ঢাকা ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
শিরোনামঃ
৯ মাসের শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা.করলেন ছাত্রলীগ সভাপতির স্ত্রী তানজিদের সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রামকে ১৭৫ রানের লক্ষ্য দিল রাজশাহী ‎আজমিরীগঞ্জে শতাধিক মন্দিরে শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত বড়লেখায় পতিত জমিতে সরিষার সমাহার, কৃষকের মুখে হাসি দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের ঘোষণা জামায়াত আমিরের ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলেন শেখ মনজুরুল হক রাহাদ টঙ্গীতে মাদক ও অস্ত্রসহ আটক ৩৫ মানুষ পরিবর্তন চায়, শান্তিতে থাকতে চায়: তারেক রহমান ৪৮তম বিসিএস থেকে ৩২৬৩ জনকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ধর্ম ও বর্ণভেদে নয়-বাংলাদেশ সকল মানুষের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি : প্রধান উপদেষ্টা

জলঢাকায় পানি শুন্য তিস্তা নদী, ধুধু বালু চরে ফলছে বিভিন্ন ফসল

#
news image

নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার তিস্তা ও বুড়ি তিস্তা নদী এক সময় ছিল প্রমত্ত ও প্রাণবন্ত। বর্ষাকালে উজান থেকে নেমে আসা স্রোতের কারণে নদী ফুলে ফেপে উঠলেও শীতকালে পানির অভাবে নদী যেন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

ভারতের একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণের কারণে তিস্তা নদী বাংলাদেশ অংশে প্রায় মৃত হয়ে পড়েছে। এর ফলে, তিস্তা অববাহিকায় জীববৈচিত্রও হুমকির মুখে পড়েছে।একসময় নদীতে যারা জীবনধারণ করতেন জেলে, মাঝি-মোল্লারা। তাদের জীবিকা এখন বিপর্যস্ত। তিস্তার পানি সঙ্কটের কারণে থেমে গেছে তাদের কর্মচাঞ্চল্য।

নদীটির নাব্যতা হারিয়ে অকার্যকর হয়ে পড়েছে তিস্তা সেচ প্রকল্প ব্যারাজ, যা ছিল দেশের বৃহত্তম সেচ ব্যবস্থাপনার অন্যতম কেন্দ্র। ফলে, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি না থাকার কারণে স্থানীয় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।১৯৪৭-৪৮ সালে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধার জন্য তিস্তা নদীর উপরে শুরু হয় ‘বুড়ি তিস্তা ব্যারাজ সেচ ক্যানেল প্রকল্প’, যাতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে সেচ সুবিধা প্রদান করা হত। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে তিস্তা নদীর উপরে ৫৯টি গেট দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প স্থাপন করা হয়। কিন্তু ১৯৯৮-৯৯ সাল থেকে সেচের জন্য খনন করা খাল ও নালাগুলো পানির অভাবে কার্যকর হয়নি, যার ফলে তিস্তার চরে এখন বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ চলছে।

এদিকে, পানি সঙ্কটের কারণে তিস্তা ব্যারেজের গেট বন্ধ করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় সেচ ক্যানেলে পানি দেওয়া হলেও পুরো প্রকল্প কার্যকর হয়নি। নদীতে এখন মাইলের পর মাইল জেগে উঠেছে চর। যেখানে কৃষকরা ফলাচ্ছেন ভুট্টা, তামাক, আলু, কুমড়া, সরিষা, পিয়াজসহ বিভিন্ন ফসল।স্থানীয় কৃষক গোলমুন্ডা বড়বাধ এলাকার রাজ্জাক জানান, নদীতে বালু জমে ভরাট হওয়ায় এবং রিজার্ভারে পানি না থাকায় নদীটি এখন শুকিয়ে ধুধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মশিয়ার রহমান বলেন, নদী রক্ষা এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম হলেও এখানকার সমস্যা নিয়ে কেউ ভাবছে না।জলঢাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, তিস্তা নদী খনন করা হলে পতিত জমিতে সেচ প্রদান সম্ভব হবে যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করবে।এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকরা তিস্তা নদীর পানির অভাব এবং সেচ সুবিধা না পাওয়ার কারণে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে তারা আশা করছেন দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মশিয়ার রহমান, নীলফামারী :

২৬ জানুয়ারি, ২০২৫,  3:08 PM

news image

নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার তিস্তা ও বুড়ি তিস্তা নদী এক সময় ছিল প্রমত্ত ও প্রাণবন্ত। বর্ষাকালে উজান থেকে নেমে আসা স্রোতের কারণে নদী ফুলে ফেপে উঠলেও শীতকালে পানির অভাবে নদী যেন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

ভারতের একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণের কারণে তিস্তা নদী বাংলাদেশ অংশে প্রায় মৃত হয়ে পড়েছে। এর ফলে, তিস্তা অববাহিকায় জীববৈচিত্রও হুমকির মুখে পড়েছে।একসময় নদীতে যারা জীবনধারণ করতেন জেলে, মাঝি-মোল্লারা। তাদের জীবিকা এখন বিপর্যস্ত। তিস্তার পানি সঙ্কটের কারণে থেমে গেছে তাদের কর্মচাঞ্চল্য।

নদীটির নাব্যতা হারিয়ে অকার্যকর হয়ে পড়েছে তিস্তা সেচ প্রকল্প ব্যারাজ, যা ছিল দেশের বৃহত্তম সেচ ব্যবস্থাপনার অন্যতম কেন্দ্র। ফলে, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি না থাকার কারণে স্থানীয় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।১৯৪৭-৪৮ সালে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধার জন্য তিস্তা নদীর উপরে শুরু হয় ‘বুড়ি তিস্তা ব্যারাজ সেচ ক্যানেল প্রকল্প’, যাতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে সেচ সুবিধা প্রদান করা হত। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে তিস্তা নদীর উপরে ৫৯টি গেট দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প স্থাপন করা হয়। কিন্তু ১৯৯৮-৯৯ সাল থেকে সেচের জন্য খনন করা খাল ও নালাগুলো পানির অভাবে কার্যকর হয়নি, যার ফলে তিস্তার চরে এখন বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ চলছে।

এদিকে, পানি সঙ্কটের কারণে তিস্তা ব্যারেজের গেট বন্ধ করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় সেচ ক্যানেলে পানি দেওয়া হলেও পুরো প্রকল্প কার্যকর হয়নি। নদীতে এখন মাইলের পর মাইল জেগে উঠেছে চর। যেখানে কৃষকরা ফলাচ্ছেন ভুট্টা, তামাক, আলু, কুমড়া, সরিষা, পিয়াজসহ বিভিন্ন ফসল।স্থানীয় কৃষক গোলমুন্ডা বড়বাধ এলাকার রাজ্জাক জানান, নদীতে বালু জমে ভরাট হওয়ায় এবং রিজার্ভারে পানি না থাকায় নদীটি এখন শুকিয়ে ধুধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মশিয়ার রহমান বলেন, নদী রক্ষা এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম হলেও এখানকার সমস্যা নিয়ে কেউ ভাবছে না।জলঢাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, তিস্তা নদী খনন করা হলে পতিত জমিতে সেচ প্রদান সম্ভব হবে যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করবে।এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকরা তিস্তা নদীর পানির অভাব এবং সেচ সুবিধা না পাওয়ার কারণে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে তারা আশা করছেন দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।