ঢাকা ০৮ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
অপরাধ দমনে জিএমপির ছয় মাসের ‘সাঁড়াশি’ সাফল্য: মামলা ১৪৫৪, গ্রেপ্তার ৩২১৭  সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী শান্তিমিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরো জোরদারের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতি প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী গুলশান লেকের পরিবেশ রক্ষা ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ‘বেশ কয়েক বিলিয়ন’ ডলারের অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করবে মিত্ররা জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩টি বই সংরক্ষণের নির্দেশনা বাতিল করল সরকার ট্রাম্প বালোগুনের লাল কার্ড পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন, বহাল না রাখার নয়

অপরাধ দমনে জিএমপির ছয় মাসের ‘সাঁড়াশি’ সাফল্য: মামলা ১৪৫৪, গ্রেপ্তার ৩২১৭ 

#
news image

গাজীপুর মহানগরীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গত ছয় মাসে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ২১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন থানায় ১ হাজার ৪৫৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। জিএমপির দাবি, পরিকল্পিত অভিযান ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের কারণে মহানগরীর সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক জনাকীর্ণ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। তিনি বলেন, "অপরাধ দমনের পাশাপাশি মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জিএমপি।"
জিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় মাসে হত্যা মামলার সংখ্যা ২০টি, ডাকাতি ৭টি এবং ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে ২৮টি। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৭৬টি মামলা রুজু করা হয়েছে। বিশেষ অভিযানে ৪৬ জন ছিনতাইকারী, ২৩ জন ডাকাত এবং ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩৫৪ জনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৮৮ জন মাদক কারবারি ও ৯০১ জন মাদকসেবীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৬০ পিস ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি গাঁজা, প্রায় ২ কেজি হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথিডিন ও ৪৬ লিটার দেশীয় মদ। এই ঘটনায় মাদক সংক্রান্ত ৮১২টি এবং অস্ত্র আইনে ৬০টি মামলা হয়েছে। এছাড়া ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ব্যানারে সংঘটিত ঝটিকা মিছিল এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে ৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্তের কাজ চলছে। এছাড়া টঙ্গী পূর্ব এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা রোধেও কঠোর অভিযান চালিয়েছে জিএমপি। সেখান থেকে এ ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না।
জিএমপি কমিশনার আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে মাজার বস্তি, কেরানীর টেক ও এরশাদ নগরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শীর্ষ মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ব্যবস্থার কারণে অপহরণ ও ‘হানি ট্র্যাপ’-জাতীয় অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এমনকি গত ছয় মাসে উদ্ধার হওয়া ২০টি অজ্ঞাত লাশের মধ্যে ১৯টিরই নিখুঁত পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ, যা তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. তাহেররুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো. বেলায়েত হোসেনসহ জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
”অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের বাইরে কেউ নয়”—এমন কড়া বার্তা দিয়ে জিএমপি কমিশনার নিরাপদ গাজীপুর গড়ে তুলতে মহানগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

ইমন খান, গাজীপুর প্রতিনিধি :

০৭ জুলাই, ২০২৬,  8:25 PM

news image

গাজীপুর মহানগরীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গত ছয় মাসে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ২১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন থানায় ১ হাজার ৪৫৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। জিএমপির দাবি, পরিকল্পিত অভিযান ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের কারণে মহানগরীর সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক জনাকীর্ণ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। তিনি বলেন, "অপরাধ দমনের পাশাপাশি মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জিএমপি।"
জিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় মাসে হত্যা মামলার সংখ্যা ২০টি, ডাকাতি ৭টি এবং ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে ২৮টি। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৭৬টি মামলা রুজু করা হয়েছে। বিশেষ অভিযানে ৪৬ জন ছিনতাইকারী, ২৩ জন ডাকাত এবং ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩৫৪ জনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৮৮ জন মাদক কারবারি ও ৯০১ জন মাদকসেবীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৬০ পিস ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি গাঁজা, প্রায় ২ কেজি হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথিডিন ও ৪৬ লিটার দেশীয় মদ। এই ঘটনায় মাদক সংক্রান্ত ৮১২টি এবং অস্ত্র আইনে ৬০টি মামলা হয়েছে। এছাড়া ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ব্যানারে সংঘটিত ঝটিকা মিছিল এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে ৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্তের কাজ চলছে। এছাড়া টঙ্গী পূর্ব এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা রোধেও কঠোর অভিযান চালিয়েছে জিএমপি। সেখান থেকে এ ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না।
জিএমপি কমিশনার আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে মাজার বস্তি, কেরানীর টেক ও এরশাদ নগরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শীর্ষ মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ব্যবস্থার কারণে অপহরণ ও ‘হানি ট্র্যাপ’-জাতীয় অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এমনকি গত ছয় মাসে উদ্ধার হওয়া ২০টি অজ্ঞাত লাশের মধ্যে ১৯টিরই নিখুঁত পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ, যা তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. তাহেররুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো. বেলায়েত হোসেনসহ জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
”অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের বাইরে কেউ নয়”—এমন কড়া বার্তা দিয়ে জিএমপি কমিশনার নিরাপদ গাজীপুর গড়ে তুলতে মহানগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।