ঢাকা ১২ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা না থাকায় সড়ক টিকেনা ৩ মাস বাংলাদেশ প্রেসক্লাব মাধবপুর উপজেলা শাখার দোয়া ও  ইফতার মাহফিল সম্পূর্ণ বাগেরহাটে ইজারা নেওয়ার ১৭ বছর পরও দখল মেলেনি ‘ছয়বাকী খাল’, ক্ষতিপূরণ বা দখল ফেরতের দাবি গাজীপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার গাছা জোন এলাকায় একাধিক রাস্তা উদ্বোধন করেন জিসিসির প্রশাসক  পুবাইলে একাধিক রাস্তা উদ্বোধন করেন প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার  টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের নবাগত উপদেষ্টা জেপি এক্সপ্রেসের মাসুদ রানা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমান ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট জব্দ ফরিদপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক রাজার ইন্তেকাল মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক মাস্টার আবুল বশর আর নেই

শেরপুরে পাটের অধিক ফলনে খুশি কৃষকরা

#
news image

শেরপুরে সোনালী আঁশের সুদিন ফিরছে। বিগত দিনের চেয়ে বেশি দামের কারণে কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে এবছর লক্ষ্যমাত্রার ছাড়িয়ে জেলায়  অধিক ফলন হয়েছে পাটের।

সরজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এখন চলছে পাট কাটার ধুম।  বিভিন্ন জলাশয়ে চলছে পাট জাগ, আঁশ ছড়ানো, শুকানো ও পাটকাঠি সংগ্রহের কর্মযজ্ঞ । সবুজ পাট গাছের রূপান্তর ঘটছে সোনালী পাটের আঁশ আর পাটকাঠিতে। গ্রামীণ জনপদে কৃষান কৃষানীরা মেতে উঠেছেন পাট কাজের ব্যস্ততায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক দশক আগে জেলায় পাটের আবাদি জমি ছিল চলতি বছরের প্রায় অর্ধেক। হেক্টর প্রতি পাটের গড় উৎপাদনও বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছর জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ হয়েছে। এবছর ১ হাজার ৮৯৪ হেক্টর জমি আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাটের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯১১ হেক্টরে। এসব জমি থেকে পাটের উৎপাদন ৬ হাজার ২০ টন।

গত বছর জেলায় ১ হাজার ৮৯৪ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছিল। এবছর পাটের চাষ বৃদ্ধিতে জেলা পাট অধিদপ্তর থেকে প্রায় ৭ হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ১ কেজি করে পাট বীজ এবং ১২ কেজি করে রাসায়নিক সার প্রদান করা হয়েছিল।

ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। যেখানে বিঘা প্রতি পাটের গড় ফলন ১০ থেকে ১২ মণ। কৃষকরা বলছেন, বিঘাতে পাট চাষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা এবং খরচ বাদে মুনাফা থাকে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিটি পাটখড়ির আঁটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে বাড়তি আয় করা যায়।

জেলা সদরের লছমনপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন (৪৫) জানান, সিন্ডিকেট করে যেন কোন ব্যবসায়ী পাটের দাম কমাতে না পারে সেদিকে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে একদিকে যেমন কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ কমবে। অন্যদিকে পাটের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন পাট চাষীরা।

একই এলাকার কৃষক আক্রাম হোসেন (৪২) বলেন, প্রতিবছরের মত এবারো তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। এবছর আষাঢ়ে কাংখিত বৃষ্টি না থাকলেও শ্রাবনে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। তাই হাতের নাগালে আশপাশের সকল জলাধার পানিতে টইটুম্বুর থাকায় জমির পাট অনায়াসে পঁচাতে পেরেছি। তাই এবার পরিবহনের খরচ একদম নেই। এছাড়া বিঘা প্রতি ১২ মণ করে ফলন পাচ্ছি এবং দামও বেশ ভাল।

এবিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, পরিবেশ বান্ধব বলে দেশে পাটের বহুমুখী ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দেশে ও বিদেশে পাটের চাহিদা বাড়ছে। বাড়তি মূল্য পাওয়ার কারণে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন এবং পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। পাট জাগ সহ নানা বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিতে মাঠে কাজ করছে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।

শেরপুর প্রতিনিধি :

২১ আগস্ট, ২০২৫,  9:14 PM

news image

শেরপুরে সোনালী আঁশের সুদিন ফিরছে। বিগত দিনের চেয়ে বেশি দামের কারণে কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে এবছর লক্ষ্যমাত্রার ছাড়িয়ে জেলায়  অধিক ফলন হয়েছে পাটের।

সরজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এখন চলছে পাট কাটার ধুম।  বিভিন্ন জলাশয়ে চলছে পাট জাগ, আঁশ ছড়ানো, শুকানো ও পাটকাঠি সংগ্রহের কর্মযজ্ঞ । সবুজ পাট গাছের রূপান্তর ঘটছে সোনালী পাটের আঁশ আর পাটকাঠিতে। গ্রামীণ জনপদে কৃষান কৃষানীরা মেতে উঠেছেন পাট কাজের ব্যস্ততায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক দশক আগে জেলায় পাটের আবাদি জমি ছিল চলতি বছরের প্রায় অর্ধেক। হেক্টর প্রতি পাটের গড় উৎপাদনও বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছর জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ হয়েছে। এবছর ১ হাজার ৮৯৪ হেক্টর জমি আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাটের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯১১ হেক্টরে। এসব জমি থেকে পাটের উৎপাদন ৬ হাজার ২০ টন।

গত বছর জেলায় ১ হাজার ৮৯৪ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছিল। এবছর পাটের চাষ বৃদ্ধিতে জেলা পাট অধিদপ্তর থেকে প্রায় ৭ হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ১ কেজি করে পাট বীজ এবং ১২ কেজি করে রাসায়নিক সার প্রদান করা হয়েছিল।

ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। যেখানে বিঘা প্রতি পাটের গড় ফলন ১০ থেকে ১২ মণ। কৃষকরা বলছেন, বিঘাতে পাট চাষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা এবং খরচ বাদে মুনাফা থাকে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিটি পাটখড়ির আঁটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে বাড়তি আয় করা যায়।

জেলা সদরের লছমনপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন (৪৫) জানান, সিন্ডিকেট করে যেন কোন ব্যবসায়ী পাটের দাম কমাতে না পারে সেদিকে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে একদিকে যেমন কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ কমবে। অন্যদিকে পাটের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন পাট চাষীরা।

একই এলাকার কৃষক আক্রাম হোসেন (৪২) বলেন, প্রতিবছরের মত এবারো তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। এবছর আষাঢ়ে কাংখিত বৃষ্টি না থাকলেও শ্রাবনে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। তাই হাতের নাগালে আশপাশের সকল জলাধার পানিতে টইটুম্বুর থাকায় জমির পাট অনায়াসে পঁচাতে পেরেছি। তাই এবার পরিবহনের খরচ একদম নেই। এছাড়া বিঘা প্রতি ১২ মণ করে ফলন পাচ্ছি এবং দামও বেশ ভাল।

এবিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, পরিবেশ বান্ধব বলে দেশে পাটের বহুমুখী ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দেশে ও বিদেশে পাটের চাহিদা বাড়ছে। বাড়তি মূল্য পাওয়ার কারণে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন এবং পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। পাট জাগ সহ নানা বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিতে মাঠে কাজ করছে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।