ঢাকা ২৪ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল উৎসবের সমাপনী: স্পেনের সামনে আর্জেন্টিনা, প্রস্তুত নিউ ইয়র্ক ইরানি হামলায় জ্বলছে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্র ব্যবসায় আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বিসিসিসিআইয়ের সেমিনার: গুরুত্ব পেল এআই ও ব্লকচেইন চট্টগ্রামে বন্যায় ১৫ উপজেলা লণ্ডভণ্ড: ৭ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি গাজীপুরে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শতভাগ ফিট ইয়ামাল, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে স্বস্তিতে স্পেন দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার পার, ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু শাল্লায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা তাফাজ্জুল গ্রেপ্তার কনেবাহী গাড়ি খাদে ,উৎসবের রাতেই বিষাদের ছায়া, নিহত ২ চরভদ্রাসনে হিউম্যান অ্যাপেল অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে ৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত পানাম নগরী

#
news image

বাংলার ইতিহাস সমৃদ্ধ প্রাচীন জনপদ সোনারগাঁও এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল। কালের বিবর্তনে আজ সোনারগাঁওয়ের সেই জৌলুস নেই। তবুও পানাম নগরী আর লোকশিল্প জাদুঘরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের টানে এবারের ঈদের ছুটিতে এখানে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, আজ ঈদের ছুটির অষ্টম দিনেও সোনারগাঁওয়ের পানাম নগরী, লোকশিল্প জাদুঘর, ও বাংলার তাজমহল প্রাঙ্গণে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সরব উপস্থিতি। বিশেষ করে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সোনারগাঁওয়ের লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর প্রাঙ্গণ। ঈদকে ঘিরে দর্শনীয় স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তীব্র রোদ উপেক্ষা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটকরা বেড়াতে আসেন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এই লীলাভূমিতে। নির্মল প্রকৃতির সঙ্গে কিছু সময় আনন্দে কাটিয়ে খুশি আগত দর্শনার্থীরা। ঈদুল আজহার দিন থেকে পুরো ঈদের ছুটিতে  পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় এই পর্যটনকেন্দ্র মুখর হয়ে উঠেছে।

নরসিংদী থেকে পরিবার নিয়ে পানাম নগরীতে বেড়াতে এসেছেন রহমান আলী। তিনি বলেন, আমরা এই প্রথম সোনারগাঁওয়ের পানাম সিটিতে এসেছি। ঈদ উপলক্ষে সন্তানদের নিয়ে এই সুন্দর জায়গায় ঘুরতে এসে খুব ভালো লাগছে। ঘোরাঘুরি ও হবে, ইতিহাস দেখাও হবে।

মতিঝিল থেকে ঘুরতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি ঈদে পরিবার নিয়ে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে থাকি। এবার পুরো পরিবার সোনারগাঁওয়ে ঘুরতে আসলাম। আমি মনে করি, পুরো বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক-বাহক এই সোনারগাঁ। এসব জায়গা গুরুত্ব সহকারে সংরক্ষণ করা উচিত। পরবর্তী প্রজন্ম এই ঐতিহাসিক স্থান যাতে দেখতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা নিশ্চিত করতে হবে। 

পানাম নগরী ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী কাস্টডিয়ান সিয়াম চৌধুরী বলেন, ঈদের ছুটিতে এখানে ব্যাপক দর্শনার্থী সমাগম হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ হাজারো দর্শনার্থী পানাম নগরীতে ভিড় জমিয়েছেন। 

পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য এখানে পর্যাপ্ত আনসার ও ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান বলেন, ঐতিহ্যের বাহক সোনারগাঁওয়ে বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র থাকায় পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত সোনারগাঁও। জাদুঘর ও পানাম নগরীসহ অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আনসার ও ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, সোনারগাঁও নামটির উৎপত্তি হয়েছে ‘সুবর্ণ গ্রাম’ থেকে। তেরো শতকে হিন্দু রাজা দনুজ মাধব দশরথদেব এই সুবর্ণ গ্রামকে তার শাসনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে  তোলেন। এরপর মুসলিম শাসনের সূচনায় সোনারগাঁও রূপ নেয় বাংলার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে। ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার আগে সোনারগাঁও ছিল স্বাধীন সুলতানি আমলে বাংলার এক গৌরবময় রাজধানী।

নরসিংদী প্রতিনিধি :

১২ জুন, ২০২৫,  4:36 PM

news image

বাংলার ইতিহাস সমৃদ্ধ প্রাচীন জনপদ সোনারগাঁও এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল। কালের বিবর্তনে আজ সোনারগাঁওয়ের সেই জৌলুস নেই। তবুও পানাম নগরী আর লোকশিল্প জাদুঘরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের টানে এবারের ঈদের ছুটিতে এখানে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, আজ ঈদের ছুটির অষ্টম দিনেও সোনারগাঁওয়ের পানাম নগরী, লোকশিল্প জাদুঘর, ও বাংলার তাজমহল প্রাঙ্গণে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সরব উপস্থিতি। বিশেষ করে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সোনারগাঁওয়ের লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর প্রাঙ্গণ। ঈদকে ঘিরে দর্শনীয় স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তীব্র রোদ উপেক্ষা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটকরা বেড়াতে আসেন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এই লীলাভূমিতে। নির্মল প্রকৃতির সঙ্গে কিছু সময় আনন্দে কাটিয়ে খুশি আগত দর্শনার্থীরা। ঈদুল আজহার দিন থেকে পুরো ঈদের ছুটিতে  পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় এই পর্যটনকেন্দ্র মুখর হয়ে উঠেছে।

নরসিংদী থেকে পরিবার নিয়ে পানাম নগরীতে বেড়াতে এসেছেন রহমান আলী। তিনি বলেন, আমরা এই প্রথম সোনারগাঁওয়ের পানাম সিটিতে এসেছি। ঈদ উপলক্ষে সন্তানদের নিয়ে এই সুন্দর জায়গায় ঘুরতে এসে খুব ভালো লাগছে। ঘোরাঘুরি ও হবে, ইতিহাস দেখাও হবে।

মতিঝিল থেকে ঘুরতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি ঈদে পরিবার নিয়ে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে থাকি। এবার পুরো পরিবার সোনারগাঁওয়ে ঘুরতে আসলাম। আমি মনে করি, পুরো বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক-বাহক এই সোনারগাঁ। এসব জায়গা গুরুত্ব সহকারে সংরক্ষণ করা উচিত। পরবর্তী প্রজন্ম এই ঐতিহাসিক স্থান যাতে দেখতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা নিশ্চিত করতে হবে। 

পানাম নগরী ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী কাস্টডিয়ান সিয়াম চৌধুরী বলেন, ঈদের ছুটিতে এখানে ব্যাপক দর্শনার্থী সমাগম হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ হাজারো দর্শনার্থী পানাম নগরীতে ভিড় জমিয়েছেন। 

পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য এখানে পর্যাপ্ত আনসার ও ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান বলেন, ঐতিহ্যের বাহক সোনারগাঁওয়ে বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র থাকায় পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত সোনারগাঁও। জাদুঘর ও পানাম নগরীসহ অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আনসার ও ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, সোনারগাঁও নামটির উৎপত্তি হয়েছে ‘সুবর্ণ গ্রাম’ থেকে। তেরো শতকে হিন্দু রাজা দনুজ মাধব দশরথদেব এই সুবর্ণ গ্রামকে তার শাসনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে  তোলেন। এরপর মুসলিম শাসনের সূচনায় সোনারগাঁও রূপ নেয় বাংলার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে। ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার আগে সোনারগাঁও ছিল স্বাধীন সুলতানি আমলে বাংলার এক গৌরবময় রাজধানী।