ শুরু করি। এ এক লাখ পুজি খাটিয়ে সেখান থেকে আমি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করি। সব খরচ বাদে আমার এতে লাভ থাকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এরপর থেকে আমি চাষাবাদ বাড়াতে থাকি। বর্তমানে আমি ৩ বিঘা জমিতে শসা ও করলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। এছাড়া গত বছরের (২০২৪ সালের) জুলাইয়ে ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করি চার জাতের ৪৫০টি আঙুরের চারা। দুই বিঘা জমিতে ওই চারা রোপণ করেছি। সাথী ফসল হিসেবে রকমেলন ও তরমুজ চাষ করে তিন মাসের মধ্যে সেখান থেকে আমি ৮০ হাজার টাকা লাভবান হই। গত নভেম্বর মাসে সাথী ফসল হিসেবে সেখানে সাড়ে আট হাজার সিনজেন্টা ইন্দিরা গোল্ড জাতের ক্যাপসিকাম চারা রোপণ করেছি। এরই মধ্যে ক্যাপসিকাম বাজারজাত করা শুরু হয়েছে। দুই-একদিন পর পর ৪’শ থেকে সাড়ে ৪’শ কেজি ক্যাপসিকাম বিক্রি করছি। বাজারে প্রতি মণ ক্যাপসিকাম ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে। দুই বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করতে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। গাছে যে পরিমাণ ফলন দেখা যাচ্ছে, তাতে ১৫-১৬ টন ক্যাপসিকাম উৎপাদন হতে পারে। তবে এখন বাজারে দামটা ভালো পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গড়ে প্রতি টন ৭০ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি হবে। পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ মাসের এ ফসলটি উৎপাদন করে সব খরচ বাদে প্রায় ৫ লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশাবাদী।

সাতক্ষীরা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরার তালার বারাত গ্রামের সুমন দাশ আঙুর চাষ করেছেন। সাধারণত বেলে দোঁআশ বা লাল মাটি আঙুর চাষের উপযোগী। কষিসম্প্রসারণ বিভাগ থেকে উক্ত আঙুর চাষীকে পরামর্শ ও দেখভাল করা হচ্ছে। তবে প্রথমবাবের মতো বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে সফল হলে অবশ্যই সাতক্ষীরার জন্য কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা বয়ে আনবে বলে এ কৃষিকর্মকর্তা আরো জানান।