ঢাকা ১০ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

'মাছে ভাতে বাঙালি' প্রবাদটি বর্তমানে ইতিহাস হতে চলেছে

#
news image

দিন যত যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাছের দামও। প্রতি সপ্তাহেই বাজারে মাছের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কোনো ধরনের নজরদারি নেই বলেই ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমতো দাম রাখছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম কিছুটা চড়া যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে। আপাতত মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা নেই।

সপ্তাহ জুড়ে সরেজমিনে নেত্রকোনা জেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে মাছের দাম এতটাই বেশি যে, নিম্ন আয়ের মানুষ বাজারে ঘুরাঘুরি করেও মাছের দামের সাথে পাল্লা দিতে না পেরে খালি হাতেই বাড়ি ফিরছেন তারা।

নেত্রকোনা জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার বাজারগুলোতে প্রতি কেজি রুই ও কাতলা মাছ- ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকাপাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, মরলা ৩০০ টাকা, শোল ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, ট্যাংরা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, গ্রাস কার্প ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, সিলভার কার্প ও মৃগেল ২৮০-৩০০ টাকা, চাষের শিং-মাগুর ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। গরীবের মাছের চাহিদা পূরণ করার মাছগুলোর মধ্যে অন্যতম পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছের দামও এখন প্রায় ২০০-২৫০ টাকা। আর হাইব্রিড কৈ মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৫০-৩০০ টাকা দরে।

জেলা সদরের মেছুয়া বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শামসুল হক, প্রভাষক ও দৈনিক খবরের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক বিজয় চন্দ্র দাস জানান, বাজারে মাংস, মুরগি, ডিম, সবজিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম প্রতি সপ্তাহেই ওঠানামা করে, কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু মাছের বাজার। মাছের দাম দীর্ঘদিন ধরেই কমছে না। বর্তমান বাজারে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার নিচে কোন মাছেই নেই। আগে যে মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে কেনা কেনা যেত, এখন তা লাগে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ভাল মাছ কিনে খেতে পারছে না। তবুও বাজার মনিটরিংয়ের কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম চেয়ে বসে থাকছে।

বারহাট্টা উপজেলা সদরের আসমা বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা সাইফুল ইসলাম, মানবেন্দ্র দত্ত, জুয়েল মিয়া, তপন চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাছের বাজারে এভাবে চড়া দাম চললেও কেউ কিছুই দেখছে না, কেউ কিছু বলছেও না। মনিটরিং না থাকার কারণে বিক্রেতারা নিজের ইচ্ছামতো দাম বসিয়ে দিচ্ছে। বিক্রেতারা এমনভাবে কথা বলেন, যেন আমরা কিনলে কিনি, না কিনলে নাই। অনেক কাস্টমার আছে কেনার জন্য।

কথা হয় মোহনগঞ্জ বাজারে বাজার করতে আসা ভ্যান চালক জসিম, মদন বাজারের রিকশা চালক মৌজ আলী, শামীমসহ আরও কয়েকজনের সাথে তারা বলেন, বাজারে পাঙাস, তেলাপিয়া, চাষের কই মাছই ভরসা আমাদের মত সাধারণ ক্রেতাদের। অন্য সব ধরনের মাছের দাম বেশি হওয়ার কারণেই আমাদের মত দিনমজুর মানুষ এই মাছগুলো কিনে খাই। বর্তমানে এগুলোর দামও বাড়তি। সপ্তাহ জুড়েই চাষের কই কিনলাম প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে, অথচ এটাই আগে কিনতাম ২৫০ টাকা দরে। ভালো কোনো মাছ তো কিনে খাওয়ার অবস্থা আমাদের মত সাধারণ ক্রেতাদের নেই। সবসময়ই মাছের অতিরিক্ত বেশি দাম থাকে। অন্য সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাজার ওঠানামা করলেও মাছের বাজার একদম মনে হয় স্থীর হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। তাই আমরা বরই বেকায়দায় আছি।

দাম বাড়ার বিষয়ে সদরের ঘুসের বাজারে মাছ বিক্রেতা নীলু দাস ও রেলগেট বাজারের কাজল দাস জানান, আসলে মাছের দাম একটু বেশি ঠিকই, তবে এর পেছনে কারণও রয়েছে। মাছের খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই উৎপাদন খরচ বাড়ছে। চাষিরা বেশি দামে মাছ তুলছে, পাইকাররাও দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। তাই আমাদেরও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। আমাদের হাতে তেমন কিছু থাকে না।

তারা বলেন, অনেকদিন যাবত বাজরে মাছের দাম একই রকম রয়েছে। আমরা পাইকারি বাজারে মাছ কিনতে গেলে সেখানেই বেশি দামে আমাদের কিনতে হয়, এরপর আছে পরিবহন খরচ, দোকান ভাড়া, লেবার খরচ। সব মিলিয়ে দাম বর্তমানে বেশিই পড়ে যাচ্ছে। আমরা পাইকারি যেমন দামে কিনি তার থেকে কিছুটা লাভ ধরে বিক্রি করি। আমাদের মাছ কেনার খরচ যখন কম পড়বে তখন আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারব। এখন যেহেতু বেশি দামে মাছ কেনা, সেহেতু বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

