বাইশ বছর ধরে তালাবদ্ধ পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন কক্ষ।
পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি :
১৬ এপ্রিল, ২০২৬, 10:51 PM
বাইশ বছর ধরে তালাবদ্ধ পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন কক্ষ।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার মানুষের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ভরসা ১০ শয্যার পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) দীর্ঘ ২২ বছর ধরে তালাবদ্ধ। ফলে জরুরি অপারেশনসহ নানা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সীমিত পরিসরে অপারেশন কার্যক্রম চালু ছিল। তৎকালীন চিকিৎসক ডা. শহীদ তালুকদার ও ডা. জয়া চাকমার উদ্যোগে কিছুদিন সেবার গতি ফিরলেও তাঁদের বদলির পর অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর চালু হয়নি ওটির কার্যক্রম। দীর্ঘদিন অব্যবহারে পড়ে থাকায় অপারেশন কক্ষের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে, কক্ষজুড়ে জমেছে ধুলাবালি, এমনকি সেখানে মাকড়সার বাসাও দেখা গেছে।
বর্তমানে হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স থাকলেও অপারেশন সুবিধা না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল কিংবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে জরুরি রোগীদের জীবনঝুঁকিও বাড়ছে।
হাসপাতালে বর্তমানে কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. তারিকুল ইসলাম তারেক ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মিনাক্ষী চাকমা। তবে দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও ওটি চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাঁদের অভিযোগ, এটি কেবল জনবল সংকট নয়, বরং প্রশাসনিক উদাসীনতারও ফল।
পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকলেও অপারেশন থিয়েটার চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অপারেশন থিয়েটার চালুর দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ রয়েছে। জনবল নিয়োগের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট রয়েছেন। দ্রুতই অপারেশন থিয়েটার চালুর আশা করছি।”
গাইনি কনসালটেন্ট ডা. মিনাক্ষী চাকমা বলেন, “২০০৪ সালের পর থেকে প্রায় ২২ বছর অপারেশন বন্ধ রয়েছে। কনসালটেন্ট থাকলেও প্রশিক্ষিত টিমের অভাবে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম পেলে দ্রুত অপারেশন শুরু করা সম্ভব।”
অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট ডা. তারিকুল ইসলাম তারেক জানান, “প্রায় ২২ বছর ধরে অপারেশন বন্ধ রয়েছে। যন্ত্রপাতি পরীক্ষা ও পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করে, নতুন গাইনি সার্জনসহ দ্রুত সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।”
দীর্ঘ দুই যুগ ধরে একটি অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকা শুধু একটি হাসপাতালের ব্যর্থতা নয়, এটি একটি জনপদের স্বাস্থ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার নির্মম চিত্র। পাহাড়ি জনপদের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হলে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার দ্রুত চালু করা এখন সময়ের দাবি।
পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি :
১৬ এপ্রিল, ২০২৬, 10:51 PM
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার মানুষের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ভরসা ১০ শয্যার পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) দীর্ঘ ২২ বছর ধরে তালাবদ্ধ। ফলে জরুরি অপারেশনসহ নানা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সীমিত পরিসরে অপারেশন কার্যক্রম চালু ছিল। তৎকালীন চিকিৎসক ডা. শহীদ তালুকদার ও ডা. জয়া চাকমার উদ্যোগে কিছুদিন সেবার গতি ফিরলেও তাঁদের বদলির পর অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর চালু হয়নি ওটির কার্যক্রম। দীর্ঘদিন অব্যবহারে পড়ে থাকায় অপারেশন কক্ষের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে, কক্ষজুড়ে জমেছে ধুলাবালি, এমনকি সেখানে মাকড়সার বাসাও দেখা গেছে।
বর্তমানে হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স থাকলেও অপারেশন সুবিধা না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল কিংবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে জরুরি রোগীদের জীবনঝুঁকিও বাড়ছে।
হাসপাতালে বর্তমানে কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. তারিকুল ইসলাম তারেক ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মিনাক্ষী চাকমা। তবে দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও ওটি চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাঁদের অভিযোগ, এটি কেবল জনবল সংকট নয়, বরং প্রশাসনিক উদাসীনতারও ফল।
পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকলেও অপারেশন থিয়েটার চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অপারেশন থিয়েটার চালুর দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ রয়েছে। জনবল নিয়োগের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট রয়েছেন। দ্রুতই অপারেশন থিয়েটার চালুর আশা করছি।”
গাইনি কনসালটেন্ট ডা. মিনাক্ষী চাকমা বলেন, “২০০৪ সালের পর থেকে প্রায় ২২ বছর অপারেশন বন্ধ রয়েছে। কনসালটেন্ট থাকলেও প্রশিক্ষিত টিমের অভাবে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম পেলে দ্রুত অপারেশন শুরু করা সম্ভব।”
অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট ডা. তারিকুল ইসলাম তারেক জানান, “প্রায় ২২ বছর ধরে অপারেশন বন্ধ রয়েছে। যন্ত্রপাতি পরীক্ষা ও পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করে, নতুন গাইনি সার্জনসহ দ্রুত সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।”
দীর্ঘ দুই যুগ ধরে একটি অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকা শুধু একটি হাসপাতালের ব্যর্থতা নয়, এটি একটি জনপদের স্বাস্থ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার নির্মম চিত্র। পাহাড়ি জনপদের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হলে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার দ্রুত চালু করা এখন সময়ের দাবি।