কোম্পানীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিল ছাড়ে অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগ
মোহাম্মদ উল্যা, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
১২ জুলাই, ২০২৬, 8:36 PM
কোম্পানীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিল ছাড়ে অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন খাতের সরকারি বরাদ্দের বিল ছাড়ে অনিয়ম, বিলম্ব এবং ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জনবল সংকটের কারণে বিল ছাড়ে বিলম্ব হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগকারী একাধিক প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক জানান, উপজেলার প্রায় ৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কন্টিনজেন্সি বিল, বিদ্যুৎ বিল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ বরাদ্দ, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপনের ব্যয়, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার উপকরণ ক্রয় এবং ক্রীড়া কার্যক্রমের বরাদ্দের অর্থ জুলাই মাসের ১২ তারিখ অতিক্রম করলেও এখনো ছাড় করা হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রধান শিক্ষকরা আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ‘অডিট খরচ’ বা অন্যান্য অজুহাতে অবৈধ অর্থ দাবি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এই অর্থ আদায়ের জন্য কয়েকজন অসাধু প্রধান শিক্ষক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। ফলে অনেক প্রধান শিক্ষক অনিচ্ছা সত্ত্বেও চাপের মুখে পড়ছেন এবং শিক্ষা অফিস ও একটি প্রভাবশালী মহলের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি অর্থ সময়মতো ছাড় না হওয়ায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত ব্যয় নির্বাহ, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রমের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. আশরাফ-উল-আলম অভিযোগের সত্যতা নাকচ করে বলেন,
“অফিসে জনবল সংকট থাকায় বিল প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আজই বিলগুলো ছাড় করে দেওয়া হবে। ঘুষ বা অবৈধ অর্থ দাবি করার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”
অন্যদিকে অভিযোগকারী শিক্ষকদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। যদি কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা মধ্যস্থতাকারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ দাবি কিংবা সরকারি অর্থ ছাড়ে ইচ্ছাকৃত বিলম্বের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সময়মতো বরাদ্দ ছাড় নিশ্চিত করা হলে এমন অভিযোগের অবসান ঘটবে এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় অযথা জটিলতা সৃষ্টি হবে না। একই সঙ্গে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য—উভয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই হবে প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ।
মোহাম্মদ উল্যা, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
১২ জুলাই, ২০২৬, 8:36 PM
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন খাতের সরকারি বরাদ্দের বিল ছাড়ে অনিয়ম, বিলম্ব এবং ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জনবল সংকটের কারণে বিল ছাড়ে বিলম্ব হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগকারী একাধিক প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক জানান, উপজেলার প্রায় ৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কন্টিনজেন্সি বিল, বিদ্যুৎ বিল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ বরাদ্দ, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপনের ব্যয়, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার উপকরণ ক্রয় এবং ক্রীড়া কার্যক্রমের বরাদ্দের অর্থ জুলাই মাসের ১২ তারিখ অতিক্রম করলেও এখনো ছাড় করা হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রধান শিক্ষকরা আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ‘অডিট খরচ’ বা অন্যান্য অজুহাতে অবৈধ অর্থ দাবি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এই অর্থ আদায়ের জন্য কয়েকজন অসাধু প্রধান শিক্ষক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। ফলে অনেক প্রধান শিক্ষক অনিচ্ছা সত্ত্বেও চাপের মুখে পড়ছেন এবং শিক্ষা অফিস ও একটি প্রভাবশালী মহলের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি অর্থ সময়মতো ছাড় না হওয়ায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত ব্যয় নির্বাহ, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রমের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. আশরাফ-উল-আলম অভিযোগের সত্যতা নাকচ করে বলেন,
“অফিসে জনবল সংকট থাকায় বিল প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আজই বিলগুলো ছাড় করে দেওয়া হবে। ঘুষ বা অবৈধ অর্থ দাবি করার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”
অন্যদিকে অভিযোগকারী শিক্ষকদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। যদি কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা মধ্যস্থতাকারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ দাবি কিংবা সরকারি অর্থ ছাড়ে ইচ্ছাকৃত বিলম্বের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সময়মতো বরাদ্দ ছাড় নিশ্চিত করা হলে এমন অভিযোগের অবসান ঘটবে এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় অযথা জটিলতা সৃষ্টি হবে না। একই সঙ্গে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য—উভয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই হবে প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ।