ঢাকা ২৪ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল উৎসবের সমাপনী: স্পেনের সামনে আর্জেন্টিনা, প্রস্তুত নিউ ইয়র্ক ইরানি হামলায় জ্বলছে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্র ব্যবসায় আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বিসিসিসিআইয়ের সেমিনার: গুরুত্ব পেল এআই ও ব্লকচেইন চট্টগ্রামে বন্যায় ১৫ উপজেলা লণ্ডভণ্ড: ৭ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি গাজীপুরে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শতভাগ ফিট ইয়ামাল, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে স্বস্তিতে স্পেন দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার পার, ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু শাল্লায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা তাফাজ্জুল গ্রেপ্তার কনেবাহী গাড়ি খাদে ,উৎসবের রাতেই বিষাদের ছায়া, নিহত ২ চরভদ্রাসনে হিউম্যান অ্যাপেল অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে ৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

স্বামীর মৃত্যুর পরও থামেনি নির্যাতন—দুই সন্তানকে বুকে নিয়ে ঘরছাড়া ফেরদাউসির আর্তনাদ

#
news image

একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল স্বামীকে—কিন্তু সেই মৃত্যুর মধ্যেই শেষ হয়নি দুঃখের গল্প। বরং সেখান থেকেই শুরু হয় এক অসহায় নারীর জীবনের আরও নির্মম অধ্যায়।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বড় গাবুয়া গ্রামের দুই সন্তানের জননী মোসাঃ ফেরদাউসি—আজ তিনি শুধুই এক নাম নয়, বরং নির্যাতিত এক মায়ের প্রতিচ্ছবি, যিনি প্রতিদিন লড়ছেন বেঁচে থাকার জন্য।

স্বামী মোঃ শামিম প্যাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর ভেঙে পড়ে তার সাজানো সংসার। স্বামীর শোক বুকে নিয়েই তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন স্বামীর বাড়িতে, ভেবেছিলেন এটাই হবে তার শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ঘরই হয়ে ওঠে তার জন্য নির্যাতনের অন্ধকার কারাগার।
অভিযোগ উঠেছে—স্বামীর বড় ভাই মোঃ সোহাগ প্যাদা (৪৩) ও ননদের স্বামী ইব্রাহিম (৪৪) বারবার তাকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। 

একজন অসহায় বিধবা, দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মা—যখন মাথা নত না করে প্রতিবাদ করেন, তখনই নেমে আসে নির্মম নির্যাতন।

ফেরদাউসির কণ্ঠে তখন শুধু কান্না আর ক্ষোভ—“স্বামীর মৃত্যুর পর আমি একেবারে একা হয়ে গেছি। আমার সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে যা সহায়তা পেয়েছিলাম, সেটুকুও তারা ভাগ করে নিতে চেয়েছে। 

রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমার জমি, আমার বসতঘর—সবকিছু দখল করে নিয়েছে তারা ” । 
তিনি জানান, নিজের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা কটকবলা জমিও এখন আর তার নেই—সবকিছুই চলে গেছে অন্যের দখলে।

সব হারিয়ে আজ তিনি আশ্রয় নিয়েছেন বাবার বাড়িতে। সঙ্গে রয়েছে তার দুই অবুঝ সন্তান—রুমান (১৭) ও রুসান (৩)।

একজন কিশোর ছেলের চোখে এখন স্বপ্নের বদলে আতঙ্ক, আর ছোট্ট শিশুটির মুখে হাসির বদলে অনিশ্চয়তার ছায়া।

ঘটনার আরও হৃদয়বিদারক বর্ণনা দেয় তার বড় ছেলে রুমান। সে জানায়— “ঈদের একদিন পর বিকেলে আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম। সেই সুযোগে আমার চাচা আর ফুফা মিলে আমার মাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে। আমি এসে চিৎকার করলে তারা পালিয়ে যায়। 

পরে এলাকার মানুষ এসে আমার মাকে উদ্ধার করে ” এই বর্ণনা যেন শুধু একটি ঘটনার নয়—এটি এক সমাজের বিবেকের সামনে দাঁড়ানো কঠিন প্রশ্ন।

অবশেষে সব নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ফেরদাউসি আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন। গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পটুয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা (নং-৩৪) দায়ের করেন তিনি, যেখানে অভিযুক্ত করা হয়েছে দুইজনকে।

তবে অভিযুক্তরা সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে পারিবারিক বিরোধ বলে দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “আমার কাছে লিখিত অভিযোগ এলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।”

কিন্তু আইনের এই আশ্বাসের মাঝেও ফেরদাউসির চোখে শুধু একটাই প্রশ্ন—তিনি কি আদৌ ফিরে পাবেন তার ন্যায্য অধিকার?
আজ তার কণ্ঠে একটাই আর্তি— “আমি বিচার চাই... আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে ন্যায়বিচার চাই।”

ফেরদাউসির এই আর্তনাদ শুধু একজন মায়ের নয়—এ যেন পুরো সমাজের কাছে এক নীরব প্রশ্ন, আমরা কি পারবো তার পাশে দাঁড়াতে ?

