ঢাকা ২৫ মে, ২০২৬
শিরোনামঃ
বিএনপির নেতা সোহেল রানার পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী একটা সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিতে চাই : সিইসি ঈদুল আযহায় বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাত শিক্ষার্থীদের স্বদেশ প্রেম চর্চার পাশাপাশি ইতিহাস জানা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী বিমান বাহিনী একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ আলবানিজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র ১০০ কোটি ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় বারহাট্টার হিজরারা

#
news image

নেত্রকোনার বারহাট্টার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষিত তরুণদের প্রলোভন দেখিয়ে কথিত অপারেশনের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গসহ অণ্ডকোষ কেটে হিজড়ায় রুপান্তর করা হচ্ছে। হিজড়ায় রুপান্তর হওয়ার পরবর্তীতে পরিবার ও সমাজচ্যুত এসব তরুণদের বাজার, রাস্তার মোড়, রেলস্টেশনসহ সর্বত্র তাদের দিয়ে চাঁদাবাজি করানো হচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ চাঁদাবাজি না করতে চাইলে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটছে। এ সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে নেত্রকোনা জেলা শহরে থাকা তাজু ওরফে লতা, সানিপ ওরফে কমলা, মেহেদী আক্তার সানা ওরফে স্বর্ণালতা, কমলা ও স্বর্নার বিরুদ্ধে প্রশাসনও নিরব এমনটাই দাবী ভুক্তভোগীদের। তারা এ পেশা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনের ফিরতে চায়।

বারহাট্টা উপজেলার দায়িত্বে থাকা ভুক্তভোগী নয়ন ওরফে অন্তরা হিজরার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি পুরুষ ছিলাম ও বিয়েও করেছিলাম এবং আমার একটা ছেলেও আছে। কিন্তু সামাজিকতার খাতিরে একজন হিজড়ার সাথে আমার পরিচয় ছিল। সেই হিজড়ার মাধ্যমে আমার লতা হিজড়ার সাথে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তারা বেড়ানোর কথা বলে আমাকে নেত্রকোনার মদনের স্বর্ণা হিজড়ার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে নিয়ে ভালো খাবার খাওয়ানো হয়। খাওয়ার পর এক পর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পাঁচ-ছয় ঘন্টা পর যখন আমার জ্ঞান ফিরে তখন আমি বুঝতে পারি যে আমার পুরুষাঙ্গসহ অণ্ডকোষ কেটে ফেলা হয়েছে। তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে আমি এটার প্রতিবাদ করি। কিন্তু তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আমাকে আমার বাড়ি বারহাট্টার স্বল্প দশালে ফেলে দিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমার বউ আমাকে ছেড়ে চলে যায়। এখন আমি দূর্বিষহ জীবনযাপন করছি। লতা হিজড়া আমার জীবন কঠিন করে তুলেছে। লতাকে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়। আমি এত টাকা কোথায় পাব? আমি নিজেই কোন চাঁদাবাজি করতে চাই না। আমার ছেলেটা ময়মনসিংহ মিন্টু কলেজে পড়ে। তাকেও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এ দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি চাই আর পাঁচজনের মত স্বাভাবিক জীবন নিয়ে বাঁচতে চাই।

কথা হয় ভুক্তভোগী মালতি ওরফে সুমনের সাথে তিনি জানান, আমি এইচএসসি পাশ করার পর লতা হিজড়ার সাথে পরিচয় হয়। আমাকে প্রলোভন দেখিয়ে লতা ও স্বর্ণা হিজড়া বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতো। হঠাৎ একদিন আমাকে মদনে স্বর্ণা হিজড়ার বাসায় নিয়ে যায়। সকালে জ্ঞান ফিরলে দেখতে পাই আমাদের গোপনাঙ্গ কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নাক ও কান ফোড়ানো হয়েছে তারপর আমার পরিবার আমাকে বের করে দিলে আমি বারহাট্টার নয়নের কাছে এসে আশ্রয় নেই। এখানে এসেও শান্তি নাই আমাকে বাধ্য করা হচ্ছে চাঁদাবাজির জন্য। আমি চাঁদাবাজি করতে চাই না। আমি শান্তিতে বাঁচতে চাই।

জোরপূর্বক পুরুষাঙ্গ ও অন্ডকোষ কেটে হিজড়ায় রুপান্তরের বিষয়ে জানতে নেত্রকোনা জেলার প্রধান হিজড়ার দায়িত্বে থাকা লতার মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করলেও রিসিভ করেনি। পুরুষাঙ্গ কাটার মত ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন নিজ হাতে করা স্বর্ণা হিজড়ার ফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক শুনেই ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কামরুল হাসান জানান, পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়ায় রুপান্তর করা হয়েছে এমন কেন অভিযোগ আসেনি। আসলে তদন্তপূর্বক এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর জোরপূর্বক চাঁদাবাজি করানো হচ্ছে এই বিষয়টা নিয়েও যদি ওরা অভিযোগ করে আমরা সততা থাকলে ব্যবস্থা নিব।

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

০২ আগস্ট, ২০২৫,  7:24 PM

news image

নেত্রকোনার বারহাট্টার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষিত তরুণদের প্রলোভন দেখিয়ে কথিত অপারেশনের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গসহ অণ্ডকোষ কেটে হিজড়ায় রুপান্তর করা হচ্ছে। হিজড়ায় রুপান্তর হওয়ার পরবর্তীতে পরিবার ও সমাজচ্যুত এসব তরুণদের বাজার, রাস্তার মোড়, রেলস্টেশনসহ সর্বত্র তাদের দিয়ে চাঁদাবাজি করানো হচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ চাঁদাবাজি না করতে চাইলে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটছে। এ সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে নেত্রকোনা জেলা শহরে থাকা তাজু ওরফে লতা, সানিপ ওরফে কমলা, মেহেদী আক্তার সানা ওরফে স্বর্ণালতা, কমলা ও স্বর্নার বিরুদ্ধে প্রশাসনও নিরব এমনটাই দাবী ভুক্তভোগীদের। তারা এ পেশা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনের ফিরতে চায়।

বারহাট্টা উপজেলার দায়িত্বে থাকা ভুক্তভোগী নয়ন ওরফে অন্তরা হিজরার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি পুরুষ ছিলাম ও বিয়েও করেছিলাম এবং আমার একটা ছেলেও আছে। কিন্তু সামাজিকতার খাতিরে একজন হিজড়ার সাথে আমার পরিচয় ছিল। সেই হিজড়ার মাধ্যমে আমার লতা হিজড়ার সাথে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তারা বেড়ানোর কথা বলে আমাকে নেত্রকোনার মদনের স্বর্ণা হিজড়ার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে নিয়ে ভালো খাবার খাওয়ানো হয়। খাওয়ার পর এক পর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পাঁচ-ছয় ঘন্টা পর যখন আমার জ্ঞান ফিরে তখন আমি বুঝতে পারি যে আমার পুরুষাঙ্গসহ অণ্ডকোষ কেটে ফেলা হয়েছে। তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে আমি এটার প্রতিবাদ করি। কিন্তু তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আমাকে আমার বাড়ি বারহাট্টার স্বল্প দশালে ফেলে দিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমার বউ আমাকে ছেড়ে চলে যায়। এখন আমি দূর্বিষহ জীবনযাপন করছি। লতা হিজড়া আমার জীবন কঠিন করে তুলেছে। লতাকে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়। আমি এত টাকা কোথায় পাব? আমি নিজেই কোন চাঁদাবাজি করতে চাই না। আমার ছেলেটা ময়মনসিংহ মিন্টু কলেজে পড়ে। তাকেও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এ দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি চাই আর পাঁচজনের মত স্বাভাবিক জীবন নিয়ে বাঁচতে চাই।

কথা হয় ভুক্তভোগী মালতি ওরফে সুমনের সাথে তিনি জানান, আমি এইচএসসি পাশ করার পর লতা হিজড়ার সাথে পরিচয় হয়। আমাকে প্রলোভন দেখিয়ে লতা ও স্বর্ণা হিজড়া বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতো। হঠাৎ একদিন আমাকে মদনে স্বর্ণা হিজড়ার বাসায় নিয়ে যায়। সকালে জ্ঞান ফিরলে দেখতে পাই আমাদের গোপনাঙ্গ কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নাক ও কান ফোড়ানো হয়েছে তারপর আমার পরিবার আমাকে বের করে দিলে আমি বারহাট্টার নয়নের কাছে এসে আশ্রয় নেই। এখানে এসেও শান্তি নাই আমাকে বাধ্য করা হচ্ছে চাঁদাবাজির জন্য। আমি চাঁদাবাজি করতে চাই না। আমি শান্তিতে বাঁচতে চাই।

জোরপূর্বক পুরুষাঙ্গ ও অন্ডকোষ কেটে হিজড়ায় রুপান্তরের বিষয়ে জানতে নেত্রকোনা জেলার প্রধান হিজড়ার দায়িত্বে থাকা লতার মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করলেও রিসিভ করেনি। পুরুষাঙ্গ কাটার মত ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন নিজ হাতে করা স্বর্ণা হিজড়ার ফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক শুনেই ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কামরুল হাসান জানান, পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়ায় রুপান্তর করা হয়েছে এমন কেন অভিযোগ আসেনি। আসলে তদন্তপূর্বক এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর জোরপূর্বক চাঁদাবাজি করানো হচ্ছে এই বিষয়টা নিয়েও যদি ওরা অভিযোগ করে আমরা সততা থাকলে ব্যবস্থা নিব।