ঢাকা ০৯ জুন, ২০২৬
শিরোনামঃ
চাখার-মীরেরহাট সড়ক সংস্কারে চরম ধীরগতি: দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ বঙ্গোপসাগর রক্ষার শপথ নিলেন শতাধিক তরুণ পরিবেশকর্মী ইসরাইলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের জয় দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ শিল্পকলায় উদীয়মান নাট্যনির্দেশকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ সিলেট অঞ্চলের প্রতিযোগিতায় হবিগঞ্জ জেলার বিজয়ীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জেলা প্রশাসক  হবিগঞ্জ নওগাঁয় ৪০ লাখ টাকার গাঁজা উদ্ধার, শীর্ষ দুই মাদক সম্রাট গ্রেফতার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বঞ্চিত, তালিকায় স্বজনপ্রীতির, শাল্লায় কৃষকদের প্রতিবাদ মিছিল  নীলফামারীর ডোমার বিএডিসি খামারে  মাটির উর্বরতা ফিরাতে ধইঞ্চা চাষ ফটিকছড়িতে বিষপানে যুবকের আত্নহত্যা

নির্বাচনী অপরাধ বিচারে ইসির ৬৫৫ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

#
news image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচনী অপরাধ সশরীরে আমলে নিয়ে তা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য সারা দেশে ৬৫৫ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকরা আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ দিন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাবলে দায়িত্ব পালন করবেন। 

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ ভোটগ্রহণের পূর্বের দুই দিন, ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোটগ্রহণের পরের দুই দিন তারা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। 

আইনি এখতিয়ার প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’ (পি.ও. নং, ১৫৫ অব ১৯৭২) এর অনুচ্ছেদ ৮৯ এ-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

আইন ও বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে জুডিসিয়াল সার্ভিসের এই কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। তারা মূলত নির্বাচনী অপরাধসমূহ যেমন— ভোটদানে বাধা প্রদান, কেন্দ্র দখল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন তফসিলি অপরাধের ক্ষেত্রে ‘দ্য কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর ১৯০ (১) ধারা অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক বিচার (সামারি ট্রায়াল) কার্য পরিচালনা করবেন।

প্রজ্ঞাপনে একগুচ্ছ নির্দেশনা : 

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এগুলো হলো— 

ক) নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার পূর্বাহ্নে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যোগদান করতে হবে। যোগদান পত্রের একটি কপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর প্রেরণ করতে হবে।

খ) দায়িত্ব পালনকালে কোনো নির্বাচনী অপরাধ বিচারার্থে আমলে নেওয়া হলে তা ‘সামারি ট্রায়াল’ বা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। বিচারের ফলাফল বা নিষ্পত্তির বিবরণী (ডিসপোজাল স্টেটমেন্ট) পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসি সচিবালয়ের আইন শাখায় নির্ধারিত ছকে পাঠাতে হবে।

গ) বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেট একজন করে বেঞ্চ সহকারী, স্টেনোগ্রাফার অথবা অফিস সহকারীকে সহায়ক স্টাফ হিসেবে সাথে নিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট জেলার বিচারকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঘ) ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী জিপ, মাইক্রোবাস কিংবা স্পিডবোটসহ প্রয়োজনীয় যানবাহনের সংস্থান করবেন।

ঙ) বিচারকদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার কিংবা স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, সারা দেশের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার জন্য এই ৬৫৫ জন বিচারককে সুনির্দিষ্ট অধিক্ষেত্র ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়-১ আসন থেকে শুরু করে বান্দরবান- মোট ৩০০ আসন পর্যন্ত প্রতিটি সংসদীয় আসনে এক বা একাধিক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  9:05 PM

news image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচনী অপরাধ সশরীরে আমলে নিয়ে তা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য সারা দেশে ৬৫৫ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকরা আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ দিন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাবলে দায়িত্ব পালন করবেন। 

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ ভোটগ্রহণের পূর্বের দুই দিন, ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোটগ্রহণের পরের দুই দিন তারা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। 

আইনি এখতিয়ার প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’ (পি.ও. নং, ১৫৫ অব ১৯৭২) এর অনুচ্ছেদ ৮৯ এ-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

আইন ও বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে জুডিসিয়াল সার্ভিসের এই কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। তারা মূলত নির্বাচনী অপরাধসমূহ যেমন— ভোটদানে বাধা প্রদান, কেন্দ্র দখল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন তফসিলি অপরাধের ক্ষেত্রে ‘দ্য কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর ১৯০ (১) ধারা অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক বিচার (সামারি ট্রায়াল) কার্য পরিচালনা করবেন।

প্রজ্ঞাপনে একগুচ্ছ নির্দেশনা : 

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এগুলো হলো— 

ক) নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার পূর্বাহ্নে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যোগদান করতে হবে। যোগদান পত্রের একটি কপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর প্রেরণ করতে হবে।

খ) দায়িত্ব পালনকালে কোনো নির্বাচনী অপরাধ বিচারার্থে আমলে নেওয়া হলে তা ‘সামারি ট্রায়াল’ বা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। বিচারের ফলাফল বা নিষ্পত্তির বিবরণী (ডিসপোজাল স্টেটমেন্ট) পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসি সচিবালয়ের আইন শাখায় নির্ধারিত ছকে পাঠাতে হবে।

গ) বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেট একজন করে বেঞ্চ সহকারী, স্টেনোগ্রাফার অথবা অফিস সহকারীকে সহায়ক স্টাফ হিসেবে সাথে নিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট জেলার বিচারকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঘ) ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী জিপ, মাইক্রোবাস কিংবা স্পিডবোটসহ প্রয়োজনীয় যানবাহনের সংস্থান করবেন।

ঙ) বিচারকদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার কিংবা স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, সারা দেশের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার জন্য এই ৬৫৫ জন বিচারককে সুনির্দিষ্ট অধিক্ষেত্র ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়-১ আসন থেকে শুরু করে বান্দরবান- মোট ৩০০ আসন পর্যন্ত প্রতিটি সংসদীয় আসনে এক বা একাধিক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।