২৮ আগস্ট, ২০২৫,  8:29 AM

news image

দিন যত যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাছের দামও। প্রতি সপ্তাহেই বাজারে মাছের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কোনো ধরনের নজরদারি নেই বলেই ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমতো দাম রাখছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম কিছুটা চড়া যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে। আপাতত মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা নেই।

সপ্তাহ জুড়ে সরেজমিনে নেত্রকোনা জেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে মাছের দাম এতটাই বেশি যে, নিম্ন আয়ের মানুষ বাজারে ঘুরাঘুরি করেও মাছের দামের সাথে পাল্লা দিতে না পেরে খালি হাতেই বাড়ি ফিরছেন তারা।

নেত্রকোনা জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার বাজারগুলোতে প্রতি কেজি রুই ও কাতলা মাছ- ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকাপাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, মরলা ৩০০ টাকা, শোল ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, ট্যাংরা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, গ্রাস কার্প ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, সিলভার কার্প ও মৃগেল ২৮০-৩০০ টাকা, চাষের শিং-মাগুর ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। গরীবের মাছের চাহিদা পূরণ করার মাছগুলোর মধ্যে অন্যতম পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছের দামও এখন প্রায় ২০০-২৫০ টাকা। আর হাইব্রিড কৈ মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৫০-৩০০ টাকা দরে।

জেলা সদরের মেছুয়া বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শামসুল হক, প্রভাষক ও দৈনিক খবরের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক বিজয় চন্দ্র দাস জানান, বাজারে মাংস, মুরগি, ডিম, সবজিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম প্রতি সপ্তাহেই ওঠানামা করে, কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু মাছের বাজার। মাছের দাম দীর্ঘদিন ধরেই কমছে না। বর্তমান বাজারে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার নিচে কোন মাছেই নেই। আগে যে মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে কেনা কেনা যেত, এখন তা লাগে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ভাল মাছ কিনে খেতে পারছে না। তবুও বাজার মনিটরিংয়ের কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম চেয়ে বসে থাকছে।

বারহাট্টা উপজেলা সদরের আসমা বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা সাইফুল ইসলাম, মানবেন্দ্র দত্ত, জুয়েল মিয়া, তপন চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাছের বাজারে এভাবে চড়া দাম চললেও কেউ কিছুই দেখছে না, কেউ কিছু বলছেও না। মনিটরিং না থাকার কারণে বিক্রেতারা নিজের ইচ্ছামতো দাম বসিয়ে দিচ্ছে। বিক্রেতারা এমনভাবে কথা বলেন, যেন আমরা কিনলে কিনি, না কিনলে নাই। অনেক কাস্টমার আছে কেনার জন্য।

কথা হয় মোহনগঞ্জ বাজারে বাজার করতে আসা ভ্যান চালক জসিম, মদন বাজারের রিকশা চালক মৌজ আলী, শামীমসহ আরও কয়েকজনের সাথে তারা বলেন, বাজারে পাঙাস, তেলাপিয়া, চাষের কই মাছই ভরসা আমাদের মত সাধারণ ক্রেতাদের। অন্য সব ধরনের মাছের দাম বেশি হওয়ার কারণেই আমাদের মত দিনমজুর মানুষ এই মাছগুলো কিনে খাই। বর্তমানে এগুলোর দামও বাড়তি। সপ্তাহ জুড়েই চাষের কই কিনলাম প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে, অথচ এটাই আগে কিনতাম ২৫০ টাকা দরে। ভালো কোনো মাছ তো কিনে খাওয়ার অবস্থা আমাদের মত সাধারণ ক্রেতাদের নেই। সবসময়ই মাছের অতিরিক্ত বেশি দাম থাকে। অন্য সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাজার ওঠানামা করলেও মাছের বাজার একদম মনে হয় স্থীর হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। তাই আমরা বরই বেকায়দায় আছি।

দাম বাড়ার বিষয়ে সদরের ঘুসের বাজারে মাছ বিক্রেতা নীলু দাস ও রেলগেট বাজারের কাজল দাস জানান, আসলে মাছের দাম একটু বেশি ঠিকই, তবে এর পেছনে কারণও রয়েছে। মাছের খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই উৎপাদন খরচ বাড়ছে। চাষিরা বেশি দামে মাছ তুলছে, পাইকাররাও দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। তাই আমাদেরও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। আমাদের হাতে তেমন কিছু থাকে না।

তারা বলেন, অনেকদিন যাবত বাজরে মাছের দাম একই রকম রয়েছে। আমরা পাইকারি বাজারে মাছ কিনতে গেলে সেখানেই বেশি দামে আমাদের কিনতে হয়, এরপর আছে পরিবহন খরচ, দোকান ভাড়া, লেবার খরচ। সব মিলিয়ে দাম বর্তমানে বেশিই পড়ে যাচ্ছে। আমরা পাইকারি যেমন দামে কিনি তার থেকে কিছুটা লাভ ধরে বিক্রি করি। আমাদের মাছ কেনার খরচ যখন কম পড়বে তখন আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারব। এখন যেহেতু বেশি দামে মাছ কেনা, সেহেতু বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।