ঢাকা ০৫ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতার সীমা নির্ধারণে গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গের প্রতি আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর নোয়াখালী সদরে ৫ মাদকসেবীর কারাদণ্ড জমকালো আয়োজনে ফটিকছড়ি প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল ঈদে যাত্রী সেবার  মান বাড়াতে ১১২টি কোচ যুক্ত করা হচ্ছে রেলে ডেটা চার্জ ছাড়াই ইমোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন বাংলালিংকের গ্রাহকেরা 'চরপার্বতীতে পানের বরজ ভাঙচুরের অভিযোগ প্রশ্নবিদ্ধ' বড়লেখায় অবৈধ  বালু উত্তোলন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নোয়াখালীর সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার বিচার কবে ? কয়রা উপজেলাতে কাবিটা প্রকল্পে দুর্নীতি, তিন লাখ টাকার কাজে ব্যয় মাত্র ৪০ হাজার

চট্টগ্রামে আটক সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে নিয়ে পুলিশের সচেতনতামূলক মাইকিং

#
news image

আমার স্বামী কি কোরবানীর গরু, কোনো জায়গায় কি নজির আছে, একজন রিমান্ডের আসামিকে গরুর মতো রশি বেঁধে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করার ? জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতেছে ওসি আরিফ। আমার স্বামী কি কোরবানীর গরু ? আমার স্বামীকে এভাবে নিয়ে মাইকিং করতেছে! এগুলো মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং অপমানজনক ফেসবুক লাইভে এসে এমন প্রশ্নবিদ্ধ বক্তব্য দিলেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ ভিডিও বার্তায় এ প্রশ্ন রাখেন তামান্না।
গত ৬ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার কদলপুর এবং ৭ এপ্রিল নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকায় সাজ্জাদকে হাতকড়া পেরিয়ে, গায়ে ভেস্ট ও মাথায় হেলমেট দিয়ে ‘সচেতনতামূলক’ মাইকিং করে পুলিশ। এ ঘটনার একটি ভিডিওতে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মাইকিং করে পুলিশ বলছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চট্টগ্রামের ত্রাস ছোট সাজ্জাদকে সিএমপি কমিশনার স্যারের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাষ্ট্রের কাছে কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না। আপনাদের এলাকায় যদি কোনো সন্ত্রাসী মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তাহলে ছোট সাজ্জাদের মতো তাদের পরিণতি হবে।
মুহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি। এরপরই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে লাইভে এসে দুই মিনিটের এক ভিডিও বার্তা দেন ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না। তামান্না বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, আমাকে সবাই চিনেন আমি সাজ্জাদ বউ তামান্না। কোনো জায়গায় কি নজির আছে একজন রিমান্ডের আসামিকে গরুর মতো রশি বেঁধে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করার ? জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতেছে ওসি আরিফ। আমার স্বামী কি কোরবানের গরু ? আমার স্বামীকে এভাবে নিয়ে মাইকিং করতেছে কেন ?
তিনি আরও বলেন, আসলে সাজ্জাদের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড নাই, ওর জন্য কথা বলার কেউ নাইতো ; আমিও মেয়ে মানুষ দুই তিনটা মামলা দিয়ে বসে আছে। এখন আমি আপনাদের ওপর ছেড়ে দিছি। আপনাদের কি মনে হয়, এটা কি মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে না ? আমার স্বামীকে এভাবে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে এলাকায় এলাকায় নিয়ে গিয়ে অপমানি করা হচ্ছে কেন ? আমি আপনাদের কাছে এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম। ভিডিও বার্তায় তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী যদি অপরাধী হয় তার বিচার আদালত করবে। ওসি আরিফ আমার স্বামীকে গ্রেফতার করে নাই। আমার স্বামীকে সূচি গ্রেফতার করিয়েছে এটা আমি বারবার বলেছি। বসুন্ধরা সিটিতে আমরা ঘুরতে গেছি, ওই অবস্থায় সূচি আমার স্বামীকে দেখে সিকিউরিটি রুমে নেওয়ার তিন ঘণ্টা পর পুলিশ আমাকে ও আমার স্বামীকে গ্রেফতার করে। আমি পরে ছুটে আসি। আমার স্বামী যখন ‘তামান্না তামান্না’ বলে চিৎকার করছিলো, তখন আমার মোবাইল হারিয়ে যাওয়ায় পাঁচ মিনিটের জন্য নিচে নামছিলাম। একসাথেই গ্রেফতার হয়েছি। ওসি আরিফ বা সিএমপির কমিশনার আমার স্বামীকে গ্রেফতার করে নাই। কিন্তু ওরা সিম্পেথি নেওয়ার জন্য আমার স্বামীকে রাস্তায় নামিয়েছে। আমার স্বামীকে গুলি করে মারতে পারতেছে না।
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ ১৫টি মামলাও রয়েছে। সে নগরীর বায়োজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফেসবুক লাইভে এসে পেটানোর হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর গত ২৯ জানুয়ারী তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেন নগর পুলিশ কমিশনার। গত ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং মল থেকে সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেন লোকজন। সাজ্জাদকে গ্রেফতারের পর গত ৩০ মার্চ নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে ব্রাশফায়ার করে দু’জনকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনা সাজ্জাদের অনুসারীরা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের একজন বখতিয়ার হোসেনের মা ফিরোজা বেগম বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় সাজ্জাদ ও তামান্না শারমিনসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য পাঁচ আসামি হলেন, মো. হাছান, মোবারক হোসেন, মো. খোরশেদ, মো. রায়হান ও মো. বোরহান। এছাড়া ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর বিকালে চান্দগাঁও থানার অদুরপাড়া এলাকায় দোকানে বসে চা পানের সময় তাহসীন নামে এক ইট ও বালু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঐ ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় তাহসিনের বাবার করা মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ। সেই হত্যা মামলায় ৬ এপ্রিল সাজ্জাদকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ঃ

০৯ এপ্রিল, ২০২৫,  6:31 PM

news image

আমার স্বামী কি কোরবানীর গরু, কোনো জায়গায় কি নজির আছে, একজন রিমান্ডের আসামিকে গরুর মতো রশি বেঁধে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করার ? জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতেছে ওসি আরিফ। আমার স্বামী কি কোরবানীর গরু ? আমার স্বামীকে এভাবে নিয়ে মাইকিং করতেছে! এগুলো মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং অপমানজনক ফেসবুক লাইভে এসে এমন প্রশ্নবিদ্ধ বক্তব্য দিলেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ ভিডিও বার্তায় এ প্রশ্ন রাখেন তামান্না।
গত ৬ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার কদলপুর এবং ৭ এপ্রিল নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকায় সাজ্জাদকে হাতকড়া পেরিয়ে, গায়ে ভেস্ট ও মাথায় হেলমেট দিয়ে ‘সচেতনতামূলক’ মাইকিং করে পুলিশ। এ ঘটনার একটি ভিডিওতে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মাইকিং করে পুলিশ বলছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চট্টগ্রামের ত্রাস ছোট সাজ্জাদকে সিএমপি কমিশনার স্যারের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাষ্ট্রের কাছে কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না। আপনাদের এলাকায় যদি কোনো সন্ত্রাসী মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তাহলে ছোট সাজ্জাদের মতো তাদের পরিণতি হবে।
মুহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি। এরপরই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে লাইভে এসে দুই মিনিটের এক ভিডিও বার্তা দেন ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না। তামান্না বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, আমাকে সবাই চিনেন আমি সাজ্জাদ বউ তামান্না। কোনো জায়গায় কি নজির আছে একজন রিমান্ডের আসামিকে গরুর মতো রশি বেঁধে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করার ? জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতেছে ওসি আরিফ। আমার স্বামী কি কোরবানের গরু ? আমার স্বামীকে এভাবে নিয়ে মাইকিং করতেছে কেন ?
তিনি আরও বলেন, আসলে সাজ্জাদের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড নাই, ওর জন্য কথা বলার কেউ নাইতো ; আমিও মেয়ে মানুষ দুই তিনটা মামলা দিয়ে বসে আছে। এখন আমি আপনাদের ওপর ছেড়ে দিছি। আপনাদের কি মনে হয়, এটা কি মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে না ? আমার স্বামীকে এভাবে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে এলাকায় এলাকায় নিয়ে গিয়ে অপমানি করা হচ্ছে কেন ? আমি আপনাদের কাছে এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম। ভিডিও বার্তায় তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী যদি অপরাধী হয় তার বিচার আদালত করবে। ওসি আরিফ আমার স্বামীকে গ্রেফতার করে নাই। আমার স্বামীকে সূচি গ্রেফতার করিয়েছে এটা আমি বারবার বলেছি। বসুন্ধরা সিটিতে আমরা ঘুরতে গেছি, ওই অবস্থায় সূচি আমার স্বামীকে দেখে সিকিউরিটি রুমে নেওয়ার তিন ঘণ্টা পর পুলিশ আমাকে ও আমার স্বামীকে গ্রেফতার করে। আমি পরে ছুটে আসি। আমার স্বামী যখন ‘তামান্না তামান্না’ বলে চিৎকার করছিলো, তখন আমার মোবাইল হারিয়ে যাওয়ায় পাঁচ মিনিটের জন্য নিচে নামছিলাম। একসাথেই গ্রেফতার হয়েছি। ওসি আরিফ বা সিএমপির কমিশনার আমার স্বামীকে গ্রেফতার করে নাই। কিন্তু ওরা সিম্পেথি নেওয়ার জন্য আমার স্বামীকে রাস্তায় নামিয়েছে। আমার স্বামীকে গুলি করে মারতে পারতেছে না।
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ ১৫টি মামলাও রয়েছে। সে নগরীর বায়োজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফেসবুক লাইভে এসে পেটানোর হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর গত ২৯ জানুয়ারী তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেন নগর পুলিশ কমিশনার। গত ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং মল থেকে সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেন লোকজন। সাজ্জাদকে গ্রেফতারের পর গত ৩০ মার্চ নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে ব্রাশফায়ার করে দু’জনকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনা সাজ্জাদের অনুসারীরা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের একজন বখতিয়ার হোসেনের মা ফিরোজা বেগম বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় সাজ্জাদ ও তামান্না শারমিনসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য পাঁচ আসামি হলেন, মো. হাছান, মোবারক হোসেন, মো. খোরশেদ, মো. রায়হান ও মো. বোরহান। এছাড়া ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর বিকালে চান্দগাঁও থানার অদুরপাড়া এলাকায় দোকানে বসে চা পানের সময় তাহসীন নামে এক ইট ও বালু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঐ ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় তাহসিনের বাবার করা মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ। সেই হত্যা মামলায় ৬ এপ্রিল সাজ্জাদকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।