তেঁতুলিয়ায় সেনাবাহিনীতে কর্মরত বৃষ্টির হাতে ১৪ বছরের গৃহকর্মী মুক্তি নির্যাতিত
পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
১৬ এপ্রিল, ২০২৬, 10:58 PM
তেঁতুলিয়ায় সেনাবাহিনীতে কর্মরত বৃষ্টির হাতে ১৪ বছরের গৃহকর্মী মুক্তি নির্যাতিত
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত মাসুমা পারভীন বৃষ্টির হাতে ১৪ বছরের গৃহকর্মী মামুনি আক্তার মুক্তি (ডলি) কে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিত মামুনি আক্তার মুক্তি উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের শালবাহান বাজার এলাকার আব্দুল করিমের মেয়ে। অপরদিকে সেনাবাহিনীতে কর্মরত বৃষ্টি একই এলাকার ইয়াকুব আলীর মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুমা পারভীন বৃষ্টির উপজেলার সিপাইপাড়া ইউনিয়নের সিপাইপাড়া এলাকার উত্তর গিঘলগাঁও গ্রামের রশিদ মাষ্টারের ছেলে শ্যামলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে। শ্যামল তার স্ত্রীর সঙ্গেই অবস্থান করেন। আরও জানা যায়, বৃষ্টি বগুড়া সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে চাকরি করেন। সে সেনাবাহিনীর কর্পোরাল পদে রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে বগুড়া সেনানিবাসের ক্যান্টনমেন্ট একক্সিকিউটিভ অফিসার(সিইও) ফিরোজা পারভীনকে ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া নম্বরে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্পোরাল অফিসারের নিপীড়নের শিকার হয়ে শারীরিক অসুস্থায় অবশেষে শিশু মুক্তি তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১০টায় ভর্তি হয়েছেন। ভর্তির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৬৬৭/৭৯। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক হৈ চৈ হলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এর বিচার শেষ পর্যন্ত হবে কিনা, তা নিয়ে অনেকই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
নির্যাতিত শিশু মামুনি আক্তার মুক্তি অভিযোগ করে বলেন, সেনাবাহিনীতে চাকরি করে চাচাতো বোন বৃষ্টি তার বাচ্চাদের দেখাশোনা, পড়ালেখা সহ ভরণপোষণের দায়িত্বে নিয়ে গিয়ে কোনো পড়ালেখা করাননি, ঠিকমতো ভরণপোষণও দেয়নি। মুক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাথার চুল কেটে দিয়েছে। মুক্তিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছে। তিনি বলেন, তাকে খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দিয়েছে, নাকে বাড়ি মারছে, পায়ের নখে মারছে, হাটুতে মারছে, আঙ্গুলে মারছে, হাতে ছেঁকা দিয়ে সেই ছেঁকার দাগ যেন কেউ বুঝতে না পারে মেহেদী লাগিয়ে দেয়। এছাড়া মুক্তিকে নিয়ে গ্রামের বাসায় এলে মুক্তির বাবার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। মুক্তির বাবার পাঠানো টাকাও কেড়ে নেন বৃষ্টি। তার পারিশ্রমিক হিসেবে তাকে একটি কানাকড়িও দেয়নি। মুক্তি আরও বলেন, তিনি হাসপাতালে ভর্তি হলে তার বড় আব্বা ইয়াকুব আলী হাসপাতালে গিয়ে তাকে ধমক ও হুমকি দেয়। নির্যাতনের স্বীকার মুক্তি উপযুক্ত বিচারের দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।
এ বিষয়ে জানতে নির্যাতনকারী বৃষ্টি তার বাবার বাসায় রয়েছে খবর পেয়ে সেখানে গেলে কথা হয় ইয়াকুব আলীর সঙ্গে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির চাকরি হওয়ার পর যখন তার বাচ্চা হয় তখন মুক্তিকে নিয়ে যায়। মুক্তি(ডলি) হচ্ছে ওর ছোট চাচার মেয়ে আর বৃষ্টি হচ্ছে ওর বড় আব্বার মেয়ে কোনো পার্থক্য আছে। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কত বলছে ৯বছর? এই ৯বছরে আমরা যাওয়া আসা করিনি, ও আসা যাওয়া করেনা, মারধর কি করছে? করতে পারে, একটা ছাগল থাকলেও তো দুটা বাড়ি দেয় মানুষ।’ এসব কথা বলার পর বৃষ্টির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেনা জানানো হয়। অবশেষে বৃষ্টির নম্বর নিয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করার পর জানানো হয়, হাইয়ার অথরিটির অনুমতি ছাড়া কথা বলতে পারবেনা তিনি।
মুক্তির বাবা আব্দুল করিম বলেন, তিনি অসহায় হওয়ার তার বড় ভাই ইয়াকুব মেয়েকে বৃষ্টির কাছে নিয়ে যায়। নিয়ে গিয়ে মেয়েকে ঠিকমত ভরণপোষন দেয়নি। মুক্তিকে পাঠানো টাকাও বৃষ্টি কেড়ে নেয় এবং মারধর করেন।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটি সত্য হলে এমনটি করা ঠিক হয়নি। এই ঘটনায় দৃষ্টান্ত মূলক বিচারের দাবি জানান অনেকেই।
তেঁতুলিয়া মডেল সূত্রে জানা যায়, এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
১৬ এপ্রিল, ২০২৬, 10:58 PM
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত মাসুমা পারভীন বৃষ্টির হাতে ১৪ বছরের গৃহকর্মী মামুনি আক্তার মুক্তি (ডলি) কে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিত মামুনি আক্তার মুক্তি উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের শালবাহান বাজার এলাকার আব্দুল করিমের মেয়ে। অপরদিকে সেনাবাহিনীতে কর্মরত বৃষ্টি একই এলাকার ইয়াকুব আলীর মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুমা পারভীন বৃষ্টির উপজেলার সিপাইপাড়া ইউনিয়নের সিপাইপাড়া এলাকার উত্তর গিঘলগাঁও গ্রামের রশিদ মাষ্টারের ছেলে শ্যামলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে। শ্যামল তার স্ত্রীর সঙ্গেই অবস্থান করেন। আরও জানা যায়, বৃষ্টি বগুড়া সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে চাকরি করেন। সে সেনাবাহিনীর কর্পোরাল পদে রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে বগুড়া সেনানিবাসের ক্যান্টনমেন্ট একক্সিকিউটিভ অফিসার(সিইও) ফিরোজা পারভীনকে ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া নম্বরে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্পোরাল অফিসারের নিপীড়নের শিকার হয়ে শারীরিক অসুস্থায় অবশেষে শিশু মুক্তি তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১০টায় ভর্তি হয়েছেন। ভর্তির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৬৬৭/৭৯। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক হৈ চৈ হলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এর বিচার শেষ পর্যন্ত হবে কিনা, তা নিয়ে অনেকই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
নির্যাতিত শিশু মামুনি আক্তার মুক্তি অভিযোগ করে বলেন, সেনাবাহিনীতে চাকরি করে চাচাতো বোন বৃষ্টি তার বাচ্চাদের দেখাশোনা, পড়ালেখা সহ ভরণপোষণের দায়িত্বে নিয়ে গিয়ে কোনো পড়ালেখা করাননি, ঠিকমতো ভরণপোষণও দেয়নি। মুক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাথার চুল কেটে দিয়েছে। মুক্তিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছে। তিনি বলেন, তাকে খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দিয়েছে, নাকে বাড়ি মারছে, পায়ের নখে মারছে, হাটুতে মারছে, আঙ্গুলে মারছে, হাতে ছেঁকা দিয়ে সেই ছেঁকার দাগ যেন কেউ বুঝতে না পারে মেহেদী লাগিয়ে দেয়। এছাড়া মুক্তিকে নিয়ে গ্রামের বাসায় এলে মুক্তির বাবার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। মুক্তির বাবার পাঠানো টাকাও কেড়ে নেন বৃষ্টি। তার পারিশ্রমিক হিসেবে তাকে একটি কানাকড়িও দেয়নি। মুক্তি আরও বলেন, তিনি হাসপাতালে ভর্তি হলে তার বড় আব্বা ইয়াকুব আলী হাসপাতালে গিয়ে তাকে ধমক ও হুমকি দেয়। নির্যাতনের স্বীকার মুক্তি উপযুক্ত বিচারের দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।
এ বিষয়ে জানতে নির্যাতনকারী বৃষ্টি তার বাবার বাসায় রয়েছে খবর পেয়ে সেখানে গেলে কথা হয় ইয়াকুব আলীর সঙ্গে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির চাকরি হওয়ার পর যখন তার বাচ্চা হয় তখন মুক্তিকে নিয়ে যায়। মুক্তি(ডলি) হচ্ছে ওর ছোট চাচার মেয়ে আর বৃষ্টি হচ্ছে ওর বড় আব্বার মেয়ে কোনো পার্থক্য আছে। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কত বলছে ৯বছর? এই ৯বছরে আমরা যাওয়া আসা করিনি, ও আসা যাওয়া করেনা, মারধর কি করছে? করতে পারে, একটা ছাগল থাকলেও তো দুটা বাড়ি দেয় মানুষ।’ এসব কথা বলার পর বৃষ্টির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেনা জানানো হয়। অবশেষে বৃষ্টির নম্বর নিয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করার পর জানানো হয়, হাইয়ার অথরিটির অনুমতি ছাড়া কথা বলতে পারবেনা তিনি।
মুক্তির বাবা আব্দুল করিম বলেন, তিনি অসহায় হওয়ার তার বড় ভাই ইয়াকুব মেয়েকে বৃষ্টির কাছে নিয়ে যায়। নিয়ে গিয়ে মেয়েকে ঠিকমত ভরণপোষন দেয়নি। মুক্তিকে পাঠানো টাকাও বৃষ্টি কেড়ে নেয় এবং মারধর করেন।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটি সত্য হলে এমনটি করা ঠিক হয়নি। এই ঘটনায় দৃষ্টান্ত মূলক বিচারের দাবি জানান অনেকেই।
তেঁতুলিয়া মডেল সূত্রে জানা যায়, এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।