ঢাকা ২০ জুন, ২০২৬
শিরোনামঃ
মাধবপুরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, বাস আটক যুদ্ধবিরতির পর লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত ১৮, ট্রাম্পের চুক্তি নিয়ে ক্ষুব্ধ কট্টরপন্থীরা শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান: প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরে ফল মেলা: ৩৫ কেজির কাঁঠাল দেখে মন্ত্রীর সন্তোষ, দেশব্যাপী প্রচারের আশ্বাস কৃষ্ণ সাগরে দুটি বেসামরিক জাহাজে রুশ ড্রোন হামলায় হতাহত ৬ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে প্রাথমিক শিক্ষকদের সতর্ক করল অধিদপ্তর, অমান্য করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রথম দল হিসেবে নক আউট পর্বে মেক্সিকো কোম্পানীগঞ্জে অবৈধ বালু পরিবহনে অতিষ্ঠ জনজীবন: অনিয়ম রুখতে রাজনৈতিক ও সামাজিক তৎপরতা, জনমনে স্বস্তি ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম অব্যবস্থাপনা: অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জনবল সংকটে ক্ষুব্ধ রোগীরা নৌকায় বসেই গ্রাম আদালতের জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের সাথে ব্যতিক্রমী বৈঠক

গাজীপুরে ফল মেলা: ৩৫ কেজির কাঁঠাল দেখে মন্ত্রীর সন্তোষ, দেশব্যাপী প্রচারের আশ্বাস

#
news image

গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী ফলের বহুমুখী ব্যবহার ও প্রচার-প্রসার বৃদ্ধিতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণার আশ্বাস দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আজ শুক্রবার এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গাজীপুর জেলা সদর উপজেলা চত্বরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ফল মেলা-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই আশ্বাস দেন।

গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ‘ফল মেলা’ এবং কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

এবারের মেলায় দেশীয় বিভিন্ন জাতের মোট ৩৪ প্রকার ফল প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির কাঁঠাল, যা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করা হয়। বিশাল আকৃতির এই কাঁঠাল দেখে মন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, গাজীপুরের কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানির জোর প্রচেষ্টা চলছে। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাজার রয়েছে, যা সুষ্ঠু প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সঠিক বাজারজাতকরণের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব। তিনি গাজীপুরের কাঁঠালের ব্যাপক প্রচার-প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে ফল মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “ফল মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে দেশীয় ফলের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত করা এবং এসব ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে দেশীয় ফলের ব্যবহার বাড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা।” তিনি দেশীয় ফল, ফুল ও গাছপালার সংরক্ষণ এবং ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গাজীপুর জেলায় ৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে এবং মোট উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টন। বক্তারা বলেন, গাজীপুরের ভাওয়াল অঞ্চলের উঁচু লাল মাটি, অনুকূল আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণেই এখানকার কাঁঠাল আকারে বড় এবং স্বাদে অনন্য হয়।

গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মইন খান এলিস, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক এবং অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আবদুল মতিন বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পরিবেশ উন্নয়ন ও ফল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে ৬০ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে এই প্রণোদনা বিতরণ করা হয়। এর আওতায় প্রত্যেক কৃষককে পাঁচটি করে উন্নত জাতের ফলদ গাছের চারা, পাঁচটি করে বাঁশের খুঁটি এবং ৪০ কেজি করে পরিবেশবান্ধব ভার্মি কম্পোস্ট (জৈব সার) বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। কৃষিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব সারের ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয় অনুষ্ঠানে।

ইমন খান, গাজীপুর প্রতিনিধি :

১৯ জুন, ২০২৬,  6:55 PM

news image

গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী ফলের বহুমুখী ব্যবহার ও প্রচার-প্রসার বৃদ্ধিতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণার আশ্বাস দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আজ শুক্রবার এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গাজীপুর জেলা সদর উপজেলা চত্বরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ফল মেলা-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই আশ্বাস দেন।

গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ‘ফল মেলা’ এবং কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

এবারের মেলায় দেশীয় বিভিন্ন জাতের মোট ৩৪ প্রকার ফল প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির কাঁঠাল, যা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করা হয়। বিশাল আকৃতির এই কাঁঠাল দেখে মন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, গাজীপুরের কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানির জোর প্রচেষ্টা চলছে। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাজার রয়েছে, যা সুষ্ঠু প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সঠিক বাজারজাতকরণের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব। তিনি গাজীপুরের কাঁঠালের ব্যাপক প্রচার-প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে ফল মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “ফল মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে দেশীয় ফলের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত করা এবং এসব ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে দেশীয় ফলের ব্যবহার বাড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা।” তিনি দেশীয় ফল, ফুল ও গাছপালার সংরক্ষণ এবং ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গাজীপুর জেলায় ৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে এবং মোট উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টন। বক্তারা বলেন, গাজীপুরের ভাওয়াল অঞ্চলের উঁচু লাল মাটি, অনুকূল আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণেই এখানকার কাঁঠাল আকারে বড় এবং স্বাদে অনন্য হয়।

গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মইন খান এলিস, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক এবং অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আবদুল মতিন বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পরিবেশ উন্নয়ন ও ফল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে ৬০ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে এই প্রণোদনা বিতরণ করা হয়। এর আওতায় প্রত্যেক কৃষককে পাঁচটি করে উন্নত জাতের ফলদ গাছের চারা, পাঁচটি করে বাঁশের খুঁটি এবং ৪০ কেজি করে পরিবেশবান্ধব ভার্মি কম্পোস্ট (জৈব সার) বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। কৃষিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব সারের ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয় অনুষ্ঠানে।