দৈনিক পল্লীবাংলা
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বাগেরহাটে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ।

বাগেরহাটে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ।
ডাঃ শেখ ইফতেখারুল আলম এর ছবি

বাগেরহাটে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট গ্রহণ না করা এবং রিপোর্টের ভিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এক নাক-কান-গলা (ইএনটি) চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের গালিগালাজ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকার মৎস্য অফিসের পেছনে অবস্থিত অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শেখ ইফতেখারুল আলমের ব্যক্তিগত চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এশিয়া পোস্ট অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও দৈনিক আগামী সময়-এর বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি শেখ সোহেল (৩০) বাদী হয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনায় দৈনিক সকালবেলা-এর জেলা প্রতিনিধি শেখ মাসুম বিল্লাহ আহমেদ এবং পল্লিবাংলা অনলাইন পোর্টালের প্রতিনিধি শিমুলও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ষাটোর্ধ্ব আলেয়া বেগম নামের এক নারী কানের সমস্যা নিয়ে ডা. শেখ ইফতেখারুল আলমের চেম্বারে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিলে তিনি শহরের 'হেলথ এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার' থেকে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান। তবে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ('সিটি ল্যাব') থেকে পরীক্ষা না করানোয় চিকিৎসক তার রিপোর্ট দেখতে অস্বীকৃতি জানান এবং টেবিল থেকে তা ছুড়ে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন ওই রোগী।

ভুক্তভোগী আলেয়া বেগম বলেন, "ডাক্তার সাহেব আমার রিপোর্ট দেখতে অস্বীকৃতি জানান এবং টেবিল থেকে তা ছুড়ে ফেলে দেন। কেন সিটি ল্যাব থেকে পরীক্ষা করাইনি—এ নিয়ে সেখানে থাকা এক ছেলেও আমার সাথে জবাবদিহি করে। পরে বাধ্য হয়ে আমি সেখান থেকে চলে আসি।"

বিষয়টি রোগীর স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পেরে তথ্য সংগ্রহ ও চিকিৎসকের বক্তব্য নিতে তার চেম্বারে যান সাংবাদিক শেখ সোহেল ও শেখ মাসুম বিল্লাহ আহমেদ। অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট গ্রহণ না করার কারণ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে কথা বলতে গেলেই ওই চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

দৈনিক সকালবেলা-এর জেলা প্রতিনিধি শেখ মাসুম বিল্লাহ আহমেদ বলেন, "রোগীর চিকিৎসার স্বার্থে ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে আমরা চিকিৎসকের কাছে কারণ জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রশ্ন করতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে মারধরে লিপ্ত হন।"

ভুক্তভোগী সাংবাদিক শেখ সোহেল বলেন, "রিপোর্টের পার্থক্যের কারণ জানতে চাইলে ডাক্তার আমাদের মারধর করতে আসেন। এই ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে আমাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"

ঘটনাস্থলে চিকিৎসা নিতে আসা মোড়েলগঞ্জের এক সেবাগ্রহীতা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ আশা করা যায় না। একজন চিকিৎসক নিজেই যদি এমন অসুস্থ আচরণ করেন, তবে সাধারণ রোগীরা কোথায় সেবা পাবে?"

এদিকে ঘটনার সময় চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির সৃষ্টি হলে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শেখ ইফতেখারুল আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহবুবুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সামসুল আরেফিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সাংবাদিক শেখ সোহেল বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক পল্লীবাংলা

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


বাগেরহাটে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ।

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট গ্রহণ না করা এবং রিপোর্টের ভিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এক নাক-কান-গলা (ইএনটি) চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের গালিগালাজ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকার মৎস্য অফিসের পেছনে অবস্থিত অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শেখ ইফতেখারুল আলমের ব্যক্তিগত চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এশিয়া পোস্ট অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও দৈনিক আগামী সময়-এর বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি শেখ সোহেল (৩০) বাদী হয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনায় দৈনিক সকালবেলা-এর জেলা প্রতিনিধি শেখ মাসুম বিল্লাহ আহমেদ এবং পল্লিবাংলা অনলাইন পোর্টালের প্রতিনিধি শিমুলও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ষাটোর্ধ্ব আলেয়া বেগম নামের এক নারী কানের সমস্যা নিয়ে ডা. শেখ ইফতেখারুল আলমের চেম্বারে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিলে তিনি শহরের 'হেলথ এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার' থেকে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান। তবে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ('সিটি ল্যাব') থেকে পরীক্ষা না করানোয় চিকিৎসক তার রিপোর্ট দেখতে অস্বীকৃতি জানান এবং টেবিল থেকে তা ছুড়ে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন ওই রোগী।

ভুক্তভোগী আলেয়া বেগম বলেন, "ডাক্তার সাহেব আমার রিপোর্ট দেখতে অস্বীকৃতি জানান এবং টেবিল থেকে তা ছুড়ে ফেলে দেন। কেন সিটি ল্যাব থেকে পরীক্ষা করাইনি—এ নিয়ে সেখানে থাকা এক ছেলেও আমার সাথে জবাবদিহি করে। পরে বাধ্য হয়ে আমি সেখান থেকে চলে আসি।"

বিষয়টি রোগীর স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পেরে তথ্য সংগ্রহ ও চিকিৎসকের বক্তব্য নিতে তার চেম্বারে যান সাংবাদিক শেখ সোহেল ও শেখ মাসুম বিল্লাহ আহমেদ। অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট গ্রহণ না করার কারণ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে কথা বলতে গেলেই ওই চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

দৈনিক সকালবেলা-এর জেলা প্রতিনিধি শেখ মাসুম বিল্লাহ আহমেদ বলেন, "রোগীর চিকিৎসার স্বার্থে ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে আমরা চিকিৎসকের কাছে কারণ জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রশ্ন করতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে মারধরে লিপ্ত হন।"

ভুক্তভোগী সাংবাদিক শেখ সোহেল বলেন, "রিপোর্টের পার্থক্যের কারণ জানতে চাইলে ডাক্তার আমাদের মারধর করতে আসেন। এই ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে আমাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"

ঘটনাস্থলে চিকিৎসা নিতে আসা মোড়েলগঞ্জের এক সেবাগ্রহীতা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ আশা করা যায় না। একজন চিকিৎসক নিজেই যদি এমন অসুস্থ আচরণ করেন, তবে সাধারণ রোগীরা কোথায় সেবা পাবে?"

এদিকে ঘটনার সময় চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির সৃষ্টি হলে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শেখ ইফতেখারুল আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহবুবুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সামসুল আরেফিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সাংবাদিক শেখ সোহেল বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


দৈনিক পল্লীবাংলা

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শেখ আজমল হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত পল্লী বাংলা