ঢাকা ১১ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

বাংলাদেশের প্রথম রেলস্টেশন কুষ্টিয়ার জগতি অবহেলা ও বঞ্চনার ইতিহাসে হারিয়ে যাচ্ছে রেল ঐতিহ্যের জন্মভূমি

#
news image

বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের ইতিহাস যখন প্রথম পাতায় স্থান পায়, তার প্রথম লাইনে যে নামটি থাকার কথা, তা হলো-কুষ্টিয়া জগতি রেলস্টেশন । ব্রিটিশ ভারতের ঐতিহাসিক রেল নকশার মধ্যেই প্রথম যাত্রা করেছিল যে স্টেশন, সেটিই আজ দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নদশায়, বঞ্চনা ও উপেক্ষার অন্ধকারে। কোনো স্মৃতি ফলক নেই, নেই সংরক্ষণের উদ্যোগ। অথচ এখানেই প্রথমবার বেজেছিল রেলের ছিটি, এখানেই ছুটে এসেছিল বাংলার মানুষের প্রথম উত্তেজনা ও বিস্ময়।

১৮৬২ সালে কলকাতা থেকে রেল যোগাযোগ চালু হওয়ার সময় দর্শনা হয়ে ট্রেন পৌঁছায় জগতি স্টেশনে। ইতিহাস বলে, এটাই ছিল বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে চালু হওয়া প্রথম রেললাইন ও প্রথম স্টেশন। জগতি হয়ে উন্মুক্ত হয়েছিল যোগাযোগ, বাণিজ্য, পাট শিল্প ও সামাজিক পরিবর্তনের এক নব অধ্যায়। অনেকে বলেন বাংলাদেশে রেল ইতিহাস জানতে হলে শুরু করতে হবে জগতি থেকেই।” স্থাপত্যে ইতিহাস দোয়ালে ধুলো জগতি স্টেশনের পুরনো স্থাপনা একসময় ছিল ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক অনন্য নিদর্শন। লাল ইটের বিল্ডিং। পুরনো টিকিট কাউন্টার। কাঠের দরজা-জানালা। টেলিগ্রাফ রুম ও সিগন্যাল পোস্ট কিন্তু আজ সবকিছুরই শরীর ক্ষয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে ছাদ, উধাও হয়ে গেছে স্টেশনমাস্টারের ঘরের চিহ্ন। 

বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দ্র ছিল জগতি। মালামাল নামাতো জগতিতে। এখান থেকে রেলে টেনে নেয়া হতো কলকাতা পর্যন্ত। পাট, নীল, গুড়, লবণ, চাল সবকিছুর একমাত্র রফতানি পয়েন্ট ব্রিটিশ যুগে এই স্টেশনেই ছিল শুল্ক দফতর কলকাতার পত্রিকায় তখন প্রকাশিত হতো-Jagoti Is The Golden Gate Of Eastern Rail Business 

ভাঙ্গা দেয়াল মুছে যাওয়া নাম চোখের জল ভরা ইতিহাস আজ জগতি স্টেশন যেন দাঁড়িয়ে আছে প্রশ্নবিদ্ধ নীরবতায়-কোনও কার্যক্রম নেই
সাইনবোর্ড নেই ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে প্ল্যাটফর্ম ভবনের ওপর গজিয়েছে গাছ  স্থানীয় মানুষের কণ্ঠে দীর্ঘশ্বাস। এক প্রবীণ মানুষ কাঁদতে কাঁদতে বললেন
যে স্টেশনে প্রথম ট্রেন থামলো, আজ সেখানে মানুষের পা-ও থামে না।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি জগতিকে জাতীয় ঐতিহ্য ঘোষণা করা রেলওয়ের ইতিহাস জাদুঘর প্রতিষ্ঠা। সাংস্কৃতিক ও পর্যটন স্পট হিসেবে উন্নয়ন। রেল সংরক্ষণের সরকারি উদ্যোগ, ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীরা বারবার বলছেন-যে দেশ রেলের ইতিহাস ভুলে যায়, সে দেশ একদিন নিজেকেও হারাবে। বিশ্বে রেল ঐতিহ্য সংরক্ষিত বাংলাদেশে কেন নয়। ইংল্যান্ডের ওল্ড হুইটবি স্টেশন সংরক্ষিত ভারতের হাওড়া ও ছাত্রপতি টার্মিনাস আজ ইউনেস্কো ঐতিহ্য কিন্তু জগতি ।

সরকারের কাছে এটি ‘অকার্যকর বিল্ডিং’ ছাড়া কিছু নয়। জগতি রেলস্টেশন শুধু একটি স্থাপনা নয় এটি বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের প্রথম দোরগোড়া, এক জাতির যাত্রার সূচনা।

আজ সেটি যদি বিস্মৃত হয়, তবে আমরা ভুলে যাব আমাদের পথচলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠা। বাংলাদেশের রেল শুরু হয়েছিল যে সিটিতে সেই সিটিরই প্রতিধ্বনি আজ শুনতে পায় না কেউ । ইতিহাস কি তবে এভাবেই মরে যাবে ।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :

১৩ অক্টোবর, ২০২৫,  5:07 PM

news image

বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের ইতিহাস যখন প্রথম পাতায় স্থান পায়, তার প্রথম লাইনে যে নামটি থাকার কথা, তা হলো-কুষ্টিয়া জগতি রেলস্টেশন । ব্রিটিশ ভারতের ঐতিহাসিক রেল নকশার মধ্যেই প্রথম যাত্রা করেছিল যে স্টেশন, সেটিই আজ দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নদশায়, বঞ্চনা ও উপেক্ষার অন্ধকারে। কোনো স্মৃতি ফলক নেই, নেই সংরক্ষণের উদ্যোগ। অথচ এখানেই প্রথমবার বেজেছিল রেলের ছিটি, এখানেই ছুটে এসেছিল বাংলার মানুষের প্রথম উত্তেজনা ও বিস্ময়।

১৮৬২ সালে কলকাতা থেকে রেল যোগাযোগ চালু হওয়ার সময় দর্শনা হয়ে ট্রেন পৌঁছায় জগতি স্টেশনে। ইতিহাস বলে, এটাই ছিল বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে চালু হওয়া প্রথম রেললাইন ও প্রথম স্টেশন। জগতি হয়ে উন্মুক্ত হয়েছিল যোগাযোগ, বাণিজ্য, পাট শিল্প ও সামাজিক পরিবর্তনের এক নব অধ্যায়। অনেকে বলেন বাংলাদেশে রেল ইতিহাস জানতে হলে শুরু করতে হবে জগতি থেকেই।” স্থাপত্যে ইতিহাস দোয়ালে ধুলো জগতি স্টেশনের পুরনো স্থাপনা একসময় ছিল ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক অনন্য নিদর্শন। লাল ইটের বিল্ডিং। পুরনো টিকিট কাউন্টার। কাঠের দরজা-জানালা। টেলিগ্রাফ রুম ও সিগন্যাল পোস্ট কিন্তু আজ সবকিছুরই শরীর ক্ষয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে ছাদ, উধাও হয়ে গেছে স্টেশনমাস্টারের ঘরের চিহ্ন। 

বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দ্র ছিল জগতি। মালামাল নামাতো জগতিতে। এখান থেকে রেলে টেনে নেয়া হতো কলকাতা পর্যন্ত। পাট, নীল, গুড়, লবণ, চাল সবকিছুর একমাত্র রফতানি পয়েন্ট ব্রিটিশ যুগে এই স্টেশনেই ছিল শুল্ক দফতর কলকাতার পত্রিকায় তখন প্রকাশিত হতো-Jagoti Is The Golden Gate Of Eastern Rail Business 

ভাঙ্গা দেয়াল মুছে যাওয়া নাম চোখের জল ভরা ইতিহাস আজ জগতি স্টেশন যেন দাঁড়িয়ে আছে প্রশ্নবিদ্ধ নীরবতায়-কোনও কার্যক্রম নেই
সাইনবোর্ড নেই ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে প্ল্যাটফর্ম ভবনের ওপর গজিয়েছে গাছ  স্থানীয় মানুষের কণ্ঠে দীর্ঘশ্বাস। এক প্রবীণ মানুষ কাঁদতে কাঁদতে বললেন
যে স্টেশনে প্রথম ট্রেন থামলো, আজ সেখানে মানুষের পা-ও থামে না।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি জগতিকে জাতীয় ঐতিহ্য ঘোষণা করা রেলওয়ের ইতিহাস জাদুঘর প্রতিষ্ঠা। সাংস্কৃতিক ও পর্যটন স্পট হিসেবে উন্নয়ন। রেল সংরক্ষণের সরকারি উদ্যোগ, ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীরা বারবার বলছেন-যে দেশ রেলের ইতিহাস ভুলে যায়, সে দেশ একদিন নিজেকেও হারাবে। বিশ্বে রেল ঐতিহ্য সংরক্ষিত বাংলাদেশে কেন নয়। ইংল্যান্ডের ওল্ড হুইটবি স্টেশন সংরক্ষিত ভারতের হাওড়া ও ছাত্রপতি টার্মিনাস আজ ইউনেস্কো ঐতিহ্য কিন্তু জগতি ।

সরকারের কাছে এটি ‘অকার্যকর বিল্ডিং’ ছাড়া কিছু নয়। জগতি রেলস্টেশন শুধু একটি স্থাপনা নয় এটি বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের প্রথম দোরগোড়া, এক জাতির যাত্রার সূচনা।

আজ সেটি যদি বিস্মৃত হয়, তবে আমরা ভুলে যাব আমাদের পথচলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠা। বাংলাদেশের রেল শুরু হয়েছিল যে সিটিতে সেই সিটিরই প্রতিধ্বনি আজ শুনতে পায় না কেউ । ইতিহাস কি তবে এভাবেই মরে যাবে ।