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :

০৪ মে, ২০২৬,  8:57 PM

news image

একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল স্বামীকে—কিন্তু সেই মৃত্যুর মধ্যেই শেষ হয়নি দুঃখের গল্প। বরং সেখান থেকেই শুরু হয় এক অসহায় নারীর জীবনের আরও নির্মম অধ্যায়।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বড় গাবুয়া গ্রামের দুই সন্তানের জননী মোসাঃ ফেরদাউসি—আজ তিনি শুধুই এক নাম নয়, বরং নির্যাতিত এক মায়ের প্রতিচ্ছবি, যিনি প্রতিদিন লড়ছেন বেঁচে থাকার জন্য।

স্বামী মোঃ শামিম প্যাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর ভেঙে পড়ে তার সাজানো সংসার। স্বামীর শোক বুকে নিয়েই তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন স্বামীর বাড়িতে, ভেবেছিলেন এটাই হবে তার শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ঘরই হয়ে ওঠে তার জন্য নির্যাতনের অন্ধকার কারাগার।
অভিযোগ উঠেছে—স্বামীর বড় ভাই মোঃ সোহাগ প্যাদা (৪৩) ও ননদের স্বামী ইব্রাহিম (৪৪) বারবার তাকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। 

একজন অসহায় বিধবা, দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মা—যখন মাথা নত না করে প্রতিবাদ করেন, তখনই নেমে আসে নির্মম নির্যাতন।

ফেরদাউসির কণ্ঠে তখন শুধু কান্না আর ক্ষোভ—“স্বামীর মৃত্যুর পর আমি একেবারে একা হয়ে গেছি। আমার সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে যা সহায়তা পেয়েছিলাম, সেটুকুও তারা ভাগ করে নিতে চেয়েছে। 

রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমার জমি, আমার বসতঘর—সবকিছু দখল করে নিয়েছে তারা ” । 
তিনি জানান, নিজের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা কটকবলা জমিও এখন আর তার নেই—সবকিছুই চলে গেছে অন্যের দখলে।

সব হারিয়ে আজ তিনি আশ্রয় নিয়েছেন বাবার বাড়িতে। সঙ্গে রয়েছে তার দুই অবুঝ সন্তান—রুমান (১৭) ও রুসান (৩)।

একজন কিশোর ছেলের চোখে এখন স্বপ্নের বদলে আতঙ্ক, আর ছোট্ট শিশুটির মুখে হাসির বদলে অনিশ্চয়তার ছায়া।

ঘটনার আরও হৃদয়বিদারক বর্ণনা দেয় তার বড় ছেলে রুমান। সে জানায়— “ঈদের একদিন পর বিকেলে আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম। সেই সুযোগে আমার চাচা আর ফুফা মিলে আমার মাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে। আমি এসে চিৎকার করলে তারা পালিয়ে যায়। 

পরে এলাকার মানুষ এসে আমার মাকে উদ্ধার করে ” এই বর্ণনা যেন শুধু একটি ঘটনার নয়—এটি এক সমাজের বিবেকের সামনে দাঁড়ানো কঠিন প্রশ্ন।

অবশেষে সব নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ফেরদাউসি আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন। গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পটুয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা (নং-৩৪) দায়ের করেন তিনি, যেখানে অভিযুক্ত করা হয়েছে দুইজনকে।

তবে অভিযুক্তরা সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে পারিবারিক বিরোধ বলে দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “আমার কাছে লিখিত অভিযোগ এলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।”

কিন্তু আইনের এই আশ্বাসের মাঝেও ফেরদাউসির চোখে শুধু একটাই প্রশ্ন—তিনি কি আদৌ ফিরে পাবেন তার ন্যায্য অধিকার?
আজ তার কণ্ঠে একটাই আর্তি— “আমি বিচার চাই... আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে ন্যায়বিচার চাই।”

ফেরদাউসির এই আর্তনাদ শুধু একজন মায়ের নয়—এ যেন পুরো সমাজের কাছে এক নীরব প্রশ্ন, আমরা কি পারবো তার পাশে দাঁড়াতে ?