ঢাকা ২৫ মে, ২০২৬
শিরোনামঃ
বিএনপির নেতা সোহেল রানার পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী একটা সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিতে চাই : সিইসি ঈদুল আযহায় বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাত শিক্ষার্থীদের স্বদেশ প্রেম চর্চার পাশাপাশি ইতিহাস জানা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী বিমান বাহিনী একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ আলবানিজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র ১০০ কোটি ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে নদী ভাঙন শুরু

#
news image

শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিরঘাট পাইনপাড়া এলাকায় পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে গত তিন দিন যাবত ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

এতে পাইনপাড়াসহ ৬-৭টি গ্রামের মানুষের আতঙ্কে দিন কাটছে। তারা বাড়ি ঘর সরিয়ে নিচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ডান তীর রক্ষা বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে, পুরো এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। 

ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ডাম্পিং কাজ শুরু করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে পদ্মা সেতু থেকে মাঝিরঘাট হয়ে পূর্ব নাওডোবা আলমখার কান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে ব্যয় হয় ১১০ কোটি টাকা। 

সূত্রটি আরো জানায়, গত বছরের ৩ নভেম্বর থেকে বাঁধের নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট এলাকার ভাঙন শুরু হয়। ১৬ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত বাঁধটির প্রায় ১০০ মিটার ধসে পড়ে নদীতে। এতে কংক্রিটের সিসি ব্লকগুলো তলিয়ে যায় পানিতে। এছাড়া এলাকার আশপাশে দেখা দেয় ফাটল। 

পরে বাঁধটির সংস্কারে দায়িত্ব দেওয়া হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। গত বছর ওই বাঁধের যে ১০০ মিটার অংশ বিলীন হয়েছিল তা ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই স্থানে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলার কাজ শুরু হয়। 

এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পূর্ব পাশের নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো ২ কিলোমিটার রক্ষা বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

গত শনিবার ভোররাতে সংস্কার করা বাঁধের ১০০ মিটার অংশসহ পাশের আরও একটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়। 

এক দিনের মধ্যে বাঁধের ২৫০ মিটার অংশ নদীতে তলিয়ে যায়। 

ভোরে মাইকে নদী ভাঙনের আওয়াজ শুনে এলাকার লোকজন নদীর পাড়ে চলে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে যে যার মত করে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এলাকা পরিদর্শন করে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করার জন্য রোববার বিকেল নাগাদ জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু করে। 

এরই সাথে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি শরীয়তপুর ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ও রেডক্রিসেন্টের সেক্রেটারি সাংবাদিক আবুল হোসেন প্রায় ৩০ জন ভলানটিয়ার নিয়ে সেখানে স্বেচ্ছাশ্রমে এ কাজে সহায়তা  শুরু করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে পদ্মাসেতুর পশ্চিম পাশে যেভাবে স্থায়ী বেড়িবাধ দেয়া হয়েছে, সেভাবে এখানেও একটি স্থায়ী বেড়ি বাঁধ দেয়া হোক।

এ ব্যাপারে স্থানীয় পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, গত শুক্রবার ভোর থেকে হঠাৎ করে পাইনপাড়া এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সকালে মাইকের আওয়াজ শুনে নদীর পাড়ের বাড়ি ঘরের মানুষ নদীর পাড়ে ছুটে আসেন। তড়িঘড়ি করে অনেকেই বাড়িঘর সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। ৬-৭ গ্রামের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, তড়িৎ এ এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা না হলে, এলাকার ৬-৭ গ্রামের বাড়ি-ঘরসহ বাপ দাদার ভিটে মাটি পদ্মার করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড, শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক হাসান বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণকালীন কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের ডান তীর রক্ষাবাঁধ তারাই দিয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদেরকে দেয়নি। 

এখন ভাঙন দেখা দেয়ার পর আমাদের মেরামত করতে বলছে। 

তিনি আরো বলেন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধিও ফলে এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা এলাকায় এসে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করছি। তবে ঈদের ছুটির কারণে লেবার সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন ও জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি :

১০ জুন, ২০২৫,  9:49 PM

news image

শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিরঘাট পাইনপাড়া এলাকায় পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে গত তিন দিন যাবত ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

এতে পাইনপাড়াসহ ৬-৭টি গ্রামের মানুষের আতঙ্কে দিন কাটছে। তারা বাড়ি ঘর সরিয়ে নিচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ডান তীর রক্ষা বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে, পুরো এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। 

ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ডাম্পিং কাজ শুরু করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে পদ্মা সেতু থেকে মাঝিরঘাট হয়ে পূর্ব নাওডোবা আলমখার কান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে ব্যয় হয় ১১০ কোটি টাকা। 

সূত্রটি আরো জানায়, গত বছরের ৩ নভেম্বর থেকে বাঁধের নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট এলাকার ভাঙন শুরু হয়। ১৬ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত বাঁধটির প্রায় ১০০ মিটার ধসে পড়ে নদীতে। এতে কংক্রিটের সিসি ব্লকগুলো তলিয়ে যায় পানিতে। এছাড়া এলাকার আশপাশে দেখা দেয় ফাটল। 

পরে বাঁধটির সংস্কারে দায়িত্ব দেওয়া হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। গত বছর ওই বাঁধের যে ১০০ মিটার অংশ বিলীন হয়েছিল তা ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই স্থানে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলার কাজ শুরু হয়। 

এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পূর্ব পাশের নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো ২ কিলোমিটার রক্ষা বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

গত শনিবার ভোররাতে সংস্কার করা বাঁধের ১০০ মিটার অংশসহ পাশের আরও একটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়। 

এক দিনের মধ্যে বাঁধের ২৫০ মিটার অংশ নদীতে তলিয়ে যায়। 

ভোরে মাইকে নদী ভাঙনের আওয়াজ শুনে এলাকার লোকজন নদীর পাড়ে চলে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে যে যার মত করে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এলাকা পরিদর্শন করে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করার জন্য রোববার বিকেল নাগাদ জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু করে। 

এরই সাথে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি শরীয়তপুর ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ও রেডক্রিসেন্টের সেক্রেটারি সাংবাদিক আবুল হোসেন প্রায় ৩০ জন ভলানটিয়ার নিয়ে সেখানে স্বেচ্ছাশ্রমে এ কাজে সহায়তা  শুরু করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে পদ্মাসেতুর পশ্চিম পাশে যেভাবে স্থায়ী বেড়িবাধ দেয়া হয়েছে, সেভাবে এখানেও একটি স্থায়ী বেড়ি বাঁধ দেয়া হোক।

এ ব্যাপারে স্থানীয় পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, গত শুক্রবার ভোর থেকে হঠাৎ করে পাইনপাড়া এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সকালে মাইকের আওয়াজ শুনে নদীর পাড়ের বাড়ি ঘরের মানুষ নদীর পাড়ে ছুটে আসেন। তড়িঘড়ি করে অনেকেই বাড়িঘর সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। ৬-৭ গ্রামের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, তড়িৎ এ এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা না হলে, এলাকার ৬-৭ গ্রামের বাড়ি-ঘরসহ বাপ দাদার ভিটে মাটি পদ্মার করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড, শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক হাসান বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণকালীন কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের ডান তীর রক্ষাবাঁধ তারাই দিয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদেরকে দেয়নি। 

এখন ভাঙন দেখা দেয়ার পর আমাদের মেরামত করতে বলছে। 

তিনি আরো বলেন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধিও ফলে এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা এলাকায় এসে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করছি। তবে ঈদের ছুটির কারণে লেবার সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন ও জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।