দেশে সংস্কারের নামে সার্কাস চলছে - জিএম কাদের
শাকিল আহম্মেদ, রংপুর প্রতিনিধি :
১৫ জুলাই, ২০২৫, 12:13 AM
দেশে সংস্কারের নামে সার্কাস চলছে - জিএম কাদের
রংপুর জেলা প্রতিনিধি.
দেশে সংস্কারের নামে সার্কাস চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জিএম কাদের বলেন, সংস্কার ও বিচার একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রসেস। বিচার এখন না হউক দশ বছর পরও হবে। বিচারের জন্য আপনি ৫০ বছর অপেক্ষা করতে পারেন না। দেশের অনেক জ্ঞানী গুনি ব্যক্তি সংস্কারের কথা বলছেন বলে আমি মনে করি না। এই সরকারের সংস্কার কেউ গ্রহণ করছে না। নারী সংস্কার, এনবিআর এর সংস্কার, মিডিয়ার সংস্কার কেউ গ্রহণ করে নাই। তারা আমাদের আর একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়েছেন। তারা ৫০ ভাগ লোককে বাদ দিয়ে সংস্কারের কথা বলছেন। তারা একতরফা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। আমি আওয়ামীলীগের আমলে বলেছিলাম, বিএনপি জামায়াত কে ছাড়া নির্বাচন করবেন না, নির্বাচন করলে, অবাধসুষ্ঠু হবে না। সেই নির্বাচন দেশে ও দেশের বাইরে সমর্থন পাবে না। এই সরকারকেও বলবো, আপনি আওয়ামীলীগকে ভয় পাচ্ছেন। আওয়ামীলীগ বর্তমানে আধামরা অবস্থায় আছে, তারপরও আপনি আওয়ামীলীগকে ফেস করতে ভয় পাচ্ছেন, আমি আওয়ামীলীগ করি না।

তিনি আরো বলেন, মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মানুষ বাড়ি থেকে হয়ে পূণরায় বাসায় ফিরতে পারবে কি না সংশয় তৈরী হয়েছে, অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে। দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যারা মব তৈরী করে লুটপাট ও পেশী শক্তি দেখিয়েছে এতদিন, তারা আর তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। পুলিশ ও প্রশাসনকে কাজে লাগাতে না পারলে, মব দিয়ে ইলেকশন করবে এই সরকার। সেই মবের ইলেকশন কি দেশে ও বিদেশে সমর্থন পাবে। আমরা চাই, একটি ভালো নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ চালাবে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সংসদে জনগনের পক্ষে কথা বলেছিলাম জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে। কিন্তু পরক্ষণে তৎকালীন সরকারের চাপে পরে সরকারের পক্ষে বলেছিলাম। আমি মনে করি ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সরকারের কাছে জিম্মি হয়ে সার্কাস পাটি হয়েছিলো জাতীয় পার্টি। কিন্তু আমাদের সাথে থাকা কয়েকজন তৎকালীন সরকারের পক্ষ কথা বলেছেন। এখন আমি যখন বর্তমান সরকারের বিপক্ষে কথা বলছি, তখন সরকারের বিপক্ষে কথা বলায় আমার সাথে থাকা তাদের সম্ভব নয়। তাই তারা আমাকে মাইনাস করতে চেয়েছিলো। আমি তাদের বহিস্কার করেছি।
জিএম কাদের বলেন, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং অভিভাবকরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছিলো। তারা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলো। দেশের জনগন কাউকে এমন কোনো ম্যান্ডেট দেয় নাই। যে আপনারা সংবিধান ছুড়ে ফেলবেন কিংবা কাউকে ইসলামী দল গঠন করবেন। আবার নতুন সংবিধান তৈরী করবেন।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে সংসদে কথা বলেছিলাম। আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে ছিলাম। রংপুরের জাতীয় পার্টির দুই জন মারা গেছেন। কয়েকজন জেল খেটেছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের নামে হত্যা মামলা হয়েছে। আমাদের মেয়রকে হেনস্তা করা হয়েছে, ভয় দেখানো হয়েছে।
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রসিকের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসীর, কেন্দ্রীয় নেতা আজমল হোসেন লেবু, আব্দুর রাজ্জাকসহ জাতীয় পার্টির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এর আগে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে কবর জিয়ারত, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যুবরণ করেন।
শাকিল আহম্মেদ, রংপুর প্রতিনিধি :
১৫ জুলাই, ২০২৫, 12:13 AM
রংপুর জেলা প্রতিনিধি.
দেশে সংস্কারের নামে সার্কাস চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জিএম কাদের বলেন, সংস্কার ও বিচার একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রসেস। বিচার এখন না হউক দশ বছর পরও হবে। বিচারের জন্য আপনি ৫০ বছর অপেক্ষা করতে পারেন না। দেশের অনেক জ্ঞানী গুনি ব্যক্তি সংস্কারের কথা বলছেন বলে আমি মনে করি না। এই সরকারের সংস্কার কেউ গ্রহণ করছে না। নারী সংস্কার, এনবিআর এর সংস্কার, মিডিয়ার সংস্কার কেউ গ্রহণ করে নাই। তারা আমাদের আর একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়েছেন। তারা ৫০ ভাগ লোককে বাদ দিয়ে সংস্কারের কথা বলছেন। তারা একতরফা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। আমি আওয়ামীলীগের আমলে বলেছিলাম, বিএনপি জামায়াত কে ছাড়া নির্বাচন করবেন না, নির্বাচন করলে, অবাধসুষ্ঠু হবে না। সেই নির্বাচন দেশে ও দেশের বাইরে সমর্থন পাবে না। এই সরকারকেও বলবো, আপনি আওয়ামীলীগকে ভয় পাচ্ছেন। আওয়ামীলীগ বর্তমানে আধামরা অবস্থায় আছে, তারপরও আপনি আওয়ামীলীগকে ফেস করতে ভয় পাচ্ছেন, আমি আওয়ামীলীগ করি না।

তিনি আরো বলেন, মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মানুষ বাড়ি থেকে হয়ে পূণরায় বাসায় ফিরতে পারবে কি না সংশয় তৈরী হয়েছে, অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে। দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যারা মব তৈরী করে লুটপাট ও পেশী শক্তি দেখিয়েছে এতদিন, তারা আর তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। পুলিশ ও প্রশাসনকে কাজে লাগাতে না পারলে, মব দিয়ে ইলেকশন করবে এই সরকার। সেই মবের ইলেকশন কি দেশে ও বিদেশে সমর্থন পাবে। আমরা চাই, একটি ভালো নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ চালাবে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সংসদে জনগনের পক্ষে কথা বলেছিলাম জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে। কিন্তু পরক্ষণে তৎকালীন সরকারের চাপে পরে সরকারের পক্ষে বলেছিলাম। আমি মনে করি ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সরকারের কাছে জিম্মি হয়ে সার্কাস পাটি হয়েছিলো জাতীয় পার্টি। কিন্তু আমাদের সাথে থাকা কয়েকজন তৎকালীন সরকারের পক্ষ কথা বলেছেন। এখন আমি যখন বর্তমান সরকারের বিপক্ষে কথা বলছি, তখন সরকারের বিপক্ষে কথা বলায় আমার সাথে থাকা তাদের সম্ভব নয়। তাই তারা আমাকে মাইনাস করতে চেয়েছিলো। আমি তাদের বহিস্কার করেছি।
জিএম কাদের বলেন, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং অভিভাবকরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছিলো। তারা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলো। দেশের জনগন কাউকে এমন কোনো ম্যান্ডেট দেয় নাই। যে আপনারা সংবিধান ছুড়ে ফেলবেন কিংবা কাউকে ইসলামী দল গঠন করবেন। আবার নতুন সংবিধান তৈরী করবেন।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে সংসদে কথা বলেছিলাম। আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে ছিলাম। রংপুরের জাতীয় পার্টির দুই জন মারা গেছেন। কয়েকজন জেল খেটেছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের নামে হত্যা মামলা হয়েছে। আমাদের মেয়রকে হেনস্তা করা হয়েছে, ভয় দেখানো হয়েছে।
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রসিকের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসীর, কেন্দ্রীয় নেতা আজমল হোসেন লেবু, আব্দুর রাজ্জাকসহ জাতীয় পার্টির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এর আগে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে কবর জিয়ারত, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যুবরণ করেন।