নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে খেয়াঘাটে দখল ও লুট স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে বাধা কোথায়
শাহাদাত হোসেন, নোয়াখালী প্রতিনিধি :
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, 6:22 PM
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে খেয়াঘাটে দখল ও লুট স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে বাধা কোথায়
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরএলাহী ইউনিয়নের খেয়াঘাট দখল ও সরকারিভাবে আদায়কৃত রাজস্ব লুটের অভিযোগে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঘাটব্যবস্থাপনা।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলের পরিচয়ধারী কয়েকজন স্থানীয় কর্মীরা ঘাট দখল ও সরকারি রাজস্ব লুট করেছে,এমন অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, খেয়াঘাটের আয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক দলের দুই,তিনটি পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন, দখল, আধিপত্য বিস্তার ও সংঘর্ষ প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক।
যাত্রীরা বলেন,য়ার ফলে প্রকৃত ইজারাদার, সাধারণ মাঝি,মাল্লা ও যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। অতিরিক্ত ভাড়া,ভয়ভীতি, মারধর ও হয়রানি এসব অভিযোগ বহুদিনের।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা এলাকা ছাড়লে ঘাটটি দখলে নেন চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন তোতার ছেলেরা,এখন দেখা যাচ্ছে আরও কয়েক গ্রুপ রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে দখল ও রাজস্ব আদায়ের টাকা লুট।
গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সাবেক ইউএনও তানভীর ফরহাদ শামীম ঘাটটি আবার সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে খাস রাজস্ব আদায় শুরু করেন।
এরপরও ঘাটের রাজস্ব নিরাপদে আদায় করা চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ প্রশাসনের।
গণমাধ্যম কর্মীরা জিজ্ঞেস করলে বলে, ইজারা আমরা নিয়েছি,প্রশাসনকে টাকা দেওয়া হয়েছে,দলের সিনিয়র নেতাদের ভাগ দেওয়া হয়,এসব অজুহাত দেখিয়েই কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘাটকে নিজেদের দখলে রাখেন।
ফলে প্রকৃত ইজারাদার, সাধারণ মাঝি-মাল্লা ও যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। অতিরিক্ত ভাড়া, ভয়ভীতি, মারধর ও হয়রানি এসব অভিযোগ বহুদিনের।
পরে একটি পক্ষ ঘাটকে আন্তঃজেলা সীমায় দাবি করে, উচ্চ আদালতে রিট করলে বিষয়টি স্থগিত হয়ে যায়।
চরএলাহীর বাসিন্দাদের অভিযোগ,একটি ঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু নিরাপদে ওঠা,নামাও যেন ভাগ্যের ওপর।
ঘাটে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ভাড়া দাবি, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ‘দলীয় পরিচয়’ দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
প্রশাসনের ভেতরের ‘অদৃশ্য বাধা কোথায়? উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাঠপর্যায়ে চারটি বড় বাধা ঘাটব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলছে, 'রাজনৈতিক চাপ' প্রভাবশালীদের কারণে অবৈধ নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে প্রশাসন হুমকি-চাপে থাকে।'জনবল সংকট' নিয়মিত মনিটরিং করার মতো পর্যাপ্ত লোকবল নেই।'আইন প্রয়োগে বাধা' ব্যবস্থা নিলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে, টেকসই পদক্ষেপ ঝুঁকির মুখে পড়ে।'ইজারা ব্যবস্থার দুর্বলতা' অনেক ঘাটই নিয়মিত ইজারায় না যাওয়ায় দখলদারদের সুযোগ বাড়ে।
ঘাটব্যবস্থাপনা একটি সরকারি দায়িত্ব হলেও বাস্তবে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, ইজারা জটিলতা, এবং দুর্বল মনিটরিংই ঘাটগুলোকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ করে তুলছে। চরলেংটা খেয়াঘাটের সাম্প্রতিক ঘটনা সেই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যারই আরেকটি উদাহরণ।
শাহাদাত হোসেন, নোয়াখালী প্রতিনিধি :
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, 6:22 PM
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরএলাহী ইউনিয়নের খেয়াঘাট দখল ও সরকারিভাবে আদায়কৃত রাজস্ব লুটের অভিযোগে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঘাটব্যবস্থাপনা।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলের পরিচয়ধারী কয়েকজন স্থানীয় কর্মীরা ঘাট দখল ও সরকারি রাজস্ব লুট করেছে,এমন অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, খেয়াঘাটের আয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক দলের দুই,তিনটি পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন, দখল, আধিপত্য বিস্তার ও সংঘর্ষ প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক।
যাত্রীরা বলেন,য়ার ফলে প্রকৃত ইজারাদার, সাধারণ মাঝি,মাল্লা ও যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। অতিরিক্ত ভাড়া,ভয়ভীতি, মারধর ও হয়রানি এসব অভিযোগ বহুদিনের।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা এলাকা ছাড়লে ঘাটটি দখলে নেন চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন তোতার ছেলেরা,এখন দেখা যাচ্ছে আরও কয়েক গ্রুপ রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে দখল ও রাজস্ব আদায়ের টাকা লুট।
গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সাবেক ইউএনও তানভীর ফরহাদ শামীম ঘাটটি আবার সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে খাস রাজস্ব আদায় শুরু করেন।
এরপরও ঘাটের রাজস্ব নিরাপদে আদায় করা চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ প্রশাসনের।
গণমাধ্যম কর্মীরা জিজ্ঞেস করলে বলে, ইজারা আমরা নিয়েছি,প্রশাসনকে টাকা দেওয়া হয়েছে,দলের সিনিয়র নেতাদের ভাগ দেওয়া হয়,এসব অজুহাত দেখিয়েই কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘাটকে নিজেদের দখলে রাখেন।
ফলে প্রকৃত ইজারাদার, সাধারণ মাঝি-মাল্লা ও যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। অতিরিক্ত ভাড়া, ভয়ভীতি, মারধর ও হয়রানি এসব অভিযোগ বহুদিনের।
পরে একটি পক্ষ ঘাটকে আন্তঃজেলা সীমায় দাবি করে, উচ্চ আদালতে রিট করলে বিষয়টি স্থগিত হয়ে যায়।
চরএলাহীর বাসিন্দাদের অভিযোগ,একটি ঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু নিরাপদে ওঠা,নামাও যেন ভাগ্যের ওপর।
ঘাটে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ভাড়া দাবি, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ‘দলীয় পরিচয়’ দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
প্রশাসনের ভেতরের ‘অদৃশ্য বাধা কোথায়? উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাঠপর্যায়ে চারটি বড় বাধা ঘাটব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলছে, 'রাজনৈতিক চাপ' প্রভাবশালীদের কারণে অবৈধ নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে প্রশাসন হুমকি-চাপে থাকে।'জনবল সংকট' নিয়মিত মনিটরিং করার মতো পর্যাপ্ত লোকবল নেই।'আইন প্রয়োগে বাধা' ব্যবস্থা নিলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে, টেকসই পদক্ষেপ ঝুঁকির মুখে পড়ে।'ইজারা ব্যবস্থার দুর্বলতা' অনেক ঘাটই নিয়মিত ইজারায় না যাওয়ায় দখলদারদের সুযোগ বাড়ে।
ঘাটব্যবস্থাপনা একটি সরকারি দায়িত্ব হলেও বাস্তবে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, ইজারা জটিলতা, এবং দুর্বল মনিটরিংই ঘাটগুলোকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ করে তুলছে। চরলেংটা খেয়াঘাটের সাম্প্রতিক ঘটনা সেই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যারই আরেকটি উদাহরণ।
সম্পর্কিত