ঢাকা ২৫ আগস্ট, ২০২৬
শিরোনামঃ
মাদক বন্ধ হবে কীভাবে—যখন মাদক ঘিরেই গড়ে উঠে অর্থনৈতিক স্বার্থের চক্র ? বাগেরহাটে অসহায় ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় বিশ্বনাথে বিএনপির আনন্দ মিছিল ও শোভাযাত্রা রাজশাহীতে নভেম্বরে শুরু হচ্ছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ভলিবল টুর্নামেন্ট’ সিরাজগঞ্জে চালকল মালিকদের চাঁদা দাবির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩, গাড়ি উদ্ধার কচুয়ায় রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মামলাবাজ রাসেলে অতিষ্ট ফেরদৌস গং মিথ্যা মামলা নিয়ে ঘর ছাড়া অনেকেই সাংবিধানিক নিয়মে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান

পদ্মায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান: ইলিশ নিধন বন্ধে ইঁদুর-বিড়াল খেলা

#
news image

ইঁদুর বনাম বিড়াল খেলার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় বই পুস্তকে। ওখানে সংজ্ঞা হিসেবে বলা হয়েছে, গুরুতর কোনো বিষয়কে হালকাভাবে নেয়ার মানসিকতা।
সাম্প্রতিক সময়ে মা ইলিশ শিকারে কিছু জেলেরা এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনের। অভিযান আসলে শুরু হয় দৌঁড়ঝাপ চলে গেলে শুরু হয় ইলিশ নিধন ও বেচা-কেনা৷ মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান প্রশাসন জেলেদের সঙ্গে এই লুকোচুরি খেলায় ইঁদুর বিড়াল খেলার উদাহরণ মিলে।
মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখতে ৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সময়কালে লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলায় পদ্মা নদীতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নেছার উদ্দিন ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ পারভেজের নেতৃত্বে পদ্মায় অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩৩ জেলকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে৷ বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ, জরিমানা এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণসহ ব্যাপক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
তবুও এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে না কিছু অসাধু জেলেরা এই সময়টাকে ইলিশ উৎসব মনে করছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব। জেলেরা পদ্মা সেতুর উজান মাওয়া যশলদিয়া ও ভাটিতে সিডারচর পয়েন্টের, কলমা, গাঁওদিয়া দক্ষিণে নদীর বিভিন্ন এলাকার শতাধিক নৌকায় দিনরাত অবাধে মা ইলিশ নিধন চলছে। এসব ইলিশের বড় পাইকারি হাট পদ্মা নদীর চর এলাকার সিডারচর৷ এছাড়া নদীর তীরবর্তী কুমারভোগ বাজার সংলগ্ন, বেজগাঁও, পশ্চিম গাঁওদিয়া, শামুরবাড়ি, ডহরি মারৈল, ভরাকর এলাকার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যে মা ইলিশ বিক্রির চলে। অবাধে ইলিশ ধরছে। আর এ সব ইলিশ বিক্রিও হচ্ছে এসব স্থানে। এই হাটে প্রতিদিন চলে কোটি টাকার মা ইলিশ বেচাকেনা। জেলেরা অবাধে ইলিশ ধরছে। আর ওইসব ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এসব স্থানে।
সচেতন গ্রামবাসীরা বলেন, নদীতে ও ইলিশের হাটে যখন অভিযানে আসে তখন শুরু হয় জেলে ও মাছ বিক্রেতাদের দৌঁড়ঝাপ। চলে গেলে আবার শুরু হয় নিষিদ্ধ মা ইলিশ নিধন ও বেচা-কেনা৷ নদীতে যেনো মা ইলিশ সংরক্ষণ নিয়ে অসাধু জেলেদের সাথে প্রশাসনের ইঁদুর বিড়াল খেলা চলতে থাকা।
সারেজমিনে গিয়ে জানাগেছে- ইলিশের হাটে এক কেজি ওজনের হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা। দেড় কেজি ওজনের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। ছোট সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা৷ খোঁজ নিয়ে ও সূত্রে জানায়, সিডারচর ও আশপাশ চলাঞ্চল থেকে পাইকাররা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার করে মা ইলিশ পদ্মার তীরবর্তী হাট গুলোতে পৌছে দিচ্ছে৷ সেখানে বিক্রি করছে কিছু ব্যক্তিরা। এছাড়া পদ্মা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের অভিযান ও পুলিশের টহলের খবর পৌঁছে দিতে লোকজন বসানো হয়েছে। স্পিড বোটের ঘাটে জেলেদের নিজস্ব লোকও বসিয়ে রাখা হয়েছে তারা অভিযানের তথ্য সরবরাহ করছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, রবিবার ৩ জেলেকে ৭ দিনের কারাদণ্ড, ১ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। উপজেলায় এ পর্যন্ত অভিযানে ৩৩ জেলেকে কারাদণ্ড, ১০ বিক্রেতাকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

আবুল কাশেম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :

২০ অক্টোবর, ২০২৫,  10:45 PM

news image

ইঁদুর বনাম বিড়াল খেলার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় বই পুস্তকে। ওখানে সংজ্ঞা হিসেবে বলা হয়েছে, গুরুতর কোনো বিষয়কে হালকাভাবে নেয়ার মানসিকতা।
সাম্প্রতিক সময়ে মা ইলিশ শিকারে কিছু জেলেরা এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনের। অভিযান আসলে শুরু হয় দৌঁড়ঝাপ চলে গেলে শুরু হয় ইলিশ নিধন ও বেচা-কেনা৷ মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান প্রশাসন জেলেদের সঙ্গে এই লুকোচুরি খেলায় ইঁদুর বিড়াল খেলার উদাহরণ মিলে।
মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখতে ৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সময়কালে লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলায় পদ্মা নদীতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নেছার উদ্দিন ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ পারভেজের নেতৃত্বে পদ্মায় অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩৩ জেলকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে৷ বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ, জরিমানা এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণসহ ব্যাপক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
তবুও এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে না কিছু অসাধু জেলেরা এই সময়টাকে ইলিশ উৎসব মনে করছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব। জেলেরা পদ্মা সেতুর উজান মাওয়া যশলদিয়া ও ভাটিতে সিডারচর পয়েন্টের, কলমা, গাঁওদিয়া দক্ষিণে নদীর বিভিন্ন এলাকার শতাধিক নৌকায় দিনরাত অবাধে মা ইলিশ নিধন চলছে। এসব ইলিশের বড় পাইকারি হাট পদ্মা নদীর চর এলাকার সিডারচর৷ এছাড়া নদীর তীরবর্তী কুমারভোগ বাজার সংলগ্ন, বেজগাঁও, পশ্চিম গাঁওদিয়া, শামুরবাড়ি, ডহরি মারৈল, ভরাকর এলাকার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যে মা ইলিশ বিক্রির চলে। অবাধে ইলিশ ধরছে। আর এ সব ইলিশ বিক্রিও হচ্ছে এসব স্থানে। এই হাটে প্রতিদিন চলে কোটি টাকার মা ইলিশ বেচাকেনা। জেলেরা অবাধে ইলিশ ধরছে। আর ওইসব ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এসব স্থানে।
সচেতন গ্রামবাসীরা বলেন, নদীতে ও ইলিশের হাটে যখন অভিযানে আসে তখন শুরু হয় জেলে ও মাছ বিক্রেতাদের দৌঁড়ঝাপ। চলে গেলে আবার শুরু হয় নিষিদ্ধ মা ইলিশ নিধন ও বেচা-কেনা৷ নদীতে যেনো মা ইলিশ সংরক্ষণ নিয়ে অসাধু জেলেদের সাথে প্রশাসনের ইঁদুর বিড়াল খেলা চলতে থাকা।
সারেজমিনে গিয়ে জানাগেছে- ইলিশের হাটে এক কেজি ওজনের হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা। দেড় কেজি ওজনের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। ছোট সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা৷ খোঁজ নিয়ে ও সূত্রে জানায়, সিডারচর ও আশপাশ চলাঞ্চল থেকে পাইকাররা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার করে মা ইলিশ পদ্মার তীরবর্তী হাট গুলোতে পৌছে দিচ্ছে৷ সেখানে বিক্রি করছে কিছু ব্যক্তিরা। এছাড়া পদ্মা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের অভিযান ও পুলিশের টহলের খবর পৌঁছে দিতে লোকজন বসানো হয়েছে। স্পিড বোটের ঘাটে জেলেদের নিজস্ব লোকও বসিয়ে রাখা হয়েছে তারা অভিযানের তথ্য সরবরাহ করছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, রবিবার ৩ জেলেকে ৭ দিনের কারাদণ্ড, ১ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। উপজেলায় এ পর্যন্ত অভিযানে ৩৩ জেলেকে কারাদণ্ড, ১০ বিক্রেতাকